রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

ধর্ষণের স্বীকার কিশোরী এখন অন্তঃস্বত্বা

  • সময় শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীর বাঘায় ধর্ষনের স্বীকার হওয়া এক কিশোরী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃস্বত্বা। জানা গেছে বিয়ের ১৫ দিন পর। এ ঘটনায় শনিবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভূগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বাঘা থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে,৬ মাস পূর্বে এই কিশোরীকে উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামের মাঠে ধর্ষণ করা হয়েছিল ।
ভুক্তভোগী কিশোরী (১৬) সাংবাদিকদের জানায়, “আমার বাবা ভ্যান চালক, আমরা গরিব অসহায়, তাই বাড়ির পূর্বপার্শ্বে মাঠে নিয়মিত ছাগল চরাতে ও খড়ি কুড়াতে যাই। ঘটনার ঐদিন (আনুমানিক ৬ মাস আগে) আমি মাঠে খড়ি কুড়াতে গিয়েছিলাম। তখন সোহেল আমাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক একটি গ্যামা ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। সোহেল একই গ্রামের মকবুলের ছেলে। আমি কান্না করলে সে আমাকে ভয় ভীতি দেখায় এবং এই বিষয়ে কাউকে কিছু বললে মারধরের হুমকি দেয়। তাই আমি ভয়ে আর কাউকে কিছু বলতে পারিনি ।”

ঐ কিশোরীর মা জানান, “গত ১৪ই জুলাই আমার মেয়েকে অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছিলাম। তখন নতুন জামাই আমাদের জানায় মেয়ে অসুস্থ ডাক্তার দেখান। পরে বাঘাতে পৌর এলাকায় অবস্থিত সেবা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে দেখা যায় রিপোর্টে আমার মেয়ে ৬ মাস ৯ দিনের গর্ভবতী।

কিশোরীর বাবা বলেন, “গরিব মানুষ বলে কারও কাছে বিচার পাইনি। ওরা আমাদের পরিবারকে সব সময় মারধরের হুমকি দিয়েছে , বাড়ি থেকে বাহির হতে পারছি না। স্থানীয় মেম্বার এর কাছে  গিয়েও কোনো বিচার পাইনি। চেয়ারম্যান ও করোনার জন্য বিচার শালিসে আসতে পারবে না বলেছে। তাহলে কি আমরা কোনো বিচার পাব না? বাধ্য হয়ে শনিবার ৩১ জুলাই ২০২১ থানায় মামলা করি।”
এ বিষয়ে মনিগ্রাম ইউপি সদস্য মতিন বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি জানি। ঘটনাটি জটিল হওয়ায় ভুক্তভোগীদের থানায় যেতে বলেছি।
মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগী মেয়ের মায়ের মুখে শুনেছি। একে-তো করোনা তারওপর বিষয়টি জটিল হওয়ায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
এ ঘটনায় মামলার আসামী সোহেলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন। তবে তার পরিবার জানিয়েছেন, “তাদের ছেলে এমন জঘণ্য কাজ করতেই পারে না।”
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আসামী কে আটকের চেষ্টা চলছে।
ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওসিসি তে পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: