রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

প্যানেল মেয়র নিয়ে নাছির-নওফেলের গোপন লড়াইয়ে ‘গেম চেঞ্জার’ রেজাউল

  • সময় রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়ে এবার শুরু হয়েছে নগরের রাজনীতির নতুন মেরুকরণের হিসাবনিকাশ। মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সাধারণ সভায় নির্বাচন করা হবে তিন সদস্যের এই প্যানেল। এই পদ পেতে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ৫৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ডজনখানেক এর মধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারীরা এর মধ্যেই প্যানেলে জায়গা করে নিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নেমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মেয়র নাছির ও শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারীদের এই যুদ্ধে নবনির্বাচিত মেয়র খুব একটা আলোচনায় না থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত জয় পরাজয় নির্ধারণে প্রকৃত অর্থে ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবেন রেজাউল করিম চৌধুরী। পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে চসিক পরিচালনায় নওফেল-নাছির প্রভাব বলয়ের বাইরে গিয়ে নিজস্ব কোন ধারা তৈরি করবেন কিনা সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে এই নির্বাচনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়র রেজাউল করিম চসিক পরিচালনায় শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারীদের সাথে সমন্বয় করে চলার সিদ্ধান্ত নিলে প্যানেল মেয়র নির্বাচনের ভোটযুদ্ধে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে থাকবেন নওফেল শিবিরের কাউন্সিলররা। অন্যদিকে রেজাউল ভিন্ন পথে ভাবলে উল্টেও যেতে পারে পাশার দান।

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় রেজাউলের সাথে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। বিভিন্ন কারণে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে আ জ ম নাছির ছাড়া আর কোনো নেতাই রেজাউলের সাথে ভোটযুদ্ধে মাঠে নামতে পারেনি। রেজাউলের কাছে মনোনয়ন খুইয়েও একলা হাতে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে রেজাউলকে নিয়ে যেভাবে চষে বেড়িয়েছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক, তা নাছির-রেজাউলের সম্পর্কে নতুন এক মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করেন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের এই রসায়ন নাছিরের অনুসারীদের মাঝে খানিকটা স্বস্তির সুবাতাস দিতেও পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, এবার প্যানেল মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। আগে এই তিনটি পদে হাতেগোনা কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও এবার সবচেয়ে বেশি হবে এই পদপ্রত্যাশী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ওয়ার্ড থেকে দুজনের বেশি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে গোপন ব্যালটে তিনজনকে নির্বাচিত করা হবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৪০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ৫৪ জন কাউন্সিলর।

৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তারেক সোলেমান সেলিমের মৃত্যুর কারণে এ ওয়ার্ডে স্থগিত হওয়া ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।

নাম প্রকাশ না করে আওয়ামী লীগ নেতা ও নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে কয়েকজন জানান, এবার নির্বাচিত কাউন্সিলরের মধ্যে বেশিরভাগই সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। সেই সূত্রে মহিউদ্দিনের বড় ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত তারা। অন্যদিকে ডজনখানেক কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, যারা আ জ ম নাছিরের অনুসারী। কাউন্সিলর হিসেবে নাছিরের মেয়াদেও ছিলেন তারা। তবে এবার দল সমর্থিত বেশিরভাগ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ছিলেন নওফেলের অনুসারী। ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলরদের বেশিরভাগ ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত তৎকালীন মেয়র নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

প্যানেল মেয়র নির্বাচনে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারীরাই এগিয়ে থাকবেন— এমন মন্তব্য করে চসিকের আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘গতবার নাছির ভাই মেয়র হয়েছেন। বেশিরভাগ কাউন্সিলরও উনার অনুসারীও ছিলেন। সেবার উনি ৩৫ জনের একটা প্যানেল করে তার মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী করে নেন। এবারে আমরা শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারীরা সেভাবে নিজেদের মধ্যে একটা আলোচনা করে একটা প্যানেল করে আগাচ্ছি। এদিক থেকে প্যানেল মেয়র হিসেবে আমিসহ আব্দুস সবুর লিটন ও নিলু নাগের নাম প্রস্তাব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

৩৫ জনের প্যানেলটি শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল করছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে জহরলাল হাজারী বলেন, ‘উনি সরাসরি কাউকে বলছেন না। আমাদের মেয়র মহোদয়ের মাধ্যমে যা করার করবেন। উনি সরাসরি ইনভলব হবেন না।’

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চম পরিষদে প্যানেল মেয়র নির্বাচনে নাছিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের নিছার উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জোবাইরা নার্গিস খান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই তিনজন এবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

এই তিনজনও এবারে প্যানেল মেয়র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে কাউন্সিলরদের জোট বেধে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করার সম্ভাবনাকে খুব একট গুরুত্ব দিচ্ছেন না জানিয়ে দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও গতবারের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, ‘কাউন্সিলররা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তারা নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে বিশ্বাস করি। প্যানেল মেয়র খালি হয়ে গেলে তো হয় না। এরপর কাজ করার যোগ্যতাও থাকতে হবে। আমি গতবার প্যানেল মেয়র ছিলাম। এবারেও প্রার্থী হয়েছি। দেখা যাক কী হয়।’

এবারের প্যানেল মেয়র নির্বাচনেও ওই তিনজনের পাশাপাশি নওফেল ও নাছিরের অনুসারী আরও অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেন আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের চারবারের কাউন্সিলর ও নগর আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারী, উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে টানা দুইবারের কাউন্সিলর ও দলের নগর কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ জাবেদ, বাগমনিরাম ওয়ার্ডে পাঁচবারের কাউন্সিলর দলের ওয়ার্ড সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, চকবাজার ওয়ার্ড থেকে ছয়বারের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, জামালখান ওয়ার্ডের দুইবারের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, ২০, ৩০ ও ৩১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের দুইবারের কাউন্সিলর ও নগর মহিলা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নীলু নাগ, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের দুইবারের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা হাসান মুরাদ বিপ্লব, ২৭, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের একাধিকবার নির্বাচিত আফরোজা জহুর (আফরোজা কালাম)।

জানা গেছে, এছাড়া আরও কয়েকজন স্বতন্ত্রভাবে প্যানেল মেয়র পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা এরই মধ্যে কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চাইতে শুরু করেছেন।

এই বিষয়ে জহরলাল হাজারী বলেন, ‘অনেকে এমনে প্রার্থী হবে। তবে মূল বিষয়টা হলো ৩৫ জন এক কথা হয়ে গেলেই হয়। আর আমরা এর মধ্যে সেসব বিষয়ে অনেকটা গুছিয়েও নিয়েছি। সবার সাথে সমন্বয় করে আমাদের প্রার্থীও অনেকটা নির্ধারণ করা হয়ে গেছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: