শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

‘কাউন্সিলর খোরশেদকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার হুমকি’

  • সময় রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

তুলে নিয়ে বিয়ে করার হুমকি দেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আলোচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী সন্তানদেরও হত্যার হুমকি দিয়েছে এক নারী। শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসব কথা জানান মাকসুদুল আলম খন্দকার। এ সময় তার পাশে তার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনাকেও দেখা যায়।

গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে আক্রান্তদের চিকিৎসা ও মৃতদের দাফন কাজ এগিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিএনপিপন্থি কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। লাইভের শেষের দিকে তিনিও কথা বলেন এবং রাষ্ট্রের কাছে তার স্বামী ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

ফেসবুক লাইভে এসে কাউন্সিলর খোরশেদ জানান, সাইদা শিউলি নামের এক ভয়ংকর চরিত্রের নারী তাকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করছে। তার সঙ্গে প্রশাসন ও উচ্চ মহলের বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের চলাফেরা রয়েছে।

খোরশেদ জানান, ওই নারী একজন ব্যবসায়ী ও তিনবার বিয়ে করেছেন। ওই নারীর তিন সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এক মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে।

খোরশেদ বলেন, ‌‘আমি করোনার শুরু থেকেই করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিয়েছি ও সম্মুখে থেকে লডাই করে দাফন সৎকার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। একপর্যায়ে গত মে মাসে আমি ও আমার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হই। তখন অক্সিজেনের অভাবে আমার স্ত্রীকে একপর্যায়ে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়। তখন একটি সংবাদের নিচে ওই মহিলা কমেন্ট করে জানান যে, তিনি অক্সিজেন দিতে চান এবং আমার সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করে অক্সিজেন সিলিন্ডার দেন। তখন থেকেই তিনি আমার সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত হন এবং কথা বলা শুরু করেন।’

মাকসুদুল বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি বুঝতে পারি তার মতলব ভিন্ন। আমি তাকে তখন দূরে সরাতে চেষ্টা করি এবং বোঝাই। তার ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেকেও আমি ঘটনা জানাই, তখন সে আমাকে বলে তার মা হয়তো দুষ্টুমি করছে, এ রকম কিছু সম্ভব নয়। কাজ হবে না বুঝে আমি নভেম্বর-ডিসেম্বরে তার ভগ্নিপতিকে জানাই। এতে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হন এবং আমার পেছনে উঠেপড়ে লাগেন।’

খোরশেদ আরও বলেন, ‘সম্মানকে ভয় পাই বলেই এত দিন মুখ খুলিনি। আমি ধৈর্য ধরেছি। কারণ, আল্লাহ হয়তো একটি ফয়সালা করবেন। তবে দুদিন আগে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় দুটি পত্রিকায় আমাকে জড়িয়ে এ সংক্রান্ত নিউজ হওয়ায় আমি নিজেই বিষয়টি সবার কাছে বলতে এসেছি। আমার পাশে থাকার জন্য আমি সাংবাদিক, আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও প্রতিপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘২১ জানুয়ারির পর থেকে হোয়াটস অ্যাপে, ম্যাসেঞ্জারে, টেলিফোনে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং হত্যার হুমকি জানাচ্ছেন ওই মহিলা। আমার পরিবারের সবাইকে মারাত্মক মানসিক অত্যাচার করছেন। সর্বশেষ আমার স্ত্রী ও সন্তান নকিবকে তুলে নিয়ে হত্যা করবে বলেও হুমকি দেন। আমি এসব ঘটনায় শুরু থেকেই সরকারি সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং অবহিত করেছি। বিভিন্ন ঘটনা ঘটার পর পরই তাদের অবহিত করা হয়।’

খোরশেদ বলেন, ‘আমার বাড়ি একটি মরা বাড়ি হয়ে গেছে। একের পর এক লাশ দাফন করি। আবার আমার বাচ্চাদের থেকে এসব কারণে লুকিয়ে থাকতে হয়। ওদের জীবনের ভয়ে আছি আমি। আমার ছেলে মেয়ে আমার চিন্তায়, পারিবারিক অশান্তিতে অসুস্থ হয়ে গেছে। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই ঘটনার কারণ কি? আমি এসব থেকে মুক্তি চাই আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষকে ব্যবহার করে তিনি আমাদের জ্বালাতন করতেন। এত দিন কষ্ট সহ্য করেছি, আর পারছি না। অনেকে লজ্জায় আমার কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন না। আপনাদের কাছে এ ঘটনার বিচার চাই। সাংবাদিক ভাইরা লেখনী ও প্রচারণার মাধ্যমে আমাকে এ অবস্থা থেকে বাঁচান। আমি এ নির্যাতন থেকে মুক্তি চাই। আমি আমার পরিবারের কাছেও ক্ষমা চাই এসব ঘটনায়।’

খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের সচিবকে ফোন দিয়ে বলেছেন, আমাকে ও আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করবে। আমার সঙ্গে তার সব কথার রেকর্ড আছে। সাংবাদিকসহ যে কেউ চাইলে আমরা এসব রেকর্ডিং দেব। আমি আমার স্বামী ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই রাষ্ট্রের কাছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: