শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

আইডি কার্ড ও পাসপোর্ট করে অনেক রোহিঙ্গা এখন প্রতিষ্টিত

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৩৬ বার পড়া হয়েছে

প্রথমে কোন মতে বসাবাস তার পরের টার্গেট স্থানীয়দের ম্যানেজ করে ভোটার আইডি কার্ড করা তা দিয়ে পাসপোর্ট করে এখন অনেক স্বীকৃত রোহিঙ্গা প্রতিষ্টিত হয়ে গেছে। তারা এখন বিদেশে থেকে আয় করছে বিপুল টাকা অপর দিকে তাদের পরিবার পরিজন বাংলাদেশের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে হয়ে গেছে বাংলাদেশের ভিআইপি নাগরিক। তবে সুযোগ পেলেই এসব রোহিঙ্গা নতুন করে আসা তাদের আত্বীয় স্বজন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব করে দিয়ে পুরু কক্সবাজারকে গড়ে তুলেছে রোহিঙ্গা পল্লীতে। সম্প্রতী রোহিঙ্গাদের সনদ এবং পাসপোর্ট করে দেওয়া কাজে সহায়তা করার দায়ে ৩ কাউন্সিলার ও পৌরসভার এক কর্মচারী আটক হওয়ায় বেরিয়ে আসছে চমকপ্রদ তথ্য স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে মতে বিপুল টাকা এবং বাড়তি সুবিধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বে সমস্ত সুযোগ করে দিয়েছে জনপ্রতিনিধি সহ একটি সিন্ডিকেট। তাই পৌর এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ড এবং পুরু জেলায় রোহিঙ্গা সনাক্তকরণ একটি জরিপ চালু করার আহবান জানান সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার এবিসিঘোনার আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগম দুজনেই রোহিঙ্গা। এলাকাবাসীর মতে তারা প্রায় ১৫ বছর আগে বার্মা থেকে বাংলাদেশে এসেছে তবে বর্তমানে তাদের ছেলে ইউনুচ সহ সবাই আইডি কার্ডধারী অনেকে পাসপোর্টধারী। তার আরেক ছেলে ইলিয়াছ বর্তমানে একটি আর্ন্তজাতিক সংস্থার চাকরী করে যা বেতন প্রায় দেড় লাখ টাকা। উক্ত রোহিঙ্গার বর্তমানে কলাতলী আদর্শ গ্রামে নিজস্ব বাড়িঘর আছে সেটা ভাড়া দিয়ে বর্তমানে থাকেন ঈদগাহ মাঠের পাশে। আরেক ছেলে ইসলাম থাকেন সৌদি আরবে। সেই ইসলাম বিপুল টাকা খরচ করে অনেক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব করে দিয়েছে আবার অনেককে পাসপোর্ট করে বিদেশেও নিয়ে গেছে। এতে পূর্ন সহায়তা করেছে স্থানীয় কাউন্সিলার। একই ভাবে এবিসিঘোনা সংলগ্ন আশুঘোনার আমির হোসেন প্রকৃত বার্মার নাগরিক তার ছেলে মোঃ সেলিম আইডি কার্ডে পিতার নাম ছৈয়দ হোসন মাতা গোলতাজ বেগম সহ সবাই এখন বাংলাদেশী ভোটার, একই এলাকার রুপবান,লাইট হাউজ পাড়ার রেহেনা বেগম সহ অনেক প্রকৃত রোহিঙ্গার হাতে এখন বাংলাদেশী আইডি কার্ড আছে।
শহরের পাহাড়তলী এলাকায় আগে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্যতম সাইফুল খলিফা (হালিমাপাড়া) কামাল ফকিরের ছেলে আবদুল্লাহ এবং তার পুরু পরিবার,রহমত উল্লাহ (টমটম চালক) তার এক ছেলে বর্তমানে চট্টগ্রামের বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্ত্রী মহেশখালী থেকে ভোটার হয়েছে.আবদুল মালেক(হালিমাপাড়া) এনায়েত উল্লাহ,(হালিমাপাড়া)ফয়েজ উল্লাহ (রোহিঙ্গা হয়েও ভোটার আইডি করায় জেল খেটেছে )মৌলবী নুরুল হোসাইন,মৌলবী আহমদ কবির (এনজিও কর্মকর্তা),আবুল হোসেন পেটান,তার ভাই হাসান,নুর বাহার স্বামী আসাদ উল্লাহ(মালয়েশিয়া প্রবাসী)সত্তরঘোনা,জাহেদ হোসেন নতুন বাজার,পাহাড়তলী,শওকত মিস্ত্রি,সত্তরঘোনা,হাফেজ আহামদ (জেল ফেরত)সত্তরঘোনা,এছাড়া রোহিঙ্গা হয়েও পরিচয় গোপন রেখে বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ে এবং এনজিও কর্মকর্তা আজিজ,বাহাদুর মিয়া,হালিমাপাড়া,শাহআলম। এসব রোহিঙ্গারা আবার রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ভাবে ভুয়া সনদ এবং ভিন্নজেলা থেকে কাগজ পত্র সংগ্রহ করে ঢাকা চট্টগ্রামে পড়ার সুযোগ করে দেয় আবার তাদের মুল পৃষ্টপোষক হচ্ছে রোহিঙ্গা ইব্রাহিম যে রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে ইতি মধ্যে চট্টগ্রাম ইসলামিক বিশ^বিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে পড়েছে।এছাড়া মৌলবী নুর মোহাম্মদ,অজি উল্লাহ,ছৈয়দ আমিন,হাসিম উল্লাহ রোহিঙ্গা হয়েও পাহাড়তলী এলাকায় দাপটের সাথে বিচরণ করে এবং নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এছাড়া বৃহত্তর পাহাড়তলী এলাকার সূপরিচিত রোহিঙ্গা জহির হাজী,বশির মাঝি (বর্তমানে কয়েকটি দোকানের মালিক)পাহাড়তলী ইসুলুঘোনার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে আরিফ উল্লাহ,ইয়াবা ব্যবসায়ি নুর মোহাম্মদ,হাফেজ আহামদের স্ত্রী সনজিদা (বর্তমানে গোলদিঘির পাড়এলাকা থেকে ভোটার হয়েছে)আবদুল মতলব প্রকাশ আমির সাব (বায়তুশ শরফ হোস্টেলের বাবুর্চী,সিরাজুল হক মাঝি (ইসুলুঘোনা)তার ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ি মনজুর আলম,মোহাম্মদ আরিফ (বেশ কয়েকটি ইয়াবা মামলার আসামী)আবদুল হাকিম মাঝির ছেলে মোঃ শফি,বশির প্রকাশ শুটকী বশির,রোহিঙ্গা বর্তমানে সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলাম পিতা ইয়াকুব আলী,মাতা মাহমুদা খাতুন,সে ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার হিসাবে পাসপোর্ট করেছে যার পাসপোর্ট নাম্বার বি কিউ ০০৭১৮৪৬১। বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী পাহাড়তলী সত্তরঘোনার বাসিন্দা জমির হোসাইন পিতা আলী হোসাইন মাতা মোস্তফা খাতুন স্ত্রী ছমুদা খাতুন, যার পাসপোর্ট নাম্বার এ ই ০১৮৯৪০২। একই এলাকায় থাকা রোহিঙ্গা হলেও পাসপোর্ট পেয়েছে মোহাম্মদ ইউচুপ পিতা আবদু শুক্কর মাতা জামরুপ বেগম,স্ত্রী রাজিয়া বেগম পাসপোর্ট নাম্বার এ ই্ ৬১৮৮২৬৩। এদিকে শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়ার গুদারপাড়া এলাকার স্বীকৃত রোহিঙ্গা গোলাম হেসেনের ছেলে আসাদ উল্লাহ সহ কয়েক ভাই রয়েছে যাদের অনেকের আইডি কার্ড করতে না পারায় দীর্ঘদিন বিপুল টাকা নিয়ে ঘুরেছিল। বর্তমানে মায়ামনার থেকে আসার তাদের পুরাতন আত্বীয় স্বজন প্রায় সময় তাদের বাড়িতে আসে বলে জানান এলাকাবাসী। এছাড়া তাদের ছেলেমেয়েরা অনেকে বর্তমানে এনজিওতে চাকরী করে। পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বাদশাঘোনা এলাকার সিরাজুল ইসলাম,নুরুল ইসলাম, আমিন,নজির আহামদের পুরু পরিবার,হাফেজ মনির,ছৈয়দুল আমিন,শফিক মিস্ত্রি,নেছারু সহ অসংখ্য রোহিঙ্গা আসে এসে এখানে বসাবাস করছে তারা এখন নানান ভাবে সমাজ পতি সহ নানান পদ দখল করে বসে আছে। বৈদ্যঘোনা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নতুন অনেকে এসেছে তবে আগে এসে বর্তমানে স্থানীয় হিসাবে প্রতিষ্টিত হওয়া রোহিঙ্গার মধ্যে অন্যতম আশরাফ আলী খলিফা, নুর মোহাম্মদ মিস্ত্রি,জাহেদের বাপ হুন্ডি ব্যবসায়ি মালয়েশিয়ার দালাল ছিল, শফি খাজা মঞ্জিল এরা বেশ কয়েক ভাই আছে যারা প্রত্যেকে এখন স্থানীয় হিসাবে দাপটে বেড়ায়। জকরিয়া সওদাগর, নজির আহামদ লেবার। খুরুশকুল হামজার ডেইল এলাকা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আগে আসা রোহিঙ্গা যারা এখন স্থানীয় হিসাবে প্রতিষ্টিত হয়ে গেছে মোঃ কালু,ইউচুপ,আবদুল হাকিম,ইউচুপ আলী,কালাবদা,সোনামিয়া, মোঃ দিলু,আনোয়ার হোসেন,আবদস ছবি,ছলিম উল্লাহ,মোঃ ছৈয়দ, নুর হোসেন,আবুল হোসেন,জাহেদ (লামাঝি পাড়া)হাফেজ আহামদ,আবুল হোসেন,নজির হোসেন,সলিম (লামাঝিপাড়া) জুবায়ের কুনারপাড়ার। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলার সিরাজুল হক বলেন,আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি কাউন্সিলাররা টাকার বিনিময়ে কোন রোহিঙ্গাকে সনদ দেবে এটা বিশ^াষযোগ্য না তবে অনেকে ভুল তথ্য দিয়ে অথবা কোন স্থানীয়ের মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করে থাকতে পারে। আবার পুরাতন রোহিঙ্গাদের সবার ছেলে মেয়ে কোন না কোন স্কুল কলেজে লেখা পড়া করে সে হিসাবে তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে বর্তমানে যেহেতু পরিস্থিতি ভাল না তাই শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে প্রত্যায়ন না করলে ভাল হয়।

একই মতদেন কাউন্সিলার ইয়াছমিন আক্তার তিনি বলেন,জমির খতিয়ান থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট বাবা চাচার আইডি কার্ড দেখালে অনেক সময় রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আর আমার নিজের কথা বলতে পারি আমার নির্বাচনী এলাকায় ৩ টি ওয়ার্ড সবাইকে চেনার আমার পক্ষে সম্ভব না,অনেক সময় স্থানীয় লোকজন তাদের পরিবারের আপনজনের কথা বলে সনদ বা আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে যায়। তবে আমার মতে পুরু জেলায় সরকারি ভাবেএকটি রোহিঙ্গা জরিপ করলে ভাল হয়। এতে কিছুটা হলেও কাজ দেবে। এ ব্যপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন জেলা সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী বলেন,বর্তমানে কক্সবাজারের মানুষ নাগরিক সুবিধা নিতে যে হয়রানী এবং ভুগান্তির সম্মুখিন হচ্ছে তা খুবই লজ্জাজনক। অথচ এতকিছুর পরও রোহিঙ্গারা ঠিকই ভোটার হচ্ছে বিশেষ করে রোহিঙ্গার ছেলেমেয়েরা ভোটার হওয়ার প্রবণতা বেশি এ জন্য জনপ্রতিনিধিরা কখনো দ্বায় এড়াতে পারেনা। তারা অনেক সময় রোহিঙ্গা পরিচয় জেনেও প্রভাবশালীদের তদবিরএবং নিজেদের ভোটার বাড়ানোর জন্য রোহিঙ্গাদের ভোটার করছে। এদিকে গত ২৮ মার্চ রোহিঙ্গা ভোটার এবং পাসপোর্ট করার কাজে সহায়তা করার দায়ে কক্সবাজার পৌরসভার বর্তমান ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মিজানুর রহমান,সাবেক কাউন্সিলার রফিকুল ইসলাম এবং জাবেদ মোঃ কায়সার নোবেলকে আটক করে দূর্নীতি দমন কমিশন একই সাথে পৌরসভার অফিস সহকারী দিদারুল ইসলামকেও আটক করে দুদক। একই দিন এই ঘটনায় আটক ৩ কাউন্সিলার ছাড়াও বর্তমান কাউন্সিলার আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকি জামশেদ,নাছিমা আক্তার বকুল,সাবেক কাউন্সিলার হুমায়রা আক্তার,বর্তমান কাউন্সিলার ছালাউদ্দিন সেতু সহ ৫ পুলিশ এক আইনজীবি,দুই ইউপি চেয়ারম্যান.দুই ইউপি সচিব সহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ ব্যপারে দূর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চল-২ এর উপ পরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন,দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদক প্রমান পেয়েছে জনপ্রতিনিধি,পুলিশ সহ একটি সিন্ডিকেট রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ দিয়ে পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করেছে এতে দেশের স্বার্বভৌমত্ব নষ্ট হয়েছে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আরো তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

c-link

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: