শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কি মুহিবুল্লাহ হত্যা কান্ড ?

  • সময় শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ শহীদুল্লাহ ( ক্রাইম নিউজ এডিটর )

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কি রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যা কান্ড ? এর অনুসন্ধানে কয়কটি বিষয় উঠে এসেছে। বিষয় গুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ হল মাস্টার মুহিবুল্লাহর চিন্তা ধারার সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদ্যমান সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলোর চিন্তা চেতনার ব্যাপক ফারাক রয়েছে। মাস্টার মুহিবুল্লাহর চিন্তা ধারা হল বাংলাদেশ সরকারের সাথে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক ভাবে রোহিঙ্গাদের সপক্ষে জনমত সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে নাগরিক অধিকার আদায়ের মাধ্যমে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করা। আর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলোর চিন্তাধারা হল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় উগ্র জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আইনশৃংখলা পরিস্থতি অস্থিতিশীল করে তুলা।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার কারণ যেমন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসা, আল ইয়াকিন সহ অন্যান্য সশস্ত্র গ্রুপ গুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও হতে পারে। আবার আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী  আন্তর্জাতিক কোন উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে মিলে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করতে পারে। নিহত মুহিবুল্লাহর ভাই মৌলভী হাবিব উল্লাহর বক্তব্যে তেমনই ধারণা করা যায়। তিনি এই হত্যা কান্ডে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসা এবং আল ইয়াকিনের জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, এশার নামাজের পর গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১খ্রীঃ (বুধবার) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরে এআরএসপিএইচের কার্যালয়ে বসে কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে গল্প করছিলেন মুহিবুল্লাহ এক পর্যায়ে মুখে গামছা পরিহিত একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি ছোড়ে তার শরীরে তিনটি গুলি লাগে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানা যায়।রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তায় থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোঃ নাঈম উল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে এপিবিএন এর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুহিবুল্লাহকে উদ্ধার করে কুতুপালং এর এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মুহিবুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ কয়েক লাখ রোহিঙ্গাদের উপস্থিতিতে যে পাঁচ দফা দাবী উপস্থাপন করেন তা হল,

১. রোহিঙ্গারা আরাকানের স্থানীয় আদিবাসী এবং সে জন্য তাদের ন্যাটিভ স্ট্যাটাস বা স্থানীয় মর্যাদা সংসদে আইন করে পুনর্বহাল করতে হবে যার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি থাকতে হবে।

২. নাগরিকত্ব:

প্রথমত, আরাকান রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ‘সিটিজেন কার্ড’ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও সিটিজেনশিপ কার্ড দিয়ে প্রত্যাবাসন করে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।

তৃতীয়ত, একই সাথে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় থাকা রোহিঙ্গাদের সিটিজেনশিপ কার্ড দিয়ে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।

৩. প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গাদের তাদের নিজস্ব গ্রামে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া জমিজমা যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দিতে হবে।

৪. নিরাপত্তা

আরাকানে রোহিঙ্গাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য রোহিঙ্গা পুলিশ বাহিনীর সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

৫. জবাবদিহিতা

বার্মার স্থানীয় আদালতের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির মতো কোনো ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচিত সংগঠনের নাম আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস।
মুহিবুল্লাহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের ৩২ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের নেতা  হিসেবে কাজ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১৭ টি দেশের যে সংখ্যালগু জাতী গোষ্ঠীর ২৭ প্রতিনিধি হিসাবে যারা সাক্ষাৎ করেছিলেন সেখানে নিপীড়িত অধিকার হারা রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসাবে মুহিবুল্লাহও ছিল।

দেশি বিদেশি এনজিওগুলো মুহিব্বুল্লাহকে সমীহ করতেন। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ মাত্র দু/তিন ঘন্টার নোটিশে লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের সমবেত করে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে জানা যায়, রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তারপর তিনি নিপীড়িত বঞ্চিত নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে বিংশ শতকের গোড়ার দিকে ১৫ জন সদস্য নিয়ে গড়ে তোলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানরাইটস’ বা এআরএসপিএইচ। তারপর স্থানীয় বাংলাদেশি মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সখ্যতা গড়ে তুলেন। তারপর থেকেই মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের অন্যতম একজন নেতা হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,

দেশের বাইরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করেন একাধিক বার সফর করেন রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ। কিন্তু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গার ঢল নামার পর পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে। মুহিবুল্লার অবস্থানের মূল উত্থান হয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ২০১৮ সালে ইউএনএইচসিআরকে সংযুক্ত করার পর। রোহিঙ্গাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা থেকেই মদদ পায় মুহিবুল্লাহর সংগঠন এআরএসপিএইচ। কারণ রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।

ইংরেজি ভাষা ও রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে দক্ষ মুহিবুল্লাহ ধীরে ধীরে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন বিদেশি এনজিও প্রতিনিধিদের । ২০১৮ সালের জুলাই মাসের দিকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী RAB  একবার মুহিবুল্লাহকে আটক করে উখিয়া থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে কোনো প্রকার রেকর্ড ছাড়াই তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর গত কয়েক বছরে জাতিসংঘ মহাসচিবসহ যত বিদেশি প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে মুহিবুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের সাক্ষাৎ করানো হয়েছে।

এই মুহিবুল্লাহই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১৭ দেশের যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭ প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করেন সেখানেও যোগ দেন মুহিবুল্লাহ।

 

বিভিন্ন সময় স্থানীয় রোহিঙ্গা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেন তা হল:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ক্যাম্পগুলোয় মুহিবুল্লাহবিরোধী অন্য একটি সশস্ত্র গ্রুপও সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু তারা সংখ্যায় কম, আর্থিকভাবে দুর্বল ও অস্ত্রশস্ত্রও তেমন নেই। এ কারণে মুহিবুল্লাহ গ্রুপের সমর্থিত ক্যাডাররা তাদের ‘কাফির’ বা বিশ্বাসঘাতক অভিহিত করে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩২ জন ‘মোনাফেক’ হত্যার শিকার হয়েছেন মুহিবুল্লাহ লালিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে।

নির্ভরযোগ্য সূূত্রের খবর, আরেক পক্ষ থেকে মোনাফেক দাবি করে হত্যার বাইরে আরও কমপক্ষে ১০ রোহিঙ্গা হত্যার শিকার হয়েছে প্রভাবশালী গ্রুপটির কথার অবাধ্য হওয়ায়। সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিক্ষিতদের তিনজন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে খুন হয়েছেন। তবে এটা গত বছরের (২০১৮ খ্রীঃ) ৫ নভেম্বরের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আগে।

এমনকি প্রভাবশালী গ্রুপটি নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে খুনের বাইরেও হুমকি-নির্যাতন চালায় হামেশায়। এমনকি বিদেশি এনজিগুলোর সাহায্য-সহযোগিতা বিতরণ প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা গোষ্ঠীটি ত্রাণও বন্ধ রাখে বিরোধিতাকারী পরিবারগুলোর।

মুহিবুল্লাহ বিরোধী ক্যাম্প ভিত্তিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের মাধ্যমে জানা  যায়, মুহিবুল্লাহ অত্যান্ত গোপনে তার সশস্ত্র গ্রুপটি পরিচালনা করলেও প্রকাশ্যে থাকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানরাইটস।

এখন কথা হল যে সময় মুহিবুল্লাহ তার এআরএসপিএইচ অফিসে বসে সতীর্থদের সাথে আলাপআলোচনা করতে ছিল তখন পাঁচ জন মুখোস পরিহিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী মুহিবুল্লাহর উপর হামলা করে। পাঁচ রাউন্ড গুলির মধ্যে মুহিবুল্লাহর বাম বুকে তিনটি গুলিবিদ্ধ হয় নিশ্চয় বাকি দুই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। লক্ষ্য ভ্রষ্ট গুলি গুলো কোথায় লেগেছে? সন্ত্রাসীরা মুহিবুল্লাহর উপস্থিত সতীর্থদের টার্গেট করল না কেন? মুহিবুল্লাহর কোন সঙ্গী এতে আহত হলনা কেন? মুহিবুল্লাহর রোহিঙ্গা সংগঠন এআরএসপিএইচের ১৫ সদস্যদের মধ্যে মুহিবুল্লাহর কোন দ্বন্দ্ব ছিল কিনা?  সন্ত্রাসীরা মুহিবুল্লাহ বিরোধী গ্রুপ হলে মুখোশ পড়ার কারণ কি? নিশ্চয় মুখোশ পড়াদের মাঝে কেউনা কেউ মুহিবুল্লাহর কাছের জন ছিল। মুহিবুল্লাহ সবেমাত্র এশার নামাজ আদায় করে এসেই তার অফিসে বসেছিল। তার অফিসে বসার ইনফরমেশন মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের কাছে নিশ্চয় কেউ না কেউ পৌছিয়েছে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যা কান্ড সংঘটিত করা হয়েছে কিনা? বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আন্তর্জাতিক কোন জঙ্গি গোষ্ঠীও এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করতে পারে।  রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসা, আল ইয়াকিন সহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমানে ১০/১২ টি সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় রয়েছে বলে খবর রয়েছে। এই সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে মুহিবুল্লাহর এআরএসপিএইচের দ্বন্দ্ব ছিল কিনা?

আপাত দৃষ্টিতে সব কিছু মিলিয়ে দেখা যায় রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যা কান্ডের নেপথ্যে অভিযোগের তীর যতইনা মুহিবুল্লাহ বিরোধী গ্রুপের দিকে,তার চেয়ে বেশী মুহিবুল্লাহর লালিত সশস্ত্র গ্রুপের দিকে অভিযোগের তীরটি ঝুকে রয়েছে বলে মনে হয়। মুহিবুল্লাহ হত্যা কান্ডে যারাই জড়িত থাকুকনা কেন এর রহস্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই উদঘাটন করতে হবে সুতরাং কথায় বলে, যারা বেশী সন্দেহহীন তাদেরকেই মুল টার্গেট করে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। এটা ধরে এগিয়ে গেলেই হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন হবেই হবে এতে কোন সন্দেহ নেই বলে মনে করেন বিজ্ঞ জনেরা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: