বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

রোহিঙ্গা ইদ্রিসের অবৈধ কর্মকাণ্ডের আশ্রয়দাতা যুবলীগ নেতা শুক্কুর!

  • সময় বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬৪৫ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্ট:
কক্সবাজার বাসটার্মিনালস্থ পুর্ব লার পাড়ার বিভিন্ন অপরাধের মূল হোতা রোহিঙ্গা ইদ্রিস (৪৫)। সে হুন্ডি, মাদক, জুয়া ও নারী সরবরাহ সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। রোহিঙ্গা হওয়ার পরেও বিভিন্ন অবৈধ বকারবারের মাধ্যমে বিপুল অংকের কালো টাকার মালিক এখন রোহিঙ্গা ইদ্রিস। কালো টাকার প্রভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হয়ে যায় বাংলাদেশের নাগরিক আর থাকতে হচ্ছে না কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে। সে এখন বসবাস করেন কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্র শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার পূর্ব লারপাড়ায়। সেখানে পাহাড় কেটে ফাউন্ডেশন দিয়ে বহুতল ভবন নির্মান করতেছে মাদক, হুন্ডি ও ক্যাসিনো ত্রাস রোহিঙ্গা ইদ্রিস। আর তার এসব কাজ চলছে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার যুবলীগ নেতা আব্দুশ শুক্কুরের নেতৃত্বে। আশ্চর্য্যজনকভাবে ঝিলংজা এলাকায় বসবাসকারী এমন আরও একাধিক রোহিঙ্গা মাদক ও হুন্ডি ব্যাবসায়ীদের রক্ষা করতে বিভিন্ন সময় দৌড়ঝাপ করতে দেখা গেছে তদবিরবাজ এই নেতাকে এবং তার ঝিলংজা যুবলীগের আহবায়ক কমিটিতে অনেক মাদক ও নারী ব্যবসায়ীদের স্থান হয়েছে। জনস্রোত আছে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অপরাধীদের তার কমিটিতে স্থান দিয়েছেন আর তারা অপরাধ করতে গিয়ে যে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে তাদের জন্য তদবির করতে যায় তদবির বাজ নেতা আব্দুশ শুক্কুর। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের নিকটস্থ ঝিলংজার পূর্ব লারপাড়া এলাকায় কউকের কোনো ধরণের অনুমোদন ছাড়াই খাস জমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ করছে মো. ইদ্রিস প্রকাশ রোহিঙ্গা ইদ্রিস। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে ঘটনার সত্যতা মিলে। ক্যাম্প ফেরত একজন রোহিঙ্গা ব্যাপকভাবে পাহাড় কেটে অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের দুঃসাহস অর্জন করার নেপথ্যে যার নাম উঠে আসে তিনি হলেন- স্থানীয় যুবলীগ নেতা আব্দুশ শুক্কুর। রোহিঙ্গা ইদ্রিসের বিভিন্ন সময়ে করা অপকর্মগুলো মূলত তারই আশ্রয় প্রশ্রয়ে সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ২০০০ সালের দিকে টেকনাফের এক জামাত নেতার হাত ধরে মায়ানমার থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে স্বপরিবারে এদেশে এসেছিলেন রোহিঙ্গা ইদ্রিস।

আরও পড়ুনঃ রোহিঙ্গা ইদ্রিসের জন্য অবৈধ ভবন নির্মাণ করছে যুবলীগ নেতা শুক্কুর!

শরণার্থী হিসেবে তার অধিকাংশ আত্মীয় স্বজন এখনও কুতুপালং ক্যাম্পে বসবাস করছে। কিন্তু হঠাৎ করে বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ইদ্রিস কক্সবাজার শহরে গমনাগমন শুরু করলে তখনও এনআইডি নিয়ে খুব একটা চাপাচাপি ছিলো না। একারণে ওই সময় বিএনপি জামাত ক্ষমতায় থাকলেও সংগ্রহ করেনি এনআইডি কার্ড কিংবা জন্মসনদ। পরবর্তীতে পরিস্থিতি পাল্টে গেলে ২০০৯ সালের দিকে জেলার এক শীর্ষ আওয়ামীলীগ নেতাকে হাতে পায়ে ধরে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে তখন ঝিলংজার পূর্ব লারপাড়ার ভোটার হিসেবে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যদিও তার পিতা মাতা ও অন্যান্য কোনো ভাই-বোন জাতীয় পরিচয় পত্র কিংবা জন্মসনদ সংগ্রহ করতে পারেননি। কিন্তু একমাত্র ইদ্রিস রাজনৈতিক বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে অর্থের বিনিময়ে হয়ে যান বাংলাদেশি নাগরিক। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কখনও হয়েছেন সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবার কখনও বা যুবলীগ নেতা। আর এসবও হয়েছেন লাখ লাখ টাকা খরচ করে। শুক্কুর যখন সেচ্ছাসেবকলীগ করত তখন তিন লাখ টাকা খরচ করে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি ভাগিয়ে নিয়েছিলেন। তার ব্যাপারে আরও জানা যায়, ইদ্রিস রোহিঙ্গা নাগরিক দিল মোহাম্মদ-রশিদা বেগম দম্পতির ছেলে। তারা মোট ৭ভাই বোন। বাংলাদেশের আগমনের শুরুতে তারা কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় একটা জায়গার পাহারাদার হিসেবে থাকতো। পরে ওই জায়গাটির মালিক তা বিক্রি করে দিয়ে ইদ্রিসের ভাইবোন পিতা মাতা অবৈধ পাসপোর্ট নিয়ে সৌদিতে পাড়ি জমান।

ইদ্রিসের সৈয়দা নামে এক বোন রয়েছে হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত। তার এই বোন কক্সবাজার সদর মডেল থানার তালিকা ভূক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ী। যে এখনও বাংলাদেশেই তাকে। তাকে বাংলাবাজারে বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। পরে স্বামীর আইডি কার্ড ব্যবহার করে এনআইডি কার্ড করতে গেলে ধরা পড়ে যায়। তার হুন্ডি ব্যবসার ব্যাপারে জানা যায়- সৈয়দা তার মালয়শিয়া প্রবাসী স্বামী মো. ছৈয়দ এবং সৌদিতে থাকা দুই ভাইকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এদের মাধ্যমেই মূলত সৈয়দা হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবেই কক্সবাজার শহরে অপরাধের এক বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি করেছে রোহিঙ্গা ইদ্রিস ও তার পরিবার এবং এটার নেতৃত্বে রয়েছে যুবলীগ নেতা আব্দুশ শুক্কুর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জানিয়েছেন- রোহিঙ্গা ইদ্রিসের ব্যাপারে যখনই জানা যায় যে সে রোহিঙ্গা এবং মাদক ব্যবসায়ী তখনই তাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যুবলীগ নেতা আব্দুশ শুক্কুরের আশ্রয়ে তাকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। আব্দুশ শুক্কুরই মূলত রাজনৈতিক প্রভাবে খাটিয়ে ইদ্রিসকে মাদক, ক্যাসিনো এবং হুন্ডি ব্যবসায় অভস্ত করে তুলেছে বলে দলীয় একাধিক কর্মীর অভিমত। এদিকে ইদ্রিসের এনআইডি কার্ড প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা এস.এম. শাহাদাত হোসেন প্রতিবেদককে বলেন তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে তার এনআইডি প্রাপ্তির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। যেহেতু তার আর অন্যান্য কোনো ভাইবোন এবং পিতা মাতা এনআইডি পাননি। এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষকেও অবগত করেছেন বলেন জানিয়েছেন প্রতিবেদককে। এই বিষয়ে জানার জন্য আব্দু শুক্কুর ও ইদ্রিস কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: