শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

রাতারাতি বাংলাদেশি বনে যাওয়া রোহিঙ্গা রফিক বর্তমানে ইয়াবার বড় আড়তদার

  • সময় শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১
  • ৯২০ বার পড়া হয়েছে

মায়ানমারের নাগরিক শফিউল্লাহ এর ছেলে মোহাম্মদ রফিক; তার বাবা মা দুজনই বতর্মানে মিয়ানমারে বসবাসরত।
রফিক মায়ানমার থেকে চুরাই পথে বাংলাদেশে আসলেও থাকেনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কাগজে কলমে সে এখন বাংলাদেশি নাগরিক।

বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারে পরিচয় হয় কক্সবাজার পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের সমিতি পাড়ার বাসিন্দা মৃত হাফেজ উল্লাহর সাথে। হাফেজ উল্লাহ ও তার স্ত্রী লাকি বেগম রফিক কে তাদের ঘরে আশ্রয় দেয়। কিছুদিন তাদের ঘরে অবস্থান নেওয়ার পর রফিক হাফেজ উল্লাহর পরিবারের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলে; নিজেকে পরিচয় দেয় তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে। ঐ এলাকায় স্থায়ী লোকজন কম হওয়াই সুবিধা হয় তার।

হাফেজ উল্লাহর ছেলেরআরমানের ভাষ্যমতে, রফিক কৌশলে তাঁর মা বাবা এর জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি করে টাকার বিনিময়ে ভোটার হয়ে বর্তমানে সে কাগজে কলমে ১নং ওয়ার্ডের স্হায়ী বাসিন্দা; বাংলাদেশি আইডি কার্ডদারী স্থায়ী নাগরিক।

তার জাতীয় পরিচয় প্রত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলো,
(নাম – মো:রফিক, পিতা- মৃত হাফেজ উল্লাহ, মাতা- লাকি বেগম, ঠিকানা- কুতুবদিয়া পাড়া, ফদেনার ডেইল, ডাকঘর- কক্সবাজার, কক্সবাজার পৌরসভা কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার )।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন,
পৌর কাউন্সিলর আক্তার কামালকে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে সে ভোটার হয়েছে। আমি রফিকের খুব কাছের একজনের কাছ থেকে এই কথা শুনেছি সে আরো বিভিন্ন জনকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন তারাও জানে কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলবেন না। তবে এই বিষয়ে জোরালো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পৌর পরিষদ সদস্য ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আক্তার কামালের কাছে এই বিষয় জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলে কল রিসিভ করেননি তিনি।

এর পর লেডি ডন খ্যাত আলোচিত মাদক চোরাকারবারি সাজুকে বিয়ে করেন রফিক। সাজুর রফিককে বিয়ে করার আগেও দুইজন স্বামী ছিলো বলে জানা যায়। লোকমুখে শোনা যায় রফিক সাজুকে বিয়ে করার কারণ ছিলো তার অবৈধ ব্যবসা বাঁকিয়ে বিনা প্ররিশ্রমে টাকা কামানো। পরিকল্পনা মাফিক রোহিঙ্গা লোকজন নিয়ে তৈরী করে ইয়াবা সিন্ডিকেট। পুরো কক্সবাজার জেলায় সুকৌশলে প্রচার করতে থাকে ইয়াবা। রফিক ও তার স্ত্রী সাজু এবং তাদের অন‍্যতম সহযোগী শালিকা মুর্শিদা। তিনজনে মিলে চালাচ্ছে তাদের অপরাধ সম্রাজ্য।

“মুর্শিদা বেগম” মার্ডার মামলায় বারো বছরের সাজাপ্রাপ্ত জেল ফেরত আসামি বলে জানাযায়, জেল থেকে বেরিয়ে কক্সবাজার শহরের ঘোনার পাড়া এলেকার এক জনের সাথে সংসারও পেতে ছিল সে। সেই ঘরে তার একটি সন্তানও রয়েছে, কিন্তু সেই সংসারটিও টিকেনি বেশি দিন। তার কোলের শিশুকে ফেলে চলে আসে বোনের ব‍্যবসা সামলাবে বলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা য়ায়, তাঁরা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়, চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, বানোয়াট মামলা, ইয়াবা পাচার, মানব পাচার, সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছ।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানাযায়, রফিকের বাড়াটিয়া শহরের ফিশারী ঘাট এলাকার মোহাম্মদ হাসেমের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন প্রকাশ (হোসেন মোহাম্মদ)বছর খানেক আগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক হয় টেকনাফে। যার জি আর মামলা নং ৬৬৩/১৬। এই কাজের মূল মাষ্টারমাইন্ড ছিলেন সাজু ও তার বাড়াটিয়া কাজলী,সাজুর আপন ছোট বোন ; তাঁর নামও কাজলী এবং আরেক বাড়াটিয়া মোহাম্মদ জামাল।

পূর্ব সমিতি পাড়ার এক সমাজসেবীর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি আলোকিত উখিয়াকে জানায়,
রফিক বছর খানেক আগে তার নিজ বাড়ি হতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে আটক হয় এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ ও করেছে মাদক মামলা নিয়ে।

স্বামী স্ত্রীর এই নীল নেশার ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছেনা সমাজের প্রায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ। মরণ নেশার ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য, প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার পরামর্শ শহরের সচেতন নাগরিক মহলের।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: