শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত বনকে ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করছে পৌরসভা!

  • সময় শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

১৯১৬ সালের ১৭ নভেম্বর প্রায় ৯০০ একর আয়তনের বর্তমান বর্ষিজোড়া ইকো’পার্ককে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বন্যপ্রা’ণী ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যট’কদের আকর্ষণ করতে ২০০৬ সালের জুলাইয়ে বর্ষিজোড়া ইকো’পার্ক চালু হয়। এ বন রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। একে সাফারি পার্ক করা নিয়েও আলোচনা চলছে ।

তবে বনের প্রায় এক একর জায়গা দখল করে ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছে মৌলভীবাজার পৌরসভা। গত ৪ তারিখ থেকে প্রতিদিন টনের টন ময়লা ফেলছে পৌরসভা। বন বিভাগ লিখিত আ’পত্তি দিলেও মানছে না পৌর কর্তৃপক্ষ।

শুধু ময়লার ভাগাড় নয়, ময়লার গাড়ি যেন বনের ভেতরে নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে পারে তাই মাটি কে’টে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা। দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মে অ’বাক পরিবেশবাদীরা।

তারা বলছেন, বনের আশপাশে যেখানে ক্ষতিকর কিছু করা যাবে না, সেখানে একেবারে বনের ভেতরে গিয়ে, বনের জমি দখল করে প্লাস্টিকসহ পৌরসভা ময়লা ফেলে বনকে চিরতরে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে।

ময়লা ফেলার প্রতিবাদে প্রথমে পৌরসভাকে মৌখিকভাবে এবং পরে লিখিতভাবে আ’পত্তি জানিয়েছেন বন্যপ্রা’ণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

লিখিত সেই পত্রে বন বিভাগ উল্লেখ করেছে , বনে পৌরসভা’র ময়লা ফেলা হচ্ছে এ বিষয়টি অবগত হয়ে গত ৬ তারিখ সংরক্ষিত বন বর্ষিজোড়া ইকো’পার্কের মৌলভীবাজার স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিভাগীয় বন কর্মক’র্তা দেখতে পান যে, পৌরসভা’র ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্য পদার্থ বনের মধ্যে ফেলা হচ্ছে এবং ময়লা বনের ভেতর নিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

বনে ময়লা না ফেলা এবং যে যে ময়লা ফেলা হয়েছে তা সরিয়ে নেয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে চিঠি দেয় বন বিভাগ।

বন বিভাগের চিঠির যে বিবরণ তার সত্যতা মিলেছে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে। বন বিভাগের আ’পত্তির পরেও টনের টন ময়লা ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মৌলভীবাজার শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন বর্ষিজোড়া পার্কের এই সংরক্ষিত বনে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা ও বোতলজাত প্লাস্টিকসহ সব ধরনের বর্জ্য। ময়লার গন্ধ আশপাশের ছড়িয়ে পড়েছে। বনের ভেতর ময়লা নিয়ে যাওয়ার জন্য এসকেবেটরের মাধ্যমে টিলার পার্শ্ববর্তী লাল মাটি কে’টে রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মক’র্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পৌরসভা’র ময়লা ফেলার কারণে এ এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্জ্য খেয়ে বন্যপ্রা’ণী মা’রা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংরক্ষিত বনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল অ’বৈধ জবর দখলের শামিল। আম’রা আ’পত্তি জানানোর পরেও এখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।

তিনি জানান, ৪ তারিখ থেকে এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, ৬ তারিখ আম’রা আ’পত্তি জানিয়ে পত্র দিয়েছি কিন্তু শুক্রবার সকালেও প্রতিদিনের মতো ময়লা ফেলা হয়েছে, আমাদের আ’পত্তি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। খুব দ্রুত এ ময়লা-আবর্জনাসহ প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং যা ফেলা হয়েছে তা এখান থেকে সরিয়ে নিতে মৌলভীবাজার পৌরসভাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি, এখনো করছি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আ’ন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক আ স ম সালে সোহেল জানান, এভাবে সংরক্ষিত বনে প্লাস্টিকসহ ময়লা ফেলা খুব খা’রাপ কাজ। পরিবেশের জন্য মা’রাত্মক বিপর্যয় হবে বিষয়টি। দ্রুত এ ময়লা এখান থেকে সরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হোক।

এ বিষয় মৌলভীবাজার পৌরসভা’র মেয়র ফজলুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বন বিভাগের আ’পত্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, এখানে সাময়িকভাবে ফেলা হচ্ছে। আমাদের ডাম্পিং স্টেশনে কাজ চলছে, কাজ হয়ে গেলে ময়লা ফেলার কোনো অ’সুবিধা হবে না।

এই যু’ক্তি মানতে নারাজ বাপা। বাংলাদেশ পরিবেশ আ’ন্দোলন (বাপা) কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আব্দুল করিম কিম জানান, এক দিনের জন্য কেন, এক মুহূর্তের জন্য হলেও সংরক্ষিত বনে ময়লা ফেলা যাবে না। এটা সুনির্দিষ্টভাবে অ’প’রাধ। এটা কা’ম্য নয়। আম’রা প্রয়োজনে মাঠে নামব।

সার্বিক বিষয়ে মৌলভীবাজারের জে’লা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি এবং বন বিভাগের যে আ’পত্তিপত্র তার অনুলিপি পেয়েছি। বন বিভাগ এবং পৌরসভাকে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেছি। তারা যদি মীমাংসা করতে না পারে আমি ব্যবস্থা নেব।

গাছ আর বন্যপ্রা’ণীতে সমৃদ্ধ বর্ষিজোড়া ইকো’পার্ক। বনের প্রধান উদ্ভিদ শাল আর গর্জন। আরও আছে সেগুন, লোহাকাঠ, জারুল, তেলসুর, চিকরাশি ইত্যাদি। এ ছাড়া আগর, আমলকী’, বহেরাসহ নানান ঔষধি গাছও আছে।

নানা বন্যপ্রা’ণীর বিচরণ এ বনে। উল্লেখযোগ্য হল বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালি, মায়া হরিণ, শজারু, বনরুই, মেছোবাঘ, গুইসা’পসহ বিভিন্ন ধরনের সা’প ইত্যাদি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: