শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

টেকনাফ ভূমি অফিসের সহকারী জোবায়ের এখন টাকার কুমির

  • সময় বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক;
কক্সবাজার কালেক্টরেটের অফিস সহকারী।কুতুবদিয়ার অধিবাসী জোবাইরুল ইসলাম রাশেল অফিসের অনিয়ম-দূর্নীতির মধ্যমণি।সরকারি আইন ও নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাড়িঁ কাড়িঁ টাকা আয়ই তার নেশা।২০০৬ সালে বি এন পি জামাত জোট সরকারকালীন চাকরিতে অভিষেক তার।চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনে প্রথমদিকেই চাকরি শুরু এই অফিস সহকারী এখন টেকনাফ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী।পূর্বে জেলা ট্রেজারি শাখা, রামু ,সদর ভূমি অফিস ও উখিয়া ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী হিসাবে ৩ বছর পার করেছেন তিনি।এসব কর্মস্হলে থাকাকালীন জোবাইর সেবাপ্রার্থীদের কাছে নানাভাবে বিতর্কিত।তার কর্মকাণ্ডে অফিসের উবর্ধতন কর্মকর্তাও তাকে অনেকবার শাসালেও একটুও শুধরাননি।কর্তব্য কর্মে চরম অনিয়ম- দূর্নীতির অনুঘটক এই জোবাইয়ের সরকারি চাকরিবিধি তোয়াজ করেন কম।দায়িত্ব অবহেলা উদাসীন্যও তিনি।অফিসে গরহাজির ও উস্খৃলতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।তৎকালীন বিএনপি সরকারের স্হানীয় এমপির ডিও লেটারের সুবাদে চাকরি জুটে জোবাইয়ের। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিনেরও বিশ্বস্ত সহচর এ জোবায়ের।এ কারণে চাকরির ইন্টারভিউতে তেমন ফল না দেখালেও প্রতিমন্ত্রীর আর্শিবাদ থাকায় খুব সহজেই জেলা প্রশাসনের অফিস সহকারীর পদটি ভাগিয়ে নেন তিনি।এছাড়া তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত তহসিলদার আবদুল গফুর কুতুবীর তদবিরও তার চাকরি লাভের ব্যাপক ভূমিকা রাখে।জনশ্রুতি রয়েছে তার পিতা গফুর কুতুবী তৎ সময়ে সরকারি কর্মকাণ্ডে শুভন্করের ফাঁকি দিতেন বারবার। মহেশখালীর কালামারছরা ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীরা একবার তার এমন অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে অফিসেই অবরুদ্ধ করে রাখেন তাকে।এমনকি বদ্ধ কক্ষে সেবাপ্রার্থীরা তাকে বিষ্ঠা ছিটিয়ে নাজেহালও করেন।পরে পুলিশ ও স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির হস্তক্ষেপে সেই যাত্রায় রক্ষা পান তহসিলদার কুতুবী।বাপকা বেটা সিপাহি কা ঘোড়া সেই প্রতিপাদ্য বাক্যটির অক্ষরে অক্ষরে জিইয়ে রেখেছে পুত্র জোবায়েরও।

দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি কর্ম জীবনে এই জোবাইর অসংখ্য অঘটনের জন্মদাতা।এই কারণে কয়েকবার সাময়িক বহিষ্কার সহ উবর্ধতন কর্মকর্তার বিরাগ ভাজন হন।রামু ভূমি অফিসে ২০১৪ সালে স্হানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান তাকে রেকর্ড রুমের কক্ষে বেদম পেটান।অফিসের অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে অবরুদ্ধ অবস্হা থেকে মুক্ত করেন।এর পূর্বে তিনি ছিলেন কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসে। অফিস সহকারীর ৩ মাসের মধ্যেই কৌশলে নেজারত শাখার নাজিরের পদটি ভাগিয়ে নেন জোবাইর।ঐ সময়ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নাজেহাল হতে হয় তাকে।কথিত রয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কিছু অসাধু সহকারী তার মুল সহযোগী। এদের আশকারায় তিনি ধরাকে সরা ঙ্গান করে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে টাকার কুমিরে পরিনত হয়েছে। এমনকি এ অফিসে রেকর্ড ছেড়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এ কান্ডের জন্য তৎকালীন এসিল্যাণ্ড তাকে তৎক্ষণাৎ বদলীর সুপারিশ করলে জেলার ট্রেজারি শাখায় পদায়ন করেন তৎকালীন ডিসি জয়নুল বারি।ট্রেজারি শাখায় বেশি সুবিধা করতে না পেরে নিজে তদবিরের জোরে বদলি হন উখিয়া উপজেলা ইউএনও দপ্তরে।এখানে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় একাধিক কর্মকাণ্ডে লন্কাকান্ড বাধিয়ে দেন তিনি।একের পর এক অভিযোগে উবর্ধতন কর্মকর্তা কে কান ভারি করে রাখেন সেবাপ্রার্থীরাও।

তার কর্তব্যে ত্যক্ত বিরক্ত ইউএনও বিষয়টি জেলা প্রশাসনে অবহিতও করেন।পরে তাকে বদলি করা হয় টেকনাফ উপজেলা ভূমি অফিসে।সেখানেই অফিস সহকারী জোবাইয়েরের নিয়ন্ত্রণে দেয়া হয় টেকনাফ সদর,লেঙ্গুর বিল ও শাহপরির দ্বীপ মৌজার।এসব মৌজার ভূমিহীন আবেদন,রিভিউ, রেকর্ড সংশোধন, নামজারি, ডাক ফাইল,ফরেনডেক্স ও নথি আবেদনের দায়িত্ব ভার পান তিনি।এতেই কেল্লা ফতে তার।এ কাজ করতে গিয়ে সেবাপ্রার্থীদেরকে নানাভাবে হয়রানি প্রতারণা ও অবৈধ ঘুষনিয়ে দিনের পর দিন ঘোরানোর অভিযোগও রয়েছে গুরুতর।তিনি সেবাপ্রার্থীদের কাছথেকে সরকারি ফি’র বাইরে তার চাওয়ায় অত্যধিক টাকা প্রভাবশালী ও বিত্তবানরা দিতে পারলেও গরীব অসহায় জনগণের পক্ষে তা দাড়ায় মরার উপর খারার ঘা হিসাবে।এইভাবেই চলছে জোবাইয়েরের প্রাত্যহিক চাঁদাবাজি।

জেলার এসব গুরুত্তপূর্ণ সরকারি দপ্তরে নানা অনিয়মের মুলহোতা এই জোবায়ের একাধিকবার স্হানীয় পত্রিকার শিরোনামও হন।তার এসব কর্মকাণ্ডে সেবাপ্রার্থীদের কাছে কথায় কথায় এসিল্যাণ্ড কিংবা উবর্ধতন কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গারও অভিযোগ ভূরিভূরি। জোট সরকারের আস্হাভাজন অফিস সহকারী জোবাইর অনিয়ম ও উৎশৃঙ্খল কাজে খোদ তার সহকর্মীরাও বিরক্ত। খোঁজনিয়ে জানাগেছে, এতসব অঘটনের কুশিলব হলেও তিনি চাকরির বদলিতে ভূমি অফিসেই সুবিধা জনক পোস্টিং ভাগান সব সময়।চাকরি জীবনে গ্রামের বাড়ি কুতুবদিয়ার বড়খোপে অসংখ্য জমি কিনেছেন তিনি।রয়েছে স্ত্রী- সন্তান ও পিতার নামে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক একাউন্টে কোটি কোটি টাকা সহ নিজস্ব প্রাইভেট নোহাগাড়ি।অফিস সহকারী জোবারুল ইসলাম রাশেল ২০০২ সালে ছিলেন কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি। এর পূর্বে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে হরতালকালীন তিনি কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন ভাংচুর মামলারও আাসামী।পরে জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে ঐ মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি তার ভাগ্যে জুটে যায় ছাত্রদলের উপজেলা সভাপতির পদ।এ পদে থেকে তিনি ঠিকাদারি কাজ করতে গিয়ে কুতুবদিয়া এলজিইডির কয়েক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে নাজেহাল ও শারীরিক আঘাতের অভিযুক্তও হন।তৎ সময়ের জেলা ছাত্রদলের উবর্ধতন নেতারা বিপদগামী এই জোবাইরকে কয়েকবার সতর্ক করলে কোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেন তিনি।বর্তমান সরকার ডিজিটাল ভূমিসেবায় সেবাপ্রার্থীদের সেবা সহজ করলেও জোবাইয়েরের টেবিলে তা আদায় করাটা কঠিন ব্যাপার।সেবাপ্রার্থী এলাকাবাসীর দাবি বিএনপির এক সময়ের উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি যেভাবে ফাইল ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি, রেকর্ড সংশোধন নামজারিতে অঢেল

টাকা দাবি করাটা সরকারের মহতি উদ্যেগকে জনগনের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।ভোক্তভোগী শাহপরির দ্বীপের মোঃ এনাম জানান,এ সহকারীর টেবিলে ঘুষছাড়া ফাইল নড়ে না।একই দাবি সাবরাং এর আবুল কালামের।লেঙ্গুড় বিলের মোঃ তৈয়ব বলেন,তার কাছে আমার একটি খতিয়ান টাকার দাবিতে আটকা আছে।টেকনাফ সদরের আবু নোমান ও হালিমা বেগমের অভিযোগ রেকর্ড সংশোধনী মামলা ঘুষের কারণে অগ্রবর্তী করছে না তামিল শাখায়।তিনি এ কাজে ২০ হাজার টাকা নজরানা চান।একইভাবে তার কাছে ফাইল বন্দি রয়েছে শাহাপরীরদ্বীপ মাঝের পাড়ার নুরুল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা বেগম ও তার বোন শামসাদ বেগমের বন্দোবস্তি মামলাটিও।সেবাপ্রার্থী এ দু,মহিলার কাছথেকে মামলা অগ্রবর্তীর প্রলোভন দেখিয়ে অফিস সহকারী জোবাইয়ের প্রতিজন থেকে দেড় হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।আরোও অতিরিক্ত টাকার দাবিতে জোবাইয়ের তাদের মামলা বড়কর্তার কাছে উপস্হাপন করছে না বলে জানান অভিযোগকারী মহিলারা।একই কাজের জন্য মৃত দলিলুর রহমানের পুত্র নুর মোহাম্মদকেও দেড় হাজার টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য করেছে সহকারী জোবাইর।ফলে এসব ভুমিহীনরা মাথাগুজার ঠাঁই থেকে বঞ্চিত হয়ে করুন দিনাতিপাত করছে।

এ রকম অসংখ্য ভোক্তভোগীর দাবি,তাহলে কি এই অফিস সহকারী সরকারের ডিজিটাল সেবাকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে তাদের অনুসারীদের ইচ্ছা পূরণে লিপ্ত?নাকি সেবাপ্রার্থী জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার মিশনে এমন কর্মকাণ্ড।বহুু অনিয়মের কান্ডারী বিএনপির অনুসারী এই জোবাইরকে অন্যত্র বদলি, তার কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপর্ক্ষ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্হা সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা সকলের।তাছাড়া সারাদেশে দূর্নীতির রথি মহারথীরা দূদকের জালে ধরা দিলেও জোবাইর কেন ধর্তব্যের বাইরে এ প্রশ্ন জনগনের। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহন না করলে উন্নয়মুখী সরকারের ডিজিটাল ভূমি সেবা টেকনাফ উপজেলায় মুখ থুবড়ে পড়বে বৈ কি? এই বিষয়ে অফিস সহকারী জোবাইরের মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এসব অনিয়মের সাথে তিনি জড়িত নন।সহকর্মীদের কয়েকজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।এসব অভিযোগ তারই বহিঃপ্রকাশ। সহকারী জোবাইরের বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভুমি)আবুল মনছুর বলেন,সুনিদৃষ্ট অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্হা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: