সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

পটুয়াখালীর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানে না নতুন প্রজন্ম,

  • সময় রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

ভাষা সৈনিকদের নামফলক সহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি!
মুঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, জেলা প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।

পটুয়াখালীর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানে না নতুন প্রজন্ম। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রক্ষায় পটুয়াখালীর ভাষা সৈনিকদের নামফলক সহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মণের দাবি ভাষা সৈনিকদের পরিবারের। রাষ্ঠ্রভাষা বাংলা চাই স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছিল দেশজুড়ে। তখন পটুয়াখালী মহাকুমা শহড়ে আন্দোলনের ঢেউ বয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীর হতিহাস সমৃদ্ধ করেছে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। অথচ নতুন প্রজন্মের কাছে আজও অজানা সেই ইতিহাস।

১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শহড়ে নতুন বাজারস্থ আজাদ ফার্মেসীর পাশে কাদের হাওলাদারের বাসায় গোপনে কবি খন্দকার খালেককে আহবায়ক এবং প্রয়াতো জালাল উদ্দিন আহম্মেদকে যুগ্ন আহবায়ক করে পটুয়াখালী মহাকুমা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষোদ গঠন করা হয়।

কমিটি গঠনের সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর কৃতি সন্তান তৎকালীন বরিশাল জেলার রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষোদের সভাপতি আবুল হাসেম, প্রয়াতো আলী আশ্রাফ, প্রয়াতো আবদুল করিম মিয়া। ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গে
মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন পটুয়াখালীর এবি এম আবদুল লতিফ।

ভাষা আন্দোলনের পটুয়াখালী মহাকুমা কমিটিতে ছিলেন আজাহার উদ্দিন, আবুল হোসেন আবু মিয়া, প্রয়াতো বিরেশ্বর বসু, শিক্ষক অতুল চন্দ্র দাস, এ্যডভোকেট গোলাম আহাদ
চৌধুরী, প্রয়াতো এ টি এম ওবায়দুল্লাহ (নান্নু মিয়া), মজিবুর রহমান নয়া মিয়া, প্রয়াতো জয়নাল আবেদীন সিকদার, কমরেড রাখাল ব্যানাজর্ী, সাহাদাৎউল্লাহ, আবদুল খালেক, কাজল আহাসান, দেবীদাস, এ্যাডভোকেট মরহুম আবদুল মতলেব, শ্যামল চট্টোপাধ্যায়, ধ্রুব য্যোতি দত্ত, দলিল উদ্দিন আহম্মেদ, বিডি হাবিবুল্লাহ, সৈয়দ আশ্রাফ, এ্যাডভোকেট এমদাদ আলী প্রমুখ।

১৯৫২ সনে ২১ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায়
১৪৪ ধারা ভঙ্গের মিছিলে গুলি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে পটুয়াখালীর মহাকুমা কমিটি
গোপনে বৈঠক করে আজাদ ফার্মেসীর দোতালায়। সিন্ধান্ত হয় হরতাল ও প্রতিবাদ
সমাবেশে প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এ্যাডভোকেট এমদাদ আলী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বি ডি হাবিবুল্লাহ কবি খন্দকার খালেক, জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, আবুল হাশেম, আলী আশ্রাফ। প্রতিবাদ সমাবেশে সৈয়দ আশ্রাফ ভাষা শহীদদের রক্তমাখা শার্ট প্রদর্শন করে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন।

তাতে জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এছাড়াও কবি খন্দকার খালেক তৎকালীন পটুয়াখালীর আর্ট প্রেস থেকে গোপনে রক্ত শপথ; নামে লিপলেট ছেপে বিতরন করতেন। যাতে পটুয়াখালীর ভাষা আন্দোলন বেগমন হয় অথচ পটুয়াখালী নতুন প্রজন্মের কাছে ওই সব ইতিহাস অজানা। পটুয়াখালীর ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে পটুয়াখালী মহাকুমা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামপরিষদের যুগ্ন আহবায়ক প্রয়াতো জালাল উদ্দিন আহম্মেদের সহধর্মিনী কহিনুর বেগম জানায়, ওই সময়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে হুলিয়া থাকা সত্ত্বেও ভাষার জন্য ভাষা
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন ।

এছাড়াও ভাষা সৈনিক এ্যাডভোকেট মরহুম আবদুল মতলেবের পুত্র শহীদুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট এমদাদ আলীর পুত্র সাংবাদিক এনায়েতুর রহমান, মরহুম জয়নাল আবেদীন সিকদারের পুত্র কৃষকলীগ নেতা তসলিম সিকদার এবং ভাষা সৈনিক জালাল উদ্দিন আহম্মেদের পুত্র কবি সাংবাদিক কাইয়ুম উদ্দিন জুয়েল, পটুয়াখালীতে ভাষা সৈনিকদের নাম ফলক সহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট
কতৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে আমাদের স্বাধীনতা এসেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নতুন প্রজন্ম জানে না ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে অথচ ভাষা সৈনিকদের পরিবারের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি ভাষা সৈনিকদের নাম ফলক সহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: