সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

টেকনাফের গহীন পাহাড়ি ঝর্ণার গতিপথ ফিরানোর চেষ্টা,ভোগান্তির আশঙ্কা ২ হাজার পরিবারের

  • সময় মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

আজিজ উল্লাহ,টেকনাফ:
টেকনাফের বাহারছড়ার জাহাজপুরা, হাজামপারা ও মাথাভাঙা এলাকায় পাহাড়ে পাদদেশে বসবাসরত প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বাহারছড়া-হ্নীলা ঢালার মাদারবনিয়া খালের ঝরণার পানির উপর নির্ভরশীল। মূলত সেখানকার মাটির নিচে থাকা শক্ত পাথর ভেদ করে পানির অবস্থান পাওয়া দুঃসাধ্য হওয়ায় লোকালয় থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার অদূরে গহীন পাহাড়ের ঝরণার পানিতে তাঁদের জীবনরক্ষা। এদিকে এ ঝর্ণার প্রবাহমান পানি একটা পাইপ দিয়ে লোকালয়ে আনতে প্রায় ১০হাজার মিটার পাইপ তথা ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। স্থানীয়রা জানান, এই পাহাড়ি খালে পানি সরবরাহের জন্য অন্তত ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের পাইপ রয়েছে। কিন্তু গত ১৪ এপ্রিল টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোসাইন আহমেদ এই ঝর্ণার পানি পানখালী- বটতলী এলাকায় নিয়ে যেতে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থার মাধ্যমে কোটি টাকা ব্যয়ে পানির গতিপথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করলে বাহারছড়ার সচেতন মহলের টনক নড়ে। বাহারছড়ার এলাকার বাসিন্দা ও এনজিও সংস্থা মোয়াসের কো-অর্ডিনেটর শহীদ উল্লাহ শহীদসহ বেশ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে প্রতিবাদ করে। এদিকে তারই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে প্রায় ১ ঘন্টা সময় ধরে হেঁটে গহীন পাহাড়ের ঐ ঝর্নায় গ্রাম্য চিকিৎসক মোহাম্মদ রফিকের নেতৃত্বে কয়েকজন সচেতন ব্যাক্তিবর্গসহ স্থানীয় দুয়েকজন সংবাদকর্মী মাদারবনিয়া ঝর্ণার উৎপত্তি স্থল ও প্রবাহের গতিপথ পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ রফিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঝর্ণার পানির প্রবাহ বাহারছড়ার দিকে প্রবাহিত রয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে এ জলধারায় পাইপ স্থাপন করে সুপীয় পানি সরবরাহ করে আসছেন স্থানীয় প্রায় ২ হাজার পরিবার। তাছাড়া, কয়েকশো সুপারি বাগান, পানের বরজ, তরমুজ ক্ষেত, মরিচ ক্ষেত সহ বিভিন্ন ক্ষেত খামারের প্রাণ মাদারবাড়ি খালের এ ঝরণার পানি। এই ঝর্ণার গতিপথে বাঁধ নির্মাণ কিংবা কোনভাবেই যাতে ঝরণাপ্রবাহ বাহারছড়ামুখী থেকে অন্যদিকে ঘুরানো না হয় তার জোর দাবি তুলেন স্থানীয় সচেতন মহল। পানখালী ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোসাইন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন যেহেতু বাহারছড়ার অনেক মানুষের অভিযোগ আছে তাই তা না করার চেষ্টা করা হবে বলে এবং অন্যত্র থেকে বা বিকল্প কোন উৎস থেকে পানখালী বটতলী এলাকার জন্য পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: