রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

হ্নীলা ইউপি, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হাল চারিত্রিক অবস্থা

  • সময় শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি
আসন্ন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামিলীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সংখ্যা আপাতদৃষ্টিতে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে ৯ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৯ জনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামিলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ৫ জন। নৌকার মনোনয়ন লাভের দৌড়ে যারা রয়েছেন তারা হলেন যথাক্রমে, উখিয়া -টেকনাফের সাবেক এমপি এবং টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম অধ্যাপক মোঃ আলীর মেঝ ছেলে বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী।
হ্নীলা ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মরহুম এইচ,কে, আনোয়ারের উচ্চ শিক্ষিত ছেলে উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক জাহেদ হোসেন সম্রাট, হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সম্ভ্রান্ত সিকদার পরিবারের সদস্য উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা ইসলাম সিকদার,লেদা এলাকার বাসিন্দা টেকনাফ উপজেলা আওয়ামিলীগের অর্থ সম্পাদক কামাল হোসেন প্রকাশ আমেরিকা কামাল এবং কক্সবাজারের হোটেল ব্যবসায়ী হ্নীলার বাসিন্দা সাবেক এমপি মরহুম অধ্যাপক মোঃ আলীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ইকরা মিজান সহ মোট ৫ জন বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। এই পাঁচ প্রার্থীর হাল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক জনের একেক রকম। উন্নত চরিত্রের অধিকারীদের ব্যক্তিগত ইমেজ ঈর্ষনীয় পর্যায়ে থাকে। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় ইমেজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। যার ব্যক্তিগত ইমেজ যতবেশি শক্তিশালী হবে সেই প্রার্থীর জয়যুক্ত হবার সম্ভাবনা তত বেশী থাকে।
আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ জন প্রার্থীর মধ্যে স্থানীয় ভাবে কার অবস্থান কত টুকু শক্তিশালী এবং দলীয় মনোনয়ন লাভের এই দৌড়ঝাঁপের মধ্যে কে কে এগিয়ে রয়েছেন। দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায় মনোনয়ন লাভের ক্ষেত্রে এগিয়ে ১৯/২০ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন দুই জন। একজন হলেন সাবেক সাংসদ মরহুম অধ্যাপক মোঃ আলীর ছেলে হ্নীলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও অপর জন হলেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম ক্লিন ইমেজেধারী প্রথম সারীর নেতা হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মরহুম এইচ, কে, আনোয়ারের ছেলে টেকনাফ উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত জাহেদ হোসেন সম্রাট। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসাবে দলীয় মনোনয়ন লাভের ক্ষেত্রে এই দুই জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করেন স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতা কর্মীরা।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ক্লিন ইমেজের দিক দিয়ে জাহেদ হোসেন সম্রাটের অবস্থান শক্তিশালী বলে মনে করেন স্থানীয় গ্রাম্য রাজনীতির বোদ্ধারা। অপর দিকে স্থানীয় রাজনীতিতে চরম ইমেজ সংকটে ভুগবেন বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী। এর পেছনের অন্যতম কারণ হক তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সংখ্যালগু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বৌদ্ধ বিহারের জায়গা ও শ্মশানের জায়গা জবরদখল করার অভিযোগ যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে মরণ নেশা ইয়াবা কারবারি বা ইয়াবা কারবারিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দানকারী গডফাদার হিসাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ইয়াবা কারবারি হিসাবে তালিকাভুক্ত হবার কারণও আছে বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে। এই দুই কারণে দলীয় মনোনয়ন লাভের ক্ষেত্রে রাশেদ মোহাম্মদ আলী ব্যক্তিগত ভাবে চরম ইমেজ সংকটে ভুগবেন এমনটাই মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অপর দিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেননা। সেই ঘোষণা মতে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থী থাকবেনা। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত তিন জন প্রার্থীর মধ্যে যেকোন একজনেই নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এটা এক প্রকার নিশ্চিত বলা যায়। তবে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও হ্নীলা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হ্নীলা ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিএনপির হ্নীলা ইউনিয়ন শাখার কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।
নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা এবং দলীয় মনোনয়ন পরবর্তী সময়ে বলা যাবে নির্বাচনে দলীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কে কে অংশ নিবেন আর কে কে অংশ নিবেন না তখন বলা যাবে। এদিকে সরজমিন ঘুরে স্থানীয় ভোটারদের ভোট আলাপ চারিতায় দেখা যায় আওয়ামিলীগ দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে ভুল করলে স্থানীয় সংখ্যালগু ভোটাররা আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথা নৌকা প্রতীকের বিপরীতে ভোট প্রয়োগ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে এমনটাই মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যা এই ইউনিয়নে আওয়ামিলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী যেমন জয় পেয়েছিলেন আবার বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছিলেন। এক কথায় বলতে গেলে যে দলের মনোনীত প্রার্থীরা স্থানীয় ভোটারদের কাছে যত বেশী ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন ব্যক্তিত্ববান হবেন সেই দলের মনোনীত প্রার্থীর জয়লাভ করার সম্ভাবনা ততই বেশী থাকবে। এটাই হল হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অতীত ইতিহাসের বাস্তবতা।

আগামী পর্বে প্রকাশিত হবে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে কেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের (উপাসনালয়) বৌদ্ধ বিহারের জায়গা জবর দখলের অভিযোগ করেছে ? কেনই বা বৌদ্ধ বিহার ভবনে রক্ষিত বৌদ্ধ মূর্তি ও ভবনের খুঁটি, তক্তা সহ নানা মূল্যবান জিনিস পত্র চুরি ও ডাকাতির ইন্ধন জোগানোর অভিযোগের তীর কেন রাশেদ মোহাম্মদ আলীর দিকে? তার মরহুম পিতা সাবেক এমপি মরহুম অধ্যাপক মোঃ আলীর বিরুদ্ধেও কেন বৌদ্ধ বিহারের জায়গা জবর দখলের অভিযোগ ? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত মরন নেশা ইয়াবা তালিকায় কেন রাশেদ মোহাম্মদ আলীর নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে? এর সত্যতাই বা কত টুকু ? এর পেছনের কাহিনীই বা কি ? সত্যিকার অর্থে রাশেদ মোহাম্মদ আলীরা এই ঘটনা সংঘটিত করেছেন ? না কি কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন?
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সরজমিন অনুসন্ধান করে অনুসন্ধান পরবর্তী যে তথ্য উপাত্ত পাওয়া যাবে সেই তথ্য উপাত্ত গুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে দৈনিক আলোকিত উখিয়া সংবাদপত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। নিয়মিত চোখ রাখুন দৈনিক আলোকিত উখিয়া সংবাদপত্রে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: