শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

পটুয়াখালীতে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন, সককারের ভাণ্ডারে কোটি টাকার রাজস্ব

  • সময় রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

 মুঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল,জেলা প্রতিনিধি,

তরমুজ গ্রীষ্মকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। গরমে তরমুজ দেহ ও মনে শুধু প্রশান্তিই আনে না এর পুষ্টি ও ভেষজগুণ রয়েছে অনেক। প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে তরমুজে। রাতকানা, কোষ্ঠ-কাঠিন্য, অন্ত্রীয় ক্ষত, রক্তচাপ, কিডনিসহ নানা ধরনের অসুখ প্রতিরোধ করে। গরমের দিনে ঘামের সাথে প্রচুর লবণ ও জল বেরিয়ে যায়। তরমুজে প্রায় ৯৬ ভাগই জল এবং প্রচুর খনিজ লবণ থাকায় দেহে লবণ ও জলর ঘাটতি পূরণ করে।
যার ফলে প্রতিবছরেই পটুয়াখালী দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজ চাষে সাবলম্বী প্রায় ক’য়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক শ্রেণী। এর ফলে তরমুজ ব্যাবসায়ীরা প্রতি মৌসুমে কৃষকের নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান করছেন পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজ। যার একাংশে সরকারের ভাণ্ডারে জমা হচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব আয়।

সরজমিনে জানা যায়, পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় তরমুজ চাষের বেশ সুপরিচিত হয়ে আসছে দীর্ঘ বছর ধরে। এর ফলে প্রতি মৌসুমে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা পুঁজি খাটিয়ে নিজের বা অন্যের জমিতে তরমুজ চাষাবাদে লাভবান হয়ে দেশের কৃষিকাজে সমৃদ্ধি করে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন এসকল কৃষকগোষ্ঠী।

সম্প্রতি তরমুজ চাষের ফলন কাটা শুরু হয়েছে, যাচ্ছ দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সফল তরমুজ চাষি মোঃ ইয়াকুব জানান, প্রতি বছরেই প্রায় ১১ কানি জমিতে একশনা বা একবছরের জন্য চুক্তিনামা করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে, বিভিন্ন প্রজাতির তরমুজের বীজ সংগ্রহের মাধ্যমে চাষাবাদে তিনি সফলতার মুখ দেখতে পেয়ে অত্যান্ত খুশি, এবছর কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে, আল্লাহ্’র রহমতে অনেক ফলন পেয়ে অধিক মূল্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরমুজ চালান করছেন।

গলাচিপা উপজেলা কৃষি অফিসের একটি সূত্রে জানা যায়, মোট ২১, হাজার ৯ শত ৫২ একর কৃষি আবাদি জমিতে ধান, চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু , মরিচ, খিসারী, তিল, সরিষা, তরমুজ ও পান চাষাবাদ করায় হয়। তার মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগকালের বিবর্তনে নদী ভাঙ্গনের কারনে কিছু জমির পরিমান কমে যাওয়ার কারনে অনেক তরমুজ চাষি জীবিকার তাগিদে পারি জমিয়েছেন বিভিন্ন পেশায়।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসাম মুঠোফোনে দৈনিক গণকন্ঠ ও বর্তমান সময় কে জানান, এবছর ৭ জাহার ৬শত ৩০ হেক্টোর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। হেক্টোর প্রতি ৪০ টন ফলন উৎপাদন হলে সরকারে রাজস্ব ভাণ্ডারে প্রায় সারে ৩ হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া সরকারী ভাবে কৃষকদের বিভিন্ন প্রনদনা দেয়া অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গলাচিপা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাঈফুল্লাহ্ দৈনিক গণকন্ঠ ও দৈনিক বর্তমান সময় কে জানিয়েছেন ২১ হাজার ৯ শত ৫২ একর জমিতে  ধান, চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু , মরিচ, খিসারী, তিল, সরিষা, তরমুজ, ও পান চাষাবাদ হচ্ছে। এবছরো চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। যার কারনে প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী এবং ব্যাবসায়ীরা সফলতার মুখ দেখছেন।

এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শত করা ৮৫ ভাগ’ই কৃষিজাত পণ্যের উপর নির্ভরশীল হওয়াতে প্রতি তরমুজ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ সুস্বাদু রসালো ফল তরমুজ চালানের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আয় করছেন। কৃষিক ঘুরে দাড়াতে বর্তমান সরকার সহজ সর্তে কৃষিঋণ, কৃষি প্রনদনা দিয়ে সহযোগীতা করে আসছেন এবং অব্যাহত থাবে বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: