শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

রাশেদ মোহাম্মদ আলী ক্যাং এর ভূমি দখল অস্বীকার করলেও পূর্বে ক্যাং এর জায়গা লীজ নেওয়ার কথা স্বীকার করে

  • সময় মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-(২)
হ্নীলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আমাদের প্রতিনিধির কাছে কোন প্রকার ক্যাং এর জায়গা দখল করেননি বললেও ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী তারিখ জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে তার পাঠানো প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে স্বীকার করেন জনৈক উকুশলা ভিক্ষুর কাছে থেকে ১৫০ টাকা মূল্যামানের নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেওয়ার কথা স্বীকার করে রাশেদ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে। তিনি(রাশেদ মোহাম্মদ আলী) উক্ত প্রতিবাদ লিপিতে আরো স্বীকার করেন দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারের জায়গা তার দখলে থাকার কথা। (সূত্র জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও স্থানীয় দৈনিক হিমছড়ি তারিখঃ১৮/০২/২০১১ইংরেজী তারিখ)। উল্লেখ্য তৎকালীন সময়ে রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও তার পোষ্য জনৈক রাখাইন নেতা ক্য হ্লা উ ও উ কূ শ লা ভিক্ষু স্বীকারোক্তির সত্যতা প্রমাণ করেন তৎকালীন সময়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। সভাপতি নামধারী ক্য হ্লা উ’র পরামর্শে প্রয়াত উ উপঞ্ঞা বংশ মহাথেরোর উত্তরাধিকার সেজে অধ্যাপক মোঃ আলী,ওসমান এবং হাফেজদের নিকট ভন্ড ভিক্ষু উ কু শ লা’র স্বাক্ষরে ১৫০ টাকা মূল্যমানের নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে হস্তান্তর করার যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার রক্ষা কমিটির কাছে।

রাশেদ মোহাম্মদ আলী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টার অংশ হিসাবে বৌদ্ধ বিহারের পার্শ্ববর্তী নিরহ লোকজনের উপর মিথ্যা অভিযোগ করে নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতন চালাতে থাকে। যার জলন্ত প্রমাণ জনৈক নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরুকে রাশেদ মোহাম্মদ আলী তার লালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার মালিকানাধীন হ্নীলা দরগাহ ষ্টেশনের পার্শ্ববর্তী ফিলিং স্টেশনে এনে বেদম মারধর করেছিলেন। গুরুতর আহত নুরুল ইসলাম নুরু টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে হুমকি প্রদান করেন যেন কোন প্রকার আঘাতের মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান না করেন। শুধু তাই নয় এই ভূমিদস্যু বিগত ২২/০২/২০১১ ইংরেজি তারিখে দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারের দানানুষ্টানের জন্য দায়ক মংহ্লা বাজার করে ফেরার পথে রাশেদ মোহাম্মদ আলী তার ফিলিং স্টেশনের ধরে নিয়ে গিয়ে বিদ্যুৎতের খুঁটির সাথে বেধে বেদম মারধর করে। উক্ত ঘটনা তৎকালীন টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রনজিত বড়ুয়াকে জানালে টেকনাফ থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় বৌদ্ধ বিহারের দায়ক মংহ্লাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু সুচতুর গড ফাদার রাশেদ মোহাম্মদ আলী তার লালিত ভন্ড ভিক্ষু উ কু শলাকে বিগত ২৩/০২/২০১১ ইংরেজি তারিখে টেকনাফ থানায় পাঠিয়ে মংহ্লাকে মারধরের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে উ কু শলা বাদী হয়ে ৮ জনকে বিবাদী করে এক খানা মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

যাতে মংহ্লাকে মারধরের ঘটনায় জড়িত গড ফাদার রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও তার লালিত সন্ত্রাসীরা মামলার আসামী না হয় সেই জন্যে রাশেদ মোহাম্মদ আলীর লালিত উ কু শলা টেকনাফ থানায় উক্ত মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন বিজ্ঞ আদালতে ১৫১নং একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এই ভূমিদস্যু রাশেদ মোহাম্মদ আলীর অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল। বিগত ১৪/০২/২০১১ ইংরেজি তারিখে একদল সাংবাদিক আক্রান্ত বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে আসেন এবং সরজমিন অনুসন্ধান করে দেশ-বিদেশের প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া গুলোতে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ পায়। বিগত ১৭/০২/২০১১ইং তারিখে দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারের দায়ক দায়িকাগণ সহ বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র ফোরাম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে মৌন মিছিল সহকারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে একটি মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একখানা স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছিল।

ভুমিদস্যু রাশেদ মোহাম্মদ আলীর হাত থেকে দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারের জায়গা রক্ষার্থে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে দুস্কৃতিকারীদের নাম উল্লেখ করে বিগত ০৩/০৫/২০১১ইং তারিখ দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাদী হয়ে উ কু শলা ভিক্ষু, রাশেদ মোহাম্মদ আলী, ক্য হ্লা উ ও ইদ্রিস সহ আরো ছয় জনের নাম উল্লেখ করে একখানা অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। উল্লেখ্য তৎকালীন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই অভিযোগ পত্রটি হস্তান্তর করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। যাহার টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নং ৫৩৮ তারিখ ০৩/০৫/২০১১ ইংরেজি। কিন্তু অদ্যাবধি এই অভিযোগের কোন প্রকার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি বলে জানা যায়। ভূমিদস্যু রাশেদ মোহাম্মদ আলী বৌদ্ধ বিহারের জায়গা দখল মজবুত করতে শতবর্ষী বড় বড় ফলজ ও বনজ গাছ কেটে সেখানে অন্যান্য গাছের চারা রোপন করে বিহারের জায়গা কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে যাচ্ছে। অবৈধ দখলদার হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে রাশেদ মোহাম্মদ আলী এই দখল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বৌদ্ধ বিহার রক্ষা কমিটির সদস্যরা। এত কিছু করার পরও যখন দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার ও বিহারের জায়গা রক্ষা করতে পারছেনা তখন মাটি কেটে অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে বিগত ২৪/১১/২০১১ইংরেজি তারিখ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিকার পেতে একখানা আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে টেকনাফ থানা কতৃপক্ষ বাদী বৌদ্ধ বিহার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ক্য জ অং উপস্থিত হলেও বিবাদী গং থানায় উপস্থিত হয়নি। থানা কতৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষেরা।

বিগত ০৪/০১/২০১২ ইংরেজি তারিখে কক্সবাজারে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মোহাম্মদ নাদিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ৩৮ নং স্মারক মূলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কতৃক প্রেরিত /তদন্ত প্রতিবেদন (উনিঅ/টেক/কক্স/৫-৯/১১-২২৯(১) তারিখ ০৩/০৫/২০১১খ্রিঃ) বর্ণিত ০১ নং খাস খতিয়ানের জমি হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) টেকনাফে পত্র প্রেরণ করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) টেকনাফ ১৫ তারিখ ১৬ /০১/২০১২ ইংরেজি স্মারক মূলে তহশিলদার হ্নীলাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে নির্দেশ প্রদান করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৌদ্ধ বিহার রক্ষা কমিটির সদস্যরা। দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারের জায়গা রাশেদ মোহাম্মদ আলী জবর দখল করেনি বলে দাবী করলেও অতীতে সংবাদ সম্মেলন করে দাবী করেছিলেন দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারের জায়গা ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেওয়ার কথা।

এখন আমাদের প্রশ্ন হল রাশেদ মোহাম্মদ আলী যদি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকে তাহলে সে সংখ্যালগু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের জায়গা কি করে জবর দখল করে? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অসাম্প্রদায়িক দর্শনের বিরুদ্ধে কি করে রাশেদ মোহাম্মদ আলী অবস্থান নিতে পারে? রাশেদ মোহাম্মদ আলীর হাতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন ও তাদের উপাসনালয় কি নিরাপদ? রাশেদ মোহাম্মদ আলীর মতো ব্যক্তিরা যদি আওয়ামিলীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির মুখোশ পরে সাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের জায়গা বৌদ্ধ বিহার লুঠপাট করে তাহলে আওয়ামিলীগের অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনীতি প্রশ্নবিদ্ধ নয় কি?

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: