শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

পিতা-পুত্র যেন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির মুখোশে সাম্প্রদায়িক লুটপাটের এক বিষবৃক্ষ

  • সময় রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১
  • ২৬৯ বার পড়া হয়েছে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-(১)

বিশেষ প্রতিনিধি;

সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী ও তার ছেলে বর্তমান হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার(সেনপ্রু ক্যাং) এর জায়গা জবর দখল করা, বিহার থেকে শতবর্ষী গাছ কেটে সাবাড় করা এবং রাতের আঁধারে লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিহার ডাকাতি ও ভিক্ষু সহ বিভিন্ন উপবাসকদের মারধর করে বিহারে না আসার হুমকি ধমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ করেছে স্থানীয় সংখ্যালগু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। অভিযোগের দীর্ঘ ফিরিস্তি দেখে মনে হয়, অধ্যাপক মোঃ আলী ও তার ছেলে রাশেদ মোহাম্মদ আলী অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির মুখোশ পরে সাম্প্রদায়িক লুঠপাট করার এক জঘন্য বিষবৃক্ষ । দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার (সেনপ্রু ক্যাং) এর পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্য জ অং এর স্বাক্ষরিত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত আবেদনের আলোকে দেখা যায়, ২০০১ সালে তৎকালীন উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামিলীগ সমর্থিত সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার (সেনপ্রু ক্যাং) এর জায়গা বন্দোবস্ত পাইয়ে দেবার কথা বলে তৎকালীন দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উপঞ্ঞা বংশ মহাথেরোর নিকট স্বাক্ষর গ্রহন করেন। পরবর্তী সময়ে গোপনে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে একটি চুক্তিনামা পত্র(১৬ নং ২২/০৭/২০০১ ইংরেজি) সম্পাদন করেন। এর পর বিহার পাহাড়েস্থিত বনজ ও ফলজ গাছ কাটতে শুরু করলে বিহার অধ্যক্ষ উপঞ্ঞা বংশ মহাথেরো গাছ কর্তনে বাধা দেন।

এতে সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী তার গোপনে সম্পাদিত চুক্তি প্রকাশ করেন। বিহারাধ্যক্ষ নিজের ভুল বুঝতে পেরে নোটারী পাবলিক কার্যালয়, কক্সবাজারের ৪০০ নং রেজিঃ ২৭/০৩/২০০২ ইংরেজি মূলে উক্ত ১৬ নং চুক্তিটি বাতিল বলে ঘোষণা করেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থ থাকায় উপঞ্ঞা বংশ মহাথেরো চৌধুরী পাড়াস্থ বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানকালীন সময়ে তার শীষ্য উপঞ্ঞা জ্যোতিকে দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহারে বিহারাধ্যক্ষ হিসাবে উপঞ্ঞা বংশ মহাথেরো নিজেই দায়িত্ব দেন।

উপঞ্ঞা বংশ মহাথেরো বিগত ২৭ মার্চ ২০০৮ সালে পরলোকগমন করেন এবং উপঞ্ঞা জ্যোতি মহাথেরো বিগত জানুয়ারী মাসের ২১ তারিখে পরলোকগমন করেন। তদস্থলে বিহারাধ্যক্ষ হিসাবে স্থলাভিষিক্ত হন উপঞ্ঞা ওয়ারা ভিক্ষু। তিনি বিহারাধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীণ সময়ে সুপরিকল্পিত ভাবে বিগত ২০১০ সালের অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখ বিহারে ডাকাতি করে এবং ডাকাতেরা উপঞ্ঞা ওয়ারা ভিক্ষুকে সহ লুপ্রু ও মংফোছাকে মারধর করে বিহার ছেড়ে চলে যাবার জন্য বলে। অন্যথায় হত্যা করার হুমকি প্রদান করে ডাকাত দল। পরবর্তীতে ডাকাত দলের প্রাণ নাশের হুমকিতে বিহারাধ্যক্ষ উপঞ্ঞা ওয়ারা ভিক্ষু সহ বিহারের উপাসকগণ বিহারে রাত্রিযাপন বন্ধ করে দেয়। এই সুযোগে সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলীর ছেলে রাশেদ মোহাম্মদ আলীর লালিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বিহারের বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুর বৌদ্ধ বিহারের জায়গার শতবর্ষী বড় বড় গাছ কাটতে থাকে। খবর পেয়ে বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে দেখে বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করেছে। আশেপাশের লোকেরা রাশেদ মোহাম্মদ আলীর লালিত সন্ত্রাসীরা এই গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তবে তারা রাশেদ মোহাম্মদ আলীর লালিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে মামলার স্বাক্ষী হতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল পিআর ৩২/২০১১ তারিখ- ৯/২/১১ ইং মামলাটি।

২০১০ ইংরেজি ২৬ আগস্টের রাতে বৌদ্ধ বিহার ডাকাতি এবং বৌদ্ধ বিহার ছেড়ে চলে যাবার হুমকি বৌদ্ধ ভিক্ষু ও উপাসকদের মারধরের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছিল ২৮ আগস্ট ২০১০ ইংরেজি তারিখে। স্থানীয় চেয়ারম্যান অধিকতর কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ইউপির প্যাডে একখানা পত্র প্রেরণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টেকনাফ থানা পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন। টেকনাফ থানা পুলিশ কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে আবার ২০১০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখ গভীর রাতে একদল সশস্ত্র ডাকাত দল ক্যাং ঘরের প্রায় ৩০টি তক্তা খুলে নিয়ে যায়। এ ব্যপারে ৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালে টেকনাফ থানায় প্রতিকার চেয়ে একখানা সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করানো হয়। বিহার কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপর্যুক্ত ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করন, ডায়েরি ও প্রতিকার চেয়ে পত্র প্রেরণ করা হলে উক্ত সন্ত্রাসী দল আরো বেপরোয়া হয়ে ৮/১০/২০১০ইং তারিখ ক্যাং ঘরের ৪০টি তক্তা এবং ২৭/১১/২০১০ইং তারিখ ক্যাং ঘরের সিঁড়ি সহ শতাধিক গাছ খুলে নিয়ে যায়।

বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) এমপির সুপারিশ সহকারে ১১১৯২ নং স্মারক ৮/১২/২০১১ইংরেজী তারিখ পুলিশ সুপার কক্সবাজার বরাবর বৌদ্ধ বিহারের সাধারণ সম্পাদক একখানা অভিযোগ দায়ের করে ছিলেন।

এই বিষয়ে চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলীর সাথে কথা হলে,তিনি আলোকিত উখিয়াকে বলেন গুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি কুচক্র মহল। আমি কোন এই জায়গার মালিক নয় দখল ও আমি করি নায় এবং গুলো আমাদের নয় যাদের জায়গা তাদের এসে বুঝে নিতে বলেন আমি নিজে দাঁড়িয়ে তাদের যা সাহায্য করবো।
আরো বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আলোকিত উখিয়া সংবাদপত্রে।

পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-(২)

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: