মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

খরুলিয়ার নয়াপাড়া-ডেইঙ্গাপাড়ায় ইয়াবা বিক্রির লাইসেন্স দেন ছৈয়দনূর মেম্বার!

  • সময় বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩২৮ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্ট::
রামুর উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে মাদকে। নতুন পুরোনো মিলিয়ে রয়েছে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী। এদের প্রত্যেকে খুচরা কিংবা পাইকারি পদ্ধতিতে ইয়াবা পাচার করে থাকেন। কার্যত পরিস্থিতি এমন যে- ওই এলাকায় ইয়াবা যেনো আর দশটি সাধারণ ব্যবসাপন্য। চাকমারকুলে ইয়াবা পাচার বেড়ে যাবার পেছনে জড়িত রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কতিপয় মুখোশধারী গডফাদার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- চাকমারকুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছৈয়দনূরের ইন্ধনে এসব কারবার বাড়ছে। উক্ত এলাকায় তিনিই মাদক ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দাতার ভূমিকা পালন করছেন। এক কথায় চাকমারকুল ও পাশ্ববর্তী ঝিলংজার সীমান্ত এলাকায় পান থেকে কেউ চুন খসলেও মাসোয়ারা দিতে হয় ছৈয়দনূর মেম্বারকে। স্থানীয় একাধিকসূত্র জানিয়েছে- এলাকার শতাধিক ছোটো বড় ইয়াবা কারবারী এখন ছৈয়দনূর মেম্বারের নেতৃত্বে ব্যবসা করে থাকে। তারা প্রত্যেকেই ছৈয়দনূরকে প্রতিমাসে মোটাদাগে মাশোয়ারা দিয়ে যার যার ব্যবসা চালু রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে- ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ তাকে মাশোয়ারা দিতে অস্বীকৃত জ্ঞাপন করলে তাকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি, মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া সহ নানা ভাবে হয়রানি করে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- চাকমারকুল ৯নং ওয়ার্ডের মৃত মোহাম্মদ আবু সিকদারের পুত্র সাবেক মেম্বার ভুট্টো মারা যাবার পর এলাকার লোকজন তাকে দয়াপরবশ হয়ে এইনিয়ে দুইবার মেম্বার নির্বাচিত করেন। প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে তেমন উশৃঙ্খল আচরণ না করলেও পরেরবার বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন ছৈয়দনূর। মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-পশ্রয়, নারী কেলেঙ্কারি, থানার দালালি সহ নানা অনিয়মে জড়িত হয়ে পড়েন। মেম্বার নির্বাচিত হবার আগেও ছৈয়দনূরের নামে একাধিক ডাকাতি ও ডাকাতি প্রস্তুতির অভিযোগ ছিলো বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন। এমনি গভীর রাতে এক নরীর ঘরে ঢুকে যৌন হয়নির অভিযোগে গ্রামবাসী ধাওয়া করে বাঁকখালী নদীতে ফেলে বেদড়ক গণ পিটুনি দেয় তাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান- ঝিলংজার সীমান্তবর্তী গ্রাম খরুলিয়া ডেইঙ্গাপাড়া ও নয়াপাড়া এলাকার দুর্ধর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী মৃত মোস্তফার ছেলে সাইদুল (সাইদ্দ্যা), শামসুল প্রকাশ পকেটমার আলমের পুত্র এরশাদ উল্লাহ, ফজলের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন ও আফলাতুন, আব্দুল খালেকের ছেলে বাদশা, মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে সালাম মিয়া, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আব্দুল খালেক, মোহাম্মদ শফির ছেলে রাহামত উল্লাহ, সইসোনার মেয়ে বাবুনি প্রকাশ বাবুজ্জ্যানি, মৃত রশিদ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ কামালসহ শতাধিক তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ছৈয়দনূর মেম্বারকে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা। এরা প্রত্যেকে এলাকায় দাম্ভিকতার সাথে অহংকার করে বলে আমরা ছৈয়দনূর মেম্বারের মাধ্যমে থানার ওসিসহ পুলিশ সুপার ম্যানেজ করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি, কেউ আমাদের কিচ্ছু করতে পারবেনা। তিনিই প্রশাসনসহ আমাদের সবকিছু দেখভালের দায়ীত্ব নিয়েছেন। কোন কিছু হলে তিনি সবকিছু দেখবেন তাতে আমাদের কোন মাথাব্যথা নেই।

ছৈয়দনূর মেম্বারের নারী কেলেঙ্কারি, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির চেষ্টা ও অবৈধ আয়ের উৎস নিয়ে আগামী পর্ব দেখতে চোখ রাখুন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: