শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

হেফাজত পাকিস্তানপন্থার উত্তরসূরি, এদের দমন করুন-জাতীয় যুব জোট

  • সময় মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মুজিব শতবর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজতে ইসলামের উস্কানীমূলক বক্তব্য, সশস্ত্র আক্রমণ, তান্ডব, বিভিন্ন জায়গায় ভাংচুর, রাষ্ট্রীয় স্থাপনার উপর আক্রমণ করে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, এদের কঠোর হস্তে দমন করার দাবী জানিয়েছেন জাসদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব জোট।
১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় বীর কাজী আরেফ আহমেদ মিলনায়তনে জাসদ সভাপতি ও সাবেক সফল তথ্যমন্ত্রী, বর্তমানে তথ্যমন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনু এমপি’র পক্ষে জাতীয় যুব জোট কক্সবাজার জেলা কর্তৃক নেতা কর্মীদের মাঝে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠন সংগঠনের সভাপতি অজিত কুমার দাশ হিমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা জাসদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসাইন মাসু, অনান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- শহর জাসদ সহ-সভাপতি একেএম মাহাতাবুল ইসলাম, জাসদ নেতা সাংবাদিক মোঃ আমান উল্লাহ, মোঃ আবু তৈয়ব, জাতীয় যুবজোট কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, সহ-সভাপতি মোঃ আজম, আবদু সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, মিসবাহ উদ্দিন ইরান, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, অর্থ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খোকন, প্রচার সম্পাদক একরামুল হক কন্ট্রাক্টার, দপ্তর সম্পাদক নাছির উদ্দিন, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ নুরুল হক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মুন্নি বেগম, যুবজোট নেতা মাষ্টার অনিল দাশ, রতন দে, সুমন দাশ, মালেকা বেগম, বেলাল উদ্দিন, আবু তাহের, ওসামান গণি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কক্সবাজার জেলা সভাপতি আবদুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৈয়ব উল্লাহ সিকদার বাবু প্রমুখ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন- হেফাজত ইসলাম এই রাষ্ট্র, সংবিধান, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অস্বীকার করারটা কার্যত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার হুমকি, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার হুমকি, কুষ্টিয়াতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনা- এ সবই নজরে নিয়ে এই পাকিস্তানপন্থার উত্তরসূরীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জাসদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসাইন মাসু বলেন- বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রতিক। বঙ্গবন্ধুকে আক্রমণ করা মানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, রাষ্ট্রকে অস্বীকার করা। সেই জন্য এটা শুধুমাত্র একটা ছোটখাটো আইন-শৃংখলার ব্যত্যয়ের ঘটনা নয়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার পরে সাম্প্রতিককালে হেফাজত ইসলাম স্বনামে সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘু পাড়াতে আক্রমণ পরিচালনা করেছে। এটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত। এটাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে যখন বিদেশী মেহমানরা এখানে আসছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সাহেব এখানে আসছেন তখন যে তান্ডব হলো তাতে মোদী উপলক্ষ্য মাত্র। কার্যত সেদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ঢাকাতে সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্থাপনার উপর, পুলিশ কার্যালয়ের উপর। মুক্তিযুদ্ধের যতরকম স্মারক চিহ্ন আছে সব চিহ্নকে বেছে বেছে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিক ও ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সাংস্কৃতিক স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সাংবাদিকদের কার্যালয় ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ থেকে এটা পরিস্কার যে, মোদী উপলক্ষ্য মাত্র কার্যত হেফাজতে ইসলাম ৭১ এর পাকিস্তানপন্থার, রাজাকারের উত্তরসূরি হিসাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে অস্বীকার করছে, সংবিধানকে অস্বীকার করছে, দেশকে অস্বীকার করছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অস্বীকার করছে। এটা কার্যত স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামীল।
জাতীয় যুব জোট, কক্সবাজার জেলা সভাপতি অজিত কুমার দাশ হিমু বলেন- ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজত যে সশস্ত্র তান্ডব চালিয়েছিল ঢাকা শহরে, বিএনপি তাতে সরাসরি সমর্থন দিয়েছিল। তা থেকে এটা পরিস্কার যে হেফাজতে ইসলাম, বিএনপি, জামাত, জঙ্গি সবই একই চক্র, একই গোষ্ঠী। এরা ৭১ এর রাজাকারের ধারারই উত্তরসূরি। স্বাধীনতা দিবসে যে তান্ডব চালালো বিএনপি প্রকাশ্যে রাখ-ঢাক ফেলে দিয়ে সরাসরি সমর্থন দিলো এবং এখনো বিএনপি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিএনপি আর হেফাজতকে যতই আলাদা ভাবা হোক না কেন, বিএনপি-হেফাজত-জামাত-জঙ্গি আসলে একই। এরা ৫ মে’র শাপলা চত্ত¡রের মত এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এরা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি ও বিপদ। শাল্লার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। তা না হলে এরকম তান্ডব করা সম্ভব না। হেফাজতের তান্ডবের মুখে পুলিশ প্রশাসনের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। এই দুর্বলতা কেন? কিসের সমস্যা? পুলিশের গাড়িতে আগুন, আসামী ছিনতাইÑ পুলিশ কি তার নৈতিক বল হারিয়ে ফেলেছে? পুলিশে কি জনবল কম হয়ে গিয়েছে? পুলিশ চমৎকারভাবে শাপলা চত্ত¡র মোকাবেলা করেছিল। সেই পুলিশ কেন আজ অসহায়? এটা আমরা রাষ্ট্র প্রধানের কাছে জানতে চাই। এদের বিরুদ্ধে নিরবতা মানে রাষ্ট্রের অসহায়ত্বের প্রমান। তাই বিএনপি-হেফাজত-জামাত-জঙ্গিদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
সভা শেষে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে দলের নেতা কর্মীদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: