সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৮:১০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

নয়নের সাগর জলে আগুন জ্বলে :

  • সময় সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

শিশুদের চোখে মুখে মেধার চিহ্ন।চোখে কষ্টের জল কিন্ত আগুনের মত জ্বলে ।লাল টক টকে।সবাই জানে মাতৃভুমির জন্য যেতে হবে। এদেশে আশ্রিত থেকে তাদের ও আছে কৃতজ্ঞতা ।
নিজেদের উপযুক্ত করতে তারাও শত কষ্টের মধ্যেও খেলা ধুলা হাসি খুশি র মধ্যে থাকে।এ শিশুরা ও এ দেশের প্রতি কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এর রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দাদের রোহিঙ্গা বলা হয়। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে রোহিঙ্গা জাতি হিসেবে নির্যাতিত হয়ে আসছে তারা ।

তাদের অধিকার ও স্বার্থরক্ষা করার দাবী নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে অগ্রসর হয়েছে তারা সময়ের পরিক্রমায় তারা বহুবার রাষ্ট্রহারা হয়ে পৃথিবীর অনেক দেশে নির্যাতিত হয়ে জীবনযাপন করেছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে আগষ্ট মাসে তাদের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়। প্রায় ৮-১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাদেরকে (এফডিএমএন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক বলা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদার অব হিউম্যানিটি, উদারতা দেখিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। যার কারণে কিছুটা হলেও রোহিঙ্গা বা রাখাইন জাতি স্বত্তার কিছুটা অস্তিত্ব হলেও টিকে আছে পৃথিবীতে আর তারা বেঁচে আছে। এ কারণে আশ্রিত সম্বল হীন ,রোহিঙ্গারা বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতার নেত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে অধিকাংশ সাধারন, শান্ত ও সহজ প্রকৃতির। ছন্নছাড়া দিশেহারা তথা কথিত কিছু রোহিঙ্গা লোকজন নিজেরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করার পায়ঁতারা করে সাধারনদের প্রভাবিত কার জন্য অপচেষ্টা করে।

ক্যাম্পের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের আর্ন্তজাতিক মানের পুলিশিং এর কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। স্বার্থ বা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য কিছু সন্ত্রাস কার্যক্রম একেবারে ব্যর্থ হয়ে গেছে।

আট থেকে দশ লক্ষ রোহিঙ্গাদের শৃংঙ্খলায় রাখা যে কি কষ্টকর তা বলে বুঝানো যাবে না। নেতৃত্বের অভাবে তারা যে দিক বিদিক তা সহজেই বোঝা যায়। সে দিকে খেয়াল না করে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীগত ঝগড়া বিবাদ নিয়ে ব্যস্ত তারা। অধিকাংশ রোহিঙ্গারা এদেশের আইনের প্রতি অনুগত এবং প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যস্ত। তাদের চোখে রাষ্ট্র উদ্ধারের আবেগময় প্রার্থনা যেন স্ফুলিংগের মত জল জল করে জ্বলছে। আজকের রোহিঙ্গা শিশু যেন ভবিষ্যতের মায়ানমার নাগরিক রাখাইন এর নেতা ।

তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার কান্নার সাগর যেন অধিকার রক্ষার অগ্নি ঝড়া। রাষ্ট্রহীন, সমাজ ছাড়া,ভিটা ছাড়া,ঘরবাড়ি শূণ্য মানুষ গুলো হতাশা বিকার গ্রস্থ হয়ে জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়। মরণ নেশা ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে অনেকে ধ্বংস হচ্ছে। জীবিকা ও উচ্চ আকাঙ্খার কারণে অনেক তরুনী অনৈতিক কাজে নেমে পড়ছে। প্রভাব শালী রোহিঙ্গারা তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য তৈরী করছে চাঁদা বাজির বিভিন্ন দল ,উপদল।

নেতৃত্বহীন অবস্থায় দিক বিদিক জ্ঞান শূণ্য হয়ে অনেকে তথাকথিত আরসা, আল-ইয়াকিন,আর মাহাজ সহ বিভিন্ন অর্থহীন সংগঠনে জড়িয়ে পড়ছে। আর তার ভোলে পড়ে তাদেরই রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সাধারণদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে এবং চাঁদাবাজি ও নির্যাতন করছে। স্থানীয় অসৎ চক্রের সাথে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মিলে মাদক ব্যবসা, ভূয়া নাগরিকত্ব কার্ড বানানো , ক্যাম্পের মধ্যে চাউল, ডাউল ইত্যাদি ব্যবসার নামে নিজেদের হ য ব র ল অবস্থা তৈরী করছে। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ থাকে পাহাড়ের উপরে, ঢালে বা পাদদেশে। তাদের আচরণ, জীবন যাত্রার মান নিয়ে প্রতিবেশী রোহিঙ্গাদের সাথে ঝগড়া, মারামারি যেন নিত্য কাজের অংশ।

কমবেশী যাই হোক তারা নিয়মিত খাবার পাচ্ছে, বস্ত্র, চিকিৎসা, বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে তারা নিজেদের মধ্যে ঐক্য গঠন করার অফুরন্ত সময় থাকা সত্বেও কিন্তু তারা নিজেদের স্বার্থ ও টাকা আয়ের জন্য বিরোধে লিপ্ত হচ্ছে। তাদের জীবন যাপন চলছে প্রকৃতির নিয়মে। ঘুম থেকে উঠে খাবার খাওয়া, আবার ঘুমানো, গল্প করা, ঘুরে বেড়ানো তারপর খাওয়া আর ঘুম। অলস আর কাজ ছাড়া জীবন হয়ে উঠেছে এক জড় পদার্থে। অলসতার কারণে তারা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণের মত অপরাধ করে যাচ্ছে। তাদের ফুটফুটে সন্তান দের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন চিন্তা নেই।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তৈরী করার পরিকল্পনা করি। তারা সেখানে অচিন্তায়, অলসতায়, হতাশ হয়ে পড়ে। তাদের শিশুদের চোখের দিকে তাকালে কান্নার সাগর যেমন দেখা যায় তেমনি আগুনের স্পৃহা জ্বল জ্বল করে। তারা অন্য দশ জনের মত খেলাধুলা হাসি-খুশিতে ব্যস্ত থাকে স্কুলে যায়। লেখাপড়া করতে যায়। তারাও সুন্দর পোষাক পড়ে বাবা ডাকে, মায়ের কোলে থাকে।

সবার মধ্যে নিজের মাতৃভূমিতে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মেদের জন্য রাজ্য উদ্ধার করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করার দূশ্চিন্তা বিদ্যমান।
তারা ই একদিন তাদের মাতৃভুমি রাখাইনের অতন্দ্র প্রহরী হবে ।এই আশাই ব্যক্ত করল।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: