মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

ঈদগাঁওর বেপরোয়া হুন্ডি ব্যবসায়ী রবিউল প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে

  • সময় রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৬৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদর উপজেলা ঈদগাঁও থানার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বোয়ালখালী এলাকার শাহাব উদ্দীনের ছেলে রবিউল করিম প্রকাশ( ময়না)কে দেখলে চেনার উপায় নেই, বছর দুয়েক আগে জরাজীর্ণ পোশাকের সেই রবিউল।সে হুন্ডির ব্যবসা থেকে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়া রবিউল এখন অনেকটা বেপরোয়া। জানা যায়, রবিউল হুন্ডির ব্যবসা ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। হুন্ডির ব্যবসা করে কোটি কোটি কালো টাকার মালিক হয়েছে।ঈদগাঁওতে ব্যাপক হারে বেড়েছে হুন্ডি ব্যবসা, প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এসব বাণিজ্য। অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার কারণে কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।হুন্ডিকে দ্রুত টাকা লেনদেনের মাধ্যম মনে হলেও মূলত এটি দ্রুত প্রতারিত হওয়ার মাধ্যম। প্রতারিত হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে হুন্ডিতে যেসব লেনদেন সংগঠিত হয় তার কোনটিই বৈধ নয়। এই লেনদেনের নেই কোন আইনগত নিরাপত্তা। তারপরও দেশে বেপরোয়া ও একচেটিয়াভাবে চলছে এই টাকা লেনদেনের অবৈধ ব্যবসা। এ ব্যবসা দেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে দীর্ঘদিন থেকে। দ্রুত জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থের বিনিময় সহজ করার জন্যে হুন্ডি এখন দেশের আইনে একটি অবৈধ ব্যবসা। বর্তমানে অনেকে এ হুন্ডি ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতারণা ও নানা অপরাধের মাধ্যম। এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই এখানে সক্রিয় রয়েছে হুন্ডি চক্র। ঈদগাঁও বাজারে পন্য আমদানি-রপ্তানি বানিজ্য অসাধু হুন্ডি চক্র আর্থিক লেনদেন করে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংক হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার পর ঈদগাঁওতে নতুন কৌশলে চলছে জমজমাট হুন্ডি ব্যবসা। হুন্ডি ব্যবসায় শুধু রাষ্ট্রেরই আর্থিক ক্ষতি হয় না, বরং প্রতারিত হয় গ্রাহকরাও- এই উপলব্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জনসাধারণকে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন না করার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনাও জারি করেছে। কিন্তু এসব পরামর্শ ও ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা বিফলে যাচ্ছে। চোরাই পথে আনা গরুর মূল্য শোধ করা হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। ঘটনা ঘটছে এভাবে- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাংকিং চ্যানেল বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা সিন্ডিকেটের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ওই সিন্ডিকেট টাকা রেখে দিয়ে এর বিনিময়ে চোরাই পণ্য, বৈদেশিক মুদ্রা, মাদকদ্রব্য ইত্যাদিসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে গরুর দেনা শোধ করছে। আর এভাবেই পাচার হয়ে যাচ্ছে টাকা। হুন্ডি ব্যবসার বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। হুন্ডির মাধ্যমে কত টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, তার প্রকৃত হিসাব সরকারের কোনো সংস্থার কাছেই থাকে না। ফলে হুন্ডি ব্যবসা বন্ধে নিতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকা সাহাব উদ্দীন জানান, মাঝে মাঝে অনেকটা নিরুপায় হয়ে হুন্ডি টাকা পাঠাই। এখানে দেশীয় মানি এক্সচেঞ্জে গেলে নানা হয়রানি হত। অনেক সময় বলে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আপনার টাকা দেশে পৌঁছাতে সময় লাগবে। কিন্তু আমার জরুরি প্রয়োজনটা তারা (বিদেশের মানি এক্সচেঞ্জ) বুঝে না। কিছুদিন আগে বাবার অপারেশন হয়েছে চট্টগ্রামে৷ নিকটস্থ মানি এক্সচেঞ্জে এক লাখ টাকা পাঠাতে গেলে তারা বলে ট্রানজেকশন লিমিট আজকের জন্যে ওভার (দিনের নির্ধারিত লেনদেন শেষ)। কিন্তু আমার তখন জরুরিভাবে টাকা পাঠাতে হয়েছে। পরে হুন্ডিতে এক লাখ দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। যেখানে আমাকে অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। কিন্তু মানি এক্সচেঞ্জে আমি এই সেবাটা পেলে আমাকে অতিরিক্ত দশ হাজার টাকাও দিতে হতো না। সরকারও কিছু রাজস্ব পেত। আরেক প্রবাসী করিম আলী জানান, প্রবাসীরা অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে হুন্ডিতে টাকা পাঠায়। একবার হুন্ডিতে টাকা পাঠিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা হারিয়েছি। আর এক সৌদি প্রবাশী বলেন আমি মা-বাবার চিকিৎসা জন্য ৪ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে প্রতারণা করে আমার টাকা মেরে দিয়েছে হুন্ডি চক্র। টাকা পাঠাতে হুন্ডি কেন বেঁছে নিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে মানি এক্সচেঞ্জ বা ব্যাংক প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘ এই পথটা পাড়ি দেওয়া আমার জন্যে একটু কঠিন হয়ে পড়তো। অন্যদিকে মানি এক্সচেঞ্জের হয়রানি রয়েছেই। টাকার অঙ্ক একটু বেশি হলে মানি এক্সচেঞ্জগুলো মাঝে মাঝে এমন আচরণ করে। তখন নিজেদের মনে হয় চোর। প্রবাসী বাঙালিরা যেন এখানে চুরি করতে আসে। অথচ আমরা কতটা কষ্ট করে এখানে টাকা উপার্জন করি তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মত নয়। এছাড়া আরো কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যারা প্রবাসী থাকেন বিশেষ করে যারা অবৈধভাবে থাকেন তাদের টাকা পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম হুন্ডি। কারণ তারা সবসময় ভয়ে থাকেন কখন তাদের পুলিশ ধরে ফেলে। তাই তারা হুণ্ডিকেই বেছে নেন। অভিযুক্ত রবিউল করিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টা শিকার করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: