শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

একটি হাঁসের মুল্য =কয়টি কবিতরের মুল্য?

  • সময় মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

একটি হাঁসের দাম ১২ টাকা হলে একটি কবিতর এর দাম কত?পৃথিবীর যত বড় গনিত বিদ হোক বের করতে পারবে না যতক্ষণ না বলে দেওয়া হয় একটি হাঁসের মুল্য সমান দুইটি কবিতরের মুল্য।

অর্থাত তুলনা হয় এক জাতীয় ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যেই। এটাকে বলে ইংরেজীতে Gender বাংলায় লিঙ্গ সম্পর্কিত জ্ঞান।

অর্থাত ইঞ্জিনিয়ার বড় না ডাক্তার বড়?শিক্ষক বড় না পুলিশ সুপার বড় এই অংকের হিসাব মেলানো কঠিন হবে যদি উপরের জ্ঞান না থাকে।আর আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তৃতীয় / চতুর্থ শ্রেনীতে ই এই জ্ঞান পাঠ্য পুস্তকে আছে। যারা সাফল্যের সাথে এই শ্রেণী উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের জীবনে উপরের অংক নিয়ে সমস্যা হবে না ।সে গাড়িতে,বাড়ীতে,রাস্তাঘাটে,জলে,স্হলে বা আকাশে বা যেখানেই হোক!

নিজের কাছে তার প্রতিচ্ছবি ই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্হিরচিত্র ।নিজের চেহারা নিজের কাছে ভাল লাগে।নিজের বাবা মা ,ছেলে মেয়ে সবার কাছে প্রিয়।
এটি চিরদিন সত্য। আর এটা প্রমাণ করার দরকার নেই।বা বলার দরকার নেই আপনার ছেলে কালো ,আমার ছেলে ফরসা।
দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে বলতে নেই যে ,আপনি প্রথম হতে পারেন নি জন্য ই দ্বিতীয় হয়েছেন। বরং এটা বলা মানেই নিজের প্রথম হওয়ার অর্জন টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ,বিকৃত চিন্তার ক্রীড়াবিদের পরিচয় দেওয়া।

এক জন পুলিশ অফিসারের যোগ্যতা:
নির্ধারিত শারীরিক মাপের হতে হবে।দৌড়-ঝাফ,পিটি প্যারেড উপযোগী শরীর হতে হবে।ডাক্তারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।থানা পুলিশে ভাল রেকর্ড থাকতে হবে ।এছাড়াও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে ।

বাস্তব প্রশিক্ষণ সাফল্যের সাথে শেষ করতে হবে।সে প্রশিক্ষণে বাধা অতিক্রম, উচ্চ ওয়াল পার হতে হয়।সবাই কে ঘোড়া চালাতে হয়।তার রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে পাশ করতে হয়।ফরেনসিক মেডিসিনে পড়ালেখা করতে হয়।
তার একজন তদন্তকারী অফিসার কে বিভিন্ন ধরনের মামলা তদন্ত করতে হয়।রাজনৈতিক মামলায় রাজনীতি বুঝতে হয়।খুন ,ধর্ষণ ,ফাঁসি, পয়েজনিং মামলায় প্রাথমিক ডাক্তাররী বুঝতে হয় ।অর্থ পাচার মামলায় অর্থ নীতি বুঝতে হয় ।সাইবার ক্রাইম মামলায় আইটি বিষয় বুঝতে হয়।বিদেশী আসামী থাকলে ইংরেজী বুঝতে হয়।দুর্নীতি মামলায় হিসাব বিজ্ঞান বুঝতে হয়।শিল্প কারখানার র মামলায় শিল্প নীতি বুঝতে হয়।বাংক সংক্রান্ত মামলায় মানেজমনট বুঝতে হয়।অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অপরাধ বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান বুঝতে হয় ।নির্মাণ দুর্নীতিতে নির্মাণ কৌশল বুঝতে হয়।জায়গা সংক্রান্ত মামলায় ভূ জ্যামিতি বুঝতে হয়।
উপরের বিষয়ে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এছাড়াও মামলার আসামী হয় সমাজে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন স্তরের মানুষ। কোন ধরনের ব্যক্তির সাথে কি ধরনের ব্যবহার, নরম,স করতে হবে।
কার কাছে কি জিজ্ঞেস করতে হবে ,কার পরিচয় কি ভাবে নিতে হবে।কোন প্রশ্নের জবাব কত টুকোতে আইনে সন্তুষ্ট হতে হবে তার জন Behavioural science জানতে হয়।

এখন বিষয় হল পুলিশ চাকরিতে অনেক সমাজ বিজ্ঞান, অর্থনীতি , মানেজমনট, অংক,পদার্থ, বাংলা,ইতিহাস সহ অন্যান্য বিষয়ের ছাত্র আছে।
আবার অনেক ইঞ্জিনিয়ার আছে।আবার অনেক কৃষিবিদ আছে।একাউন্ট্যান্ট এর ছাত্র আছে।ভেটরিনারী আছে।সামুদ্রিক বিজ্ঞান ,টি টেকনোলজি র ছাত্র আছে।অনেকেই এমবিবিএস পাশ করেও আছেন।

বহু বিষয়ের ছাত্র এ পেশায় আছেন। এটিই আভিজাত্য এবং গর্ব।
ধরা যাক একটি ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটে শত চেষ্টা করলেও এক সমাজ বিজ্ঞানী বা ডাক্তারী লাইনের পাশ করা ছাত্র পাওয়া যাবে না।কিন্ত একটা জেলা পুলিশে খোঁজ করলে অংক, বাংলা, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তারী পাশ করা ছাত্র পাওয়া যাবে।তারা একে অপরের সাথে এই বিষয়ের জ্ঞান শেয়ার করতে পারেন। কিন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের কোন অফিসার চাইলেও তার নিজের ইউনিটে কোন অফিসারের নিকট থেকে পানিপথের যুদ্ধের গল্প শুনতে পারবেন না ।কারন ঐ ইউনিটে কোন ইতিহাসের ছাত্রদের নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এই শুধুই পুলিশে নয় অন্যান্য ক্যাডারেও বহু অভিজ্ঞতার সমাহার আছে।professional degree গুলোতে যেমন গৌরব আছে তেমন সীমাবদ্ধতাও আছে।
একজন ইঞ্জিনিয়ার যদি পুলিশ সুপার হন তিনি কিন্ত নামের সাথে ইঞ্জিনিয়ার ও পুলিশ সুপার দুটোই লিখতে পারেন।কোন ডিগ্রি নেওয়ার উদ্দেশ্য হল জ্ঞান অর্জন করা ,নিজের মস্তিষ্ক কে সম্পন্ন করা ।কোন পেশাই ছোট নয়।
আর আমি যে পেশায় আছি সেটাকে ভাল বলব তবে কোন পেশার সাথে তুলনা করে নয়।দরকার কি?
আবার আমার অফিস পিওনের যেমন দরকার আছে তেমনি অফিস প্রধানের ও দরকার আছে।আমাকে কেউ স্যার বলে জন্য ই আমি আরেক জনকে স্যার বলি।সবাই অপরিহার্য। কে বিসিএস কে পিওন কে ডাক্তার, কে ইঞ্জিনিয়ার এ গুলো নিয়ে হীনমন্যতার পরিচয় দিলে নিজের পেশাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তবে আমার (নিজ নিজ ) পেশা টা গুরুত্বপূর্ণ সে ভাবতে হবে তাহলে যা পাওয়া যাবে সেটা হল পেশাদারিত্ব।

আর সেটা পেলেই চাকুরী করার সার্থকতা আসবে।

@

Emaul Haque PPm

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: