শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

দিল মোহাম্মদ এর পুরো পরিবারই যেনো অপরাধের আঁতুড়ঘর !

  • সময় রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ৪২৯ বার পড়া হয়েছে

ক্রাইম প্রতিবেদক;
দিল মোহাম্মদ রশিদা দম্পতি ২০০০ সালে অবৈধ ভাবে মায়ানমার থেকে পাড়ি দেয় বাংলাদেশে। টেকনাফ উপজেলায় স্থানীয় এক প্রভাবশালীর আশ্রয়ে বসবাস শুরু করে টেকনাফে।

দিল মোহাম্মদ এর তিন ছেলে তিন মেয়ে, বড় মেয়েকে মায়ানমারে রেখে; তিন ছেলে দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে আসে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এসে তাঁরা গড়ে তুলেছে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের মতো একটি মাদক চক্র।

টেকনাফে বছর দুয়েক থাকার পর দিল মোহাম্মদ বুঝতে পারে যে, টেকনাফে তাদের পরিবারকে সবাই রোহিঙ্গা হিসেবে চিনে তাই টেকনাফে থাকাটা তারা সুবিধের মনে করেনি। বাংলাদেশি নাগরিক হতে কৌশল হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয় কক্সবাজার চলে আসার। সপরিবারে চলে আসে কলাতলীর চন্দ্রিমায়। সেখানে একটি জায়গায় পাহারাদার হিসেবে বসবাস শুরু করে। এইখানেই তাদের ভাগ্যবদলের দিন শুরু।

সৈকত পাড়ে ফেরিকরে ঝিনুক বিক্রেতা দিল মোহাম্মদ এর ছেলে মেয়েরা এখন লাখ লাখ টাকার মালিক। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি ও দামী গাড়ি।

মায়ানমারে জেলে কাজ করে যে পরিবারে দুবেলা দুমুঠো খাবার জুটেনি সেই দিল মোহাম্মদ বাংলাদেশের নাগরিক হবার পর এখন প্রভাবশালী সৈাদি প্রবাসী।

অপরাধ চক্রটির মাস্টারমাইন্ড দিল মোহাম্মদ মায়ানমারে রেখে আসা তার বড় মেয়ের স্বামী সৌদি প্রবাসী। মেয়ে জামাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে বলে জানা যায়।

টাকার বিনিময়ে ২০০৯ সালে তৎকালীন ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান এর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে পাসপোর্ট বানিয়ে তার দুই শেলক মোঃ তাহের ও মোঃ শাহ কে সৌদি আরব নিয়ে যায়।

তার শালীকা ছৈয়দা (৩৮) এর স্বামী ঝিলংজা বাংলাবাজার এলাকার মোঃ ছৈয়দ (৪৫) তখন বেকার থাকায় তাকেও টাকা দিয়ে মালেশিয়া পাঠায় সে। উদ্দেশ্যে হলো বিভিন্ন দেশে হুন্ডি (মানি লন্ডারিং) ব‍্যবসার নেটওয়ার্ক সৃষ্টি
করা। বাংলাবাজারের ছৈয়দার শশুর বাড়ির আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে ২০১৩ সালে তৎকালীন ঝিলংজা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান জিকু’র সহযোগিতায় পাসপোর্ট করে দিল মোহাম্মদ ও তার স্ত্রী দুজনই পাড়ি জমায় সৌদি আরবে।

এই বিষয়ে জানার জন‍্য সাবেক চেয়ারম্যান জিকুর মোবাইলে একদিক বার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

দিল মোহাম্মদ এর একছেলে ও দুই মেয়ে ইদ্রিস, ছৈয়দা ও সাজেদা তিনজন রয়েগেছে বাংলাদেশে।
ইদ্রিস এখন সমাজের একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি, তার উঠা বসা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের কয়েকজন প্রথম সারির নেতার সাথে। কালোটাকায় ক্ষমতা তার আকাশচুম্বি।

স্থানীয় পরিচয় দিয়ে ইদ্রিস ২০০৪ সালে বিয়ে করেন ঝিলংজার পূর্ব লার পাড়া এলাকা হতে। পরে শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় ২০০৯ সালে টাকার বিনিময়ে সেও এখন জাতীয় পরিচয় পত্রধারী বাংলাদেশের নাগরিক।

কলাতলীর চন্দ্রীমায় পাহাড়ায় থাকা সেই জায়গাটি ছেড়ে শশুরবাড়িতে এসে বসবাস করতে শুরু করে এবং সৌদি ও মালেশিয়ারপ্রবাসী বোন জামাইদের পূর্ব পরিকল্পিত হুড়ি ( মানি লন্ডারিং) ব‍্যবসার হাল ধরে ইদ্রিস। বাংলাদেশ, মায়েনমার, মালেশিয়া,সিঙ্গাপুর এসব দেশে তাদের ব‍্যবসা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে তাদের ব্যবসা তুঙ্গে। মায়ানমারে থাকা বড় বোনকে নিয়ে আসে বাংলাদেশে। সে এখন উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের বি ও সি ব্লকে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব‍্যবসা দায়িত্বে রয়েছে বোন ছৈয়দা ও তার ছেলে হৃদয়।

আরেক বোন সাজেদা’র দুবার বিবাহ বিচ্ছেদের পর বোন ছৈয়দার সাথে থাকে ক্যাম্পে। মাদক, মানবপাচার এর টাকা লেনদেন করতে আসা লোকজনের তদারকি করে সে।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল এক মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ছৈয়দা ও তার ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ রফিক নামের ১ জনকে গ্রেফতার করে।

রফিক এর পিতা মৃত মোহাম্মদ হোসেন টেকনাফের মধ্যম গোদার বিল ০৬ নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা।
নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে অত্র এলাকার এক মুরুব্বি বলেন, রফিক এর আগেও কয়েকবার ঢাকাসহ বিভিন্ন যায়গায় আটক হয়েছিল। প্রত্যেকবারই ইদ্রিস আর ছৈয়দা মিলে রফিক কে জামিনে মুক্ত করে আনেন।

এই বিষয়ে রফিক এর স্ত্রী কাছে জানতে চাইলে, ইদ্রিস এর ছোট বোন সাজেদা পাশের ছৈয়দার বাড়ি থেকে এসে প্রতিবেদক কে সামনে কোন কথা না বলতে নিষেধ করে। পরে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যায়।

এই বিষয়ে ইদ্রিস এর কাছে মুটোফোনে জানতে চাইলে সে প্রথমে বিভ্রত ফোন কেটে দিয়ে পরে বলেন, এইগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে তার বড় বোনের ব্যাপারে যানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কোনো বড় বোন নেই।

কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার কাছে গত ২৭ এপ্রিল উদ্ধারকৃত ৭৫০০ পিস ইয়াবা মামলায় ইদ্রিস আর ছৈয়দা কে আসামী করা হবে কিনা জনতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার তদন্তকর্মকর্তার তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের আসামি করা হবে।

ছৈয়দা ও ইদ্রিসের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক প্রতিবেদন পেতে চোখ রাখুন দৈনিক আলোকিত উখিয়া পত্রিকায়।

সম্পর্কিত খবর:

ডিএনসি কক্সবাজারের অভিযানে ৭৫০০ পিচ ইয়াবাসহ আটক -১ জন, গডফাদার ইদ্রিস অধরা

রোহিঙ্গা ইদ্রিসের অবৈধ কর্মকাণ্ডের আশ্রয়দাতা যুবলীগ নেতা শুক্কুর!

রোহিঙ্গা ইদ্রিসের জন্য অবৈধ ভবন নির্মাণ করছে যুবলীগ নেতা শুক্কুর!

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: