শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে

  • সময় রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

তীব্র তাপদাহে নাকাল যশোরবাসী। রোববার (২৫ এপ্রিল) যশোরে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।দুপুর ২টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া দফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে তাপদাহের কারণে নেমেছে পানির স্তর। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।

যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া দফতরের তথ্য মতে গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপপ্রবাহ চলছে। সপ্তাহ জুড়ে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে বিরাজ করছে। শনিবারও (২৪ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ২টায় তা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে দাঁড়ায়। এ তাপপ্রবাহ আরো এ সপ্তাহ জুড়ে বিরাজ করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দফতরটির কর্মকর্তারা।

এদিকে তীব্র এ গরমে লকডাউনের মধ্যেও কাজের সন্ধানে ঘরের বাইরে এসেছেন শ্রমজীবী মানুষ।

শাহ আলম নামে এক পথচারী বলেন, আজ তিন-চার দিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এরপরও ঘরের বাইরে ছাতা নিয়ে এসেছি। বাইরে আসার পর গরমে ঘেমে গোসল হয়ে যাবার উপক্রম। একটু বৃষ্টি হলে স্বস্তি পেতাম।

সোবহান আলী নামে এক রিকশাচালক বলেন, গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। একজন প্যাসেঞ্জার নিয়ে নামিয়ে দিয়ে আর কাউকে রিকশায় উঠাতে মন চাচ্ছে না। তাই মাঝে মাঝে গাছতলায় বিশ্রাম নিয়ে ফের যাত্রী নিচ্ছি। দুপুর ২টা পর্যন্ত মাত্র দেড়শ’ টাকা আয় হয়েছে। আর রিকশা চালাতে পারব বলে মনে হচ্ছে না।

সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন হকার বলেন, রাস্তায় নেমেছি দু’টাকা আয়ের জন্য। কিন্তু গরমের কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বেচাকেনা করতে পারছি না। রোদের এত তাপ বলে বোঝাতে পারব না। খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

রিপন হোসেন নামে এক রেনু পোনা বিক্রয়কারী বলেন, গরমের কারণে হ্যাপা পুকুরে পানি রাখা যাচ্ছে না। স্যালোমেশিন দিয়ে পানি তুলে দিতে দিতে শুকিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে স্যালোমেশিনে পানিও উঠছে কম। পানির লেয়ার কমে যাওয়ায় এমনটা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর যশোর সদরের কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নূর ইসলাম বলেন, তীব্র তাপদাহের কারণে যশোরে পানির লেয়ার নেমে ৩৮ ফুটে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এছাড়া গভীর নলকূপগুলোতে পানি উঠছে পূর্বের তুলনায় কম।

তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট দেখা দেয়ায় ৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বারান্দীপাড়া শতদল স্কুল এলাকায় একটি, বারান্দীপাড়া মাঠপাড়ায় একটি, ঘোপ বাবলাতলা এলাকায় একটি, যশোর রেলস্টেশন এলাকায় একটি ও পালবাড়ি এলাকায় একটি।

রোববার (২৫ এপ্রিল) এ নলকূপগুলো স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নূর ইসলাম আরও বলেন, স্বাভাবিক সময় ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০ ফুটের গভীরতায় পানির লেয়ার থাকে। অন্যবছর খরা মৌসুমে স্তরটি নেমে ২৮ ফুট থেকে ৩০ ফুটে গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এ বছর পানির স্তর অনেক বেশি নেমে গেছে। বৃষ্টি হলে পানির স্তর উঠে আসবে এবং সমস্যার সমাধান হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: