মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

ইনানীতে অধিগ্রহণের বিরোধ পূর্ণ্য জমি তদন্ত গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তদন্ত না করে পালালো ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা

  • সময় মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের ইনানীতে কোস্টগার্ডের অধিগ্রহণকৃত বিরোধপূণ্য জমি তদন্ত করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে তদন্ত না করে পালিয়েছে জেলা প্রশাসণের ভূমি অধিগ্রহণ ১নং শাখার ভূূূূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোঃ শামীম হুসাইন।
গত ১৩মার্চ (শনিবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী এলাকায় কোস্টগার্ডের অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত মালিক তদন্ত করতে গিয়ে সাংবাদিকদের দেখে তিনি পালিয়ে যায়।

স্থানীয় ইনানী এলাকার রুহুল আমিন নামে ব্যাক্তি জানান, মৃত আব্দুর রহমানের বায়োবৃদ্ধ পুত্র সৈয়দ আহমদ (৭০)এর ১ একর ৫৭শতক দখলীয় জমি কোস্টগার্ড অধিগ্রহণ করেন। এ অবস্থায় সৈয়দ আহমদের জমির দলিল জালিয়াতি করে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার যোগসাজশে অধিগ্রহণের টাকা স্থানীয় জামাত নেতা সৈয়দ আলম গং রা উত্তোলন করার পায়তারা করেন।
খবর পেয়ে জমির প্রকৃত মালিক সৈয়দ আহমদ ও তাঁর স্বজনরা আদালতে মামলা করেন এবং অধিগ্রহণের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা রাখা জন্য আবেদন। করেন।
আদালতে চলমান মামলা ও কোষাগারে অধিগ্রহণের টাকা জমা রাখার আবেদনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে জামাত নেতা সৈয়দ আহমদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হুসাইন ও সার্ভেয়ার হযরত আলী জমির প্রকৃত মালিক তদন্ত করতে আসেন।
এসময় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হুসাইন জায়গায় সৈয়দ আহমদের দখলীয় সাইন বোর্ড দেখেন এবং গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি দেখে এখানে সাংবাদিক কেন বলে তড়িৎ গতিতে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমার জীবনে প্রথম দেখেছি সরকারি কর্মকর্তারা মোটা অংকের ঘোষ খেয়ে প্রকৃত মালিককে বঞ্চিত করার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতির অজুহাতে পালিয়ে যাওয়ার।

এদিকে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিক সৈয়দ আহমদ বলেন, আর,এস, ৮৩৯ নং খতিয়ানের ০৪/০৯/১৯৪৫ ইংরেজি তারিখে ৫৫৪ নং কবলা মূলে ছৈয়দুর রহমান মালিক হন। উক্ত ছৈয়দুর রহমানের নামে এম,আর,আর, ৮৮৪ নং খতিয়ান প্রচারিত হয়। এম,আর,আর,৮৮৪ নং খতিয়ানভুক্ত আর,এস, ৩৭৮, ৩৭৯,৩৮০ ও ৩৮১ দাগাদির মোট ০২.৬৪ একর জমির খাজনা অনাদায়ীর কারণে ছৈয়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৪৭/১৯৮১—৮২ইং নং সার্টিফিকেট মোকদ্দমা হয়। উক্ত সার্টিফিকেট মোকদ্দমা মূলে ০২.৬৪ একর জমি নিলামে উঠে। ২৫/০১/১৯৮৩ ইং তারিখ ০২.৬৪ একর জায়গাটির সর্বোচ্চ নিলাম মূল্য ডাককারী হিসাবে উক্ত জায়গা নিলাম খরিদ করি এবং ২৫/০৩/১৯৮৩ ইং তারিখে নিলাম বহাল হয়। ২১/০৪/১৯৮৪ইং তারিখে আমাকে (ছৈয়দ আহমেদ পিং মৃত আবদুর রহমান) ভূমি বিক্রির সার্টিফিকেট ও বায়নানামা প্রদান করেন এবং নিলাম খরিদ মূলে উপরোল্লিখিত খতিয়ানের ০২.৬৪ একর জায়গার দখল বুঝিয়ে দেন। আমি উক্ত ০২.৬৪ একর জমির নিলাম খরিদ মূলে প্রাপ্ত হয়ে ১৯৮৪—৮৫ইং সালে ২২(১)নং মিউটেশন মোকদ্দমার হুকুম মতে এম,আর,আর, ৮৮৪ নং খতিয়ান হতে ছৈয়দুর রহমানের নাম কর্তন করে আমার নাম (ছৈয়দ আহমদ) লিপি করেন। এই প্রতারক চক্রটি আমার নিলাম খরিদা মূলে ক্রয়কৃত জমি আত্মসাৎ করার অপচেষ্টা হিসাবে ১৯৮৯ ইংরেজী সালে জনৈক নুর জাহান নিলামকে চ্যালেঞ্জ করে হকসফি’র আবেদনে মিচ ১/৮৯ ইং মামলা দায়ের করেন। উক্ত মিচ মামলা মনজুর করলে তৎ বিরুদ্ধে আমি ( ছৈয়দ আহমদ) নিলাম খরিদদার জেলা জজ আদালতে মিচ আপিল ২৮/৯০ ইং দায়ের করি। উক্ত মিচ আপিল২৮/৯০ইং মামলাটি খারিজ করলে তৎ বিরুদ্ধে আমি নিলাম খরিদদার ছৈয়দ আহমদ মহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন ১৩৮০/৯৫ ইং দায়ের করলে মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত সিভিল রিভিশন মামলা ১৯৯৯ সালে মঞ্জুর করে বিজ্ঞ নিন্ম আদালতের রায়—ডিক্রি খারিজ করে দেন এবং আমি (ছৈয়দ আহমদ) কতৃর্ক খরিদ কৃত নিলাম বহাল রাখেন। অর্থাৎ আমি (ছৈয়দ আহমদ) নিজেই নিজ নামে নিলাম খরিদের পর হতে অর্থাৎ ১৯৮৪ ইংরেজি সন হতে ১৯৯৯ইং সন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর আইনি লড়াই করে মালিক স্বত্ববান ও দখলকার অবধারিত থাকি। এরপর প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য আমার (ছৈয়দ আহমদ) চাচাতো ভাইয়ের ছেলে উখিয়ার নিদানিয়ার ছৈয়দ আলম (পিতা:- দুর্লোভের বশবর্তী হয়ে আমার জায়গাটি আত্মসাৎ করার কু—মানসে উঠে পড়ে লাগে। তারই অংশ হিসাবে জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমার স্বাক্ষর জাল করে ০৩/১১/১৯৮৩ইংরেজি তারিখের রেজিঃকৃত ৭২৭৭নং মুক্তিনামা দলিল প্রদান করে বলেন আমার ০২.৬৪ একর জায়গাটি তার বলে দাবী করেন। অথচ নিলাম খরিদদার মূলে সরকার কতৃক আমাকে সার্টিফিকেট ও বায়না নামা প্রদান করেন ২১/০৪/১৯৮৪ ইংরেজি সনে। প্রতারক ছৈয়দ আলম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুক্তি নামা দলিল সৃজন করলেন ১৯৮৩ সনে। তাছাড়া মুক্তিনামা স্বত্বের দলিল না। মুক্তিনামা মূলে কাহারো স্বত্ব জায়না কিংবা স্বত্ব আসেনা ( 11 DLR 539, 19 DLR 33)।

তিনি বলেন, সরকার আমাকে নিলাম খরিদদার মূলে উল্লেখিত জমির সার্টিফিকেট ও বায়নানামা প্রদান করেন ১৯৮৪ইং সনে। আর প্রতারক ছৈয়দ আলম (পিতা- মৃত আজিজুর রহমান) সেই জমির মুক্তিনামা দলিল সৃজন করলেন ১৯৮৩ ইংরেজি সনে। সরকারের কাছ থেকে উল্লেখিত জমি খরিদ করার আগে কি করে আমি মুক্তি নামা দলিল প্রদান করলাম ? এই প্রশ্ন আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও প্রতারক ছৈয়দ আলমের কাছে রাখলাম।

ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক আমার নিলাম খরিদকৃত জায়গা ১০৪৬ খতিয়ান থেকে ১.৫৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করেছে। উক্ত অধিগ্রহণ কৃত জায়গার এল,এ মামলা নং ০৭/২০১৮—১৯ ইং রোয়েদাদ নং- ০২, ০৭, ০৮, ০৯ তফশিলঃ বিএস খতিয়ান নং ১০৪৬ ও বিএস দাগ নং ৩৪৪২। ০৭/২০১৮—১৯ইং নং এল,এ মামলার অধিগ্রহনকৃত জায়গার উপর যেহেতু বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, সেহেতু বর্ণিত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষকে অধিগ্রহণকৃত জায়গার ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান না করতে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অপর ১৩৪/২০২০ইং নং মামলা দায়ের করা আছে। গত ২৬/১১/২০২০ ইং তারিখে ৮ ধারা নোটিশ দেওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কক্সবাজার ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। এগুলোকে তোয়াক্কা না করে জালিয়াত ছৈয়দ আলম

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: