শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

হোয়াইক্যং রেইঞ্জ কর্মকর্তা ও রইক্ষং বিট কর্মকর্তার দুর্নীতির দীর্ঘ খতিয়ান

  • সময় রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১
  • ২৬২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধ;
রইক্ষ্যং এর ৬০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন নিয়ে হোয়াইক্যং রেইন্জ কর্মকর্তা ও রইক্ষ্যং বিট কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘতর হচ্ছে। রইক্ষ্যং বিটের বিট কর্মকর্তা মঈনুউদ্দিন চৌধুরীর ও রেইন্জ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন এর অনিয়ম দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে অবশেষে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপকারভোগীরা। উপকার ভোগীদের সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জানা যায়,টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং বিটের ২০০৩-২০০৪ এর সৃজিত ৬০ হেক্টর সামাজিক বাগান টিএফ ফান্ডের টাকা লুটপাট,বাগানের নতুন সদস্য নিয়োগের নামে অর্থ কেলেংকারী, বিট ও রেইন্জ কর্মকর্তা কর্তৃক উপকারভোগীদের সাথে অনৈতিক আচরণের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা।

ফুসে উঠেছে ৬০ হেক্টর বাগানের সকল উপকারভোগীরা। গত ৬ মার্চ (জুমাবার) হোয়াইক্যং বাজারের এক হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ৬০ হেক্টর বাগানের উপকারভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বাগান রক্ষা কমিটির সভাপতি মঈনুল ইসলাম বাবুল। এতে সাধারনণ সম্পাদক আইয়ুব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম, সহ সভাতি মোঃ হামিদ, মোঃ ইদ্রিস,হাবিবুররমান সহ সকল উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সভাপতি বাবুল বলেন,সরকার ২০০৩ সালে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে ৬ গ্রুপ লিডারের মাধ্যমে মোট ৬০ উপকারভোগীকে দলিল মূলে সৃজিত বাগান হস্তান্তর করে বন বিভাগ।

২০০৫ সালে প্রথমে বনরক্ষা কমিটির সভাপতি নির্বাচন করে আবুল কাশেম কে। উপকারভোগীরা দীঘকাল পাহারাদার নিয়োগ দিয়ে প্রথম থিনিং,২য় থিনিং শেষে ১৩-১৪ সালে বাগানের শেষ থিনিং এ ৬৪ লাখ টাকার গাছ নিলামে বিক্রি হয়। চুক্তি অনুযায়ী উপকারভোগীরা ৪০ পার্সেন্ট, সরকার ৫০ পার্সেন্ট,বাকি ১০ পার্সেন্ট নতুন বাগান সৃজনের জন্য (টিএফএফ) ব্যাংকে জমা রাখা হয়। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাগান এলাকায় আশ্রয় নিলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তৎকালিন সভাপতি সিআইসি বরাবর ক্ষতিপূরণের আবেদন করলে ইউএনএইচসিআর বাগান সৃজনের সহায়তার হাত বাড়ায়। ২০২০ সালে তখন নতুন বাগান সৃজনের জন্য স্থানিয় রেইন্জ কর্মকর্তা,বিট কর্মকতার উদ্যোগে উপকারভোগীদের এক সভা আহবান করা হয়। সভায় নতুন কমিটির উপর গুরুত্বারূপ করা হলে মঈনুল ইসলাম কে সভাপতি,আইয়ুব চৌধুরী কে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি করার ১৫ দিন পর বাগান রক্ষা কমিটি,উপদেষ্টা কমিটির কাউকে কোন কিছু না বলে বিট ও রেইন্জ কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে বাগানে চারা রোপনের কাজ শুরু করে। বাগান রক্ষা কমিটি বাগান পরিদর্শনে গেলে ৮/১০ ফুট দুরত্বে ১ফুট,দেড় ও ২ ফুট সাইজের চারা রোপন করেছে দেখা যায়।বাগানের চাহিদা অনুযায়ী চারা রোপন করা হয়নি। চারা রোপনকালে বনরক্ষা কমিটির বা উপদেষ্টা কমিটির কাউকে অবহিত করা হয়নি। বাগান অর্ধেক চারা রোপন শেষে তখন আর,ও,মতিন,বিট অফিসার মাঈনুল কমিটির শরনাপন্ন হয়ে বৈঠক ডাকে। বৈঠকে বলা হয়,এনজিও সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বাজেট শেষ। তখন তারা উপকারভোগীদের জমাকৃত টিএফফান্ডের টাকা দিতে বলে। এক পর্যায়ে উপকারভোগীদের যৌথ স্বাক্ষরিত ব্যাংক এর ব্যালেন্ক চেক নেয়। পরে ব্যাংকের একাউন্ট চেক করে দেখা যায়,একাউন্ট শূন্য। তারা উভয় কর্মকর্তা মিলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। তবে তারা সেই উত্তোলিত টাকা কোন কাজে ব্যয় করেছে আমাদের জ্ঞাত করেনি। অথচ উপকারভোগীরা প্রায় ১০ লাখ টাকা উক্ত বাগানের খরচ করেছে,নতুন সদস্যদের ২লাখ ৫০ হাজার টাকার দায়ভার কে নিবে। অপরদিকে টিএফ ফান্ডের উক্ত টাকা কোন খাতে খরচ হয়েছে? আর,ও, মতিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সদোত্তর না দিয়ে কিসের টাকা! আমার নিজস্ব ৪ লাখ টাকা বেশী খরচ হয়েছে বলে দাবী করে।

১ মাস পর দেখা যায়, কমিটির অগোচরে কোন পরামর্শ ছাড়াই ৬০ হেক্টর বাগানে নতুন সদস্য নেয়া হবে মর্মে মাইকে প্রচারণা চালায়। অবৈধ উপায়ে টাকা আত্মসাত করার মন মানসিকতা নিয়ে ভুমি দস্যুদের বাগান ইজারা দিতে নতুন সদস্য নিতে গোপনে ফরম বিক্রি করে। ৫ হাজার টাকা মূল্যে ৫০ জন কে ফরম বিতরণ করে ২লাখ ৫০ হাজার টাকা,আরো ২ শতাধিক ফরম বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে উক্ত সু-চতুর ২ কর্মকতার বিরুদ্ধে। শুধু এখানে শেষ নয়, বাগান করার দোহাই দিয়ে পুরাতন উপকারীভোগীদের বাদ দিয়ে একটি বৈধ কমিটি থাকা সত্বেও উক্ত কমিটি কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়ার রহস্য কি? এমন প্রশ্নের উত্তর নেই তাদের কাছে। সরকারী ৪০ হেক্টর বনজ সম্পদ উজাড় করে জনবসতি স্থাপন করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্য করেছে উভয় কর্মকর্তারা। ২০০৩-২০০৪ সালের সৃজিত ৬০ হেক্টর বাগান দখল দিতে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সদস্য নিয়োগ দিচ্ছে পাইকারীভাবে। ফরম বিতরণের নামে টাকা লুটপাট,বৈধ বনরক্ষা কমিটি কে পাশ কাটিয়ে ইচ্চেমত বন উজাড়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন দিয়ে সরকারী দায়িত্ব পালনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এই দুই বন কর্মকর্তা । এই অভিযোগ ৬০ হেক্টর বাগানের সভাপতি/সম্পাদক সহ সকলের বলে সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

হোয়াইক্যং রেইঞ্জ কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। রইক্ষং বিট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। সামাজিক বনায়ন নীতি মালার আলোকে রেইঞ্জ কর্মকর্তা একটি নোটিশ জারি করেছেন। আগের নীতিমালায় ছিল প্রতি হেক্টর জমিতে একজন করে উপকারভোগী নিয়োগ করা। বর্তমান নীতিমালা মোতাবেক এক একর জমিতে একজন উপকারভোগী নিয়োগ করতে হবে। ইউএনএইচসিআর-এর ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য টাকা এনজিওর মাধ্যমে ২০% ভাগ জায়গায় বনায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। টিএফ ফান্ডের টাকা তারা উত্তোলন করেননি বলে জানিয়েছেন। নতুন সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা জানান, টাকা নেওয়ার কথা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন।

তবে উপকারভোগীদের দেওয়া তথ্য মতে দেখা যায়, সামাজিক বনায়ন নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলে এমনটাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপকারভোগীদের দাবী দুর্নীতিবাজ রেইঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করলে এর সত্যতা প্রমাণিত হবে বলে মনে করেন উপকারভোগীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: