শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

সরকারি হাসপাতালে কমছে করোনা রোগী, তবে…

  • সময় সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেক্স

দেশে টানা এক মাস ধরে করোনা পরীক্ষার দৈনিক শনাক্তের হার ২ শতাংশের নিচে। এ কারণে সারাদেশের বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোয় সাধারণ শয্যা, আইসিইউ ও এইচডিইউ বেডের দুই তৃতীয়াংশই এখন ফাঁকা। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, হাসপাতালে করোনা রোগী কমে আসায় জেনারেল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোকে সাধারণ রোগীদের সেবার পরিধি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে যেকোনো মুহূর্তে করোনা চিকিৎসার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

শনিবার (২০ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি করোনা হাসপাতালের ৩ হাজার ৬৫৯টি সাধারণ আসনের মধ্যে ৩ হাজার ৩২৭টি আসন রোগীশূন্য। এই হাসপাতালগুলোতে ৩৮৮টি আইসিইউ আসনের মধ্যে ৩৩৬টিতে নেই কোনো রোগী। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪টি করোনা হাসপাতালে ৫৫৭টি সাধারণ আসনের মধ্যে ৫২৪টি আসনই ফাঁকা। এই ৪ হাসপাতালে ৩৩টি আইসিইউ আসনের মধ্যে ২৭টিতে নেই কোনো রোগী।

ডিএনসিসি করোনা আইসোলেশন সেন্টার

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের ৫৫৪টি সাধারণ শয্যার সব কয়টিই ফাঁকা। এই হাসপাতালে ২১২ টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ১৯২টিতে কোনো রোগী নেই। গত বছরের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতালটি ভবিষ্যতেও করোনার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখতে চায়। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দেখা গেছে, ২৭৪টি শয্যার মধ্যে ১৭১টিই ফাঁকা। এই হাসপাতালে ১০টি আইসিইউর মধ্যে ২টি ফাঁকা আছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয়ার জন্য লাইন ধরছেন সাধারণ রোগীরা। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের থেকে বেশি রোগী এখন বহিবির্ভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি অনেক রোগী ভর্তি হয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখানে করোনা রোগীর সংখ্যা খুব কম। এই হাসপাতালে ৬০৫টি শয্যার মধ্যে ৪৩২টিই ফাঁকা রয়েছে, ২০টি আইসিইউ’র মধ্যে রোগী আছে ১৮টিতে।

‘পক্ষপাতিত্বমূলক মেডিক্যাল রিপোর্টের কারণেই ধর্ষকরা খালাস পেয়ে
যান’‘
পক্ষপাতিত্বমূলক মেডিক্যাল রিপোর্টের কারণেই ধর্ষকরা খালাস পেয়ে যান’

ঢাকা মেডিক্যালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আলম সাংবাদিকদের বলেন, করোনা রোগীদের জন্য ডেডিকেটেডভাবে চালু করা হয় হাসপাতালের নতুন ভবন। সে সময় ভবনের একাধিক বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা খুবই কম। আর তাতে করে কয়েকটি বিভাগ নতুন করে চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া বাকি বিভাগগুলো চালু করার চেষ্টা চলছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে ৫৫১টি শয্যার মধ্যে ৫৩৬টি ফাঁকা রয়েছে। এই হাসপাতালে ৩৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ৩২টিই ফাঁকা। করোনার সময় বিভিন্ন ইউনিট বন্ধ থাকলেও সেগুলো এখন খুলে দেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমদ বলেন, করোনার সময় নন কোভিড চিকিৎসা কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় বর্তমানে করোনার থেকে নন-করোনা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এখন প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এদের মধ্যে ১৫০ জনের মতো করোনা রোগীম, বাকিরা নন-করোনা রোগী। এখন সব ধরনের অপারেশন হচ্ছে, সব ধরনের চিকিৎসা হচ্ছে। পাশাপাশি বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে, দেড় বছরের বেশি সময় পর গতকাল শনিবার প্রথমবারের মতো দেশে করোনাভাইরাসে কেউ মারা না গেলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ হাজার ৯৫৩ জনে। এছাড়াও নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯৯ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮ জনে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: