শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

উখিয়ার সোনারপাড়ায় ওয়ারিশী সম্পত্ত্বি নিয়ে দুই স্ত্রীর দু’পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

বেলাল আজাদ,কক্সবাজার:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া এলাকায় প্রয়াত স্বামীর জীবদ্দশায় রেখে যাওয়া ওয়ারিশী সম্পত্ত্বি নিয়ে ২ স্ত্রীর দু’পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে উঠছে। উভয়পক্ষে ইতিমধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছেন এবং ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে দুই পক্ষ’কে। দুইপক্ষের চলমান বিরোধে যে কোন সময়ে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সহ যে কোন অপরীক্ষিত ঘটার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। তবে বিরোধীয় বিষয়টি স্থানীয় ভাবে আপোষ-মীমাংশার প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সোনারপাড়া এলাকার মৃত আলী আহমদের .ছেলে মৃত আবদুস ছালাম জীবদ্দশায় দু`টি বিবাহ করেন। গত ২০১৮ সালে আবদুস ছালাম মৃত্যুকালে ১ম স্ত্রী জুহুরা খাতুন (৫০) এর ঘরে ১ পূত্র ৪ কন্যা সহ ৬ জন এবং ২য় স্ত্রী তছলিমা বেগম (৩৮) এর ঘরে ১ পূত্র ২ কন্যা সহ ৪ জন মিলে সর্বমোট ১০ জন ওয়ারিশ রেখে যান। উক্ত মৃত আবদুস ছালামের রেখে যাওয়া জমিসহ ৪ তলার একটি দালানে তার ওয়ারিশ ২ স্ত্রী তাদের সন্তানদের নিয়ে পৃথক ভাবে বসবাসের পাশাপাশি একই দালানের অবশিষ্ট অংশে এনজিও অফিস, দোকান ও ফ্যামিলিঘর ভাড়া দিয়ে ভোগ দখলে আছেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পরে স্বামীর রেখে যাওয়া ৪ তলার দালানটির বিভিন্ন অংশের ভোগ-দখল নিয়ে উভয় স্ত্রীর মধ্যে গত বছর খানেক ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরমধ্যে গত কয়েক মাস ধরে
২য় স্ত্রী তছলিমা আক্তারের ঘরে একই এলাকার জনৈক শামসুল আলমের ছেলে আইয়ূব আলী (২৭) নামের এক ব্যক্তির অকারণে আনাগোনা বেড়ে গেলে ১ম স্ত্রী জুহুরা খাতুন ও তার সন্তানেরা সহ এলাকার কিছু মানুষ ২য় স্ত্রী তছলিমা আক্তারের সাথে আইয়ূব আলী পরকীয়া ও অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের গুঞ্জন তুলে। এতে দুই সতীনের দু`পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে উঠে। সর্বশেষ গত ৪ জুন রাতে দু`পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলে, এতে উভয়পক্ষে ৬/৭ জনের মত গুরুত্বর আহত এবং উখিয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা রুজু হয়। ইতিমধ্যে ২য় স্ত্রী তছলিমা বেগম বাদী হয়ে দায়ের করা একটি (উখিয়া থানার মামলা নং-১৪, তাং-০৫/ ০৫/০৬/২০২১ ইং, জি.আর মামলা নং-৪২৩/২০২১, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৮০/৫০৬ দন্ডবিধি) মামলায় আসামী হওয়া ১ম স্ত্রী জুহুরা খাতুন ও তার সন্তান-স্বজন মিলে ৮ জন আসামী গত ৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে মুক্তিলাভ করে। এদিকে এলাকাবাসী বলছেন,  দিন দিন উভয়পক্ষের বিরোধ আরও সহিংস মানসিকতায় বেড়েই চলেছে। উভয় স্ত্রীর দুই পক্ষের মধ্যে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সহ বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহমদ সন্জুর মোরশেদ বলেন, ঘটনায় মামলা রুজুর পাশাপাশি এলাকায় পুলিশী নজরধারী ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রয়াত আব্দুস ছালামের জীবদ্দশায় ২ টি বিয়ে সূত্রে ২ স্ত্রী-সন্তানাদী নিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন কালে স্ত্রী-সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে  নিজের নামে জমি ক্রয় তাতে দালান কৌটা তৈরী করে রেখে গেলেও, তার ওয়ারিশ স্ত্রী-সন্তানেরা শান্তির বদলে অশান্তির সৃষ্টি করে চলেছে, এতে এলাকার শান্তি-শৃংখলা নষ্ট হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকার ও সচেতন মহলের কেউ কেউ  ‘এ জন্যই একাধিক বিয়ে করতে মানা, তাতে স্বজনদের মধ্যে হানাহানি ও সমাজের শৃংখলা নষ্ট হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্ত্বি থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো, সম্পত্ত্বিতে বিরোধ ও হানাহানির সৃষ্টি হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। এলাকাবাসী উভয়পক্ষের সহিংসতায় সংঘর্ষের পূনরাবৃত্তি অথবা কোন অপরীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে উদ্যোগে সমাজের জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন। অন্য দিকে বিরোধীয় দু’পক্ষের বিরোধ নিরসনে এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ সচেতন মহলের কয়েক জনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: