বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

ধামাচাপায় মোটা অংকের তদবির!

  • সময় মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের চৌফলদন্ডীতে গাছে বেঁধে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় ইউএনও’র ঘটনাস্থল পরিদর্শন- ভিকটিমকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি!

ঈদগাঁও, কক্সবাজার

কক্সবাজারের চৌফলদন্ডীতে রাতভর গৃহবধূকে রাস্তার গাছে বেঁধে নির্যাতনের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশের পর তিন দিনের মাথায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটি।এসময় তিনি নির্যাতনের শিকার ভিকটিম নুর আয়েশাসহ নির্যাতনে সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।সোমবার(৮ জানুয়ারী)বিকাল ২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এসময় উপস্থিত ছিলে চৌফলদন্ডী চেয়ারম্যান ওয়াজ করিম বাবুলসহ কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় মান্যগণ্য লোকজন।ঐসময় ভিকটিম নুর আয়েশা তার উপর বিগত ডিসেম্বর মাসের ২৯ তারিখ গভীর রাতে একদল চিহ্নিত দূর্বৃত্ত কতৃক শীতের রাতে রাস্তার গাছের সাথে বেঁধে চলানো অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।এছাড়া যার আশকারায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে সাংবাদিকদের নিকট ভিকটিম নুর আয়েশা ও তার স্বামী অভিযোগ করেছে,সেই ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ মিয়া জঙ্গি ও অপর সংশ্লিষ্ট দুর্বৃত্তদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। চেয়ারম্যান ওয়াজ করিম বাবুলের সাথে যোগাযোগ কারা হলে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিম ও নির্যাতনে জড়িতদের সাথে কথা বলেছেন,তবে ঐদিন নুর আয়েশার সাথে জাগির হোছন নামের যে লোককে গাছের সাথে বাঁধা হয়েছিল রহস্যময় কারণে সে উপস্থিত ছিলনা।চেয়ারম্যান আরো বলেন,এত বড় একটি ঘটনার পর একমাস অতিবাহিত হলেও মেম্বার বা চৌকিদার কেউ তাকে অবহিত করেনি।কেউ অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার প্রতিকার দিতে অক্ষম হলে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রধান হিসেবে পরিষদে চেয়ারম্যানের নিকট সমর্পণ করবেন।অথবা আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করবেন।সংঘটিত ঘটনায় এ দু’টির কোনটা ঘটেনি। কিন্তু একজন মায়ের জাত নারীকে অপরাধীর অজুহাতে এভাবে রাস্তার গাছে বেঁধে শীতের রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা এভাবে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানী করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন নয় কি!সুতরাং প্রচলিত দেশিয় আইন অনুযায়ী নির্যাতনে জড়িতরা অপরাধী। এদের শাস্তি হওয়া উচিত।তিনি আরো বলেন,সদর উপজেলার অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভিকটিম নির্যাতিত পক্ষ ও নির্যাতনকারী পক্ষদ্বয়কে মঙ্গলবার উপজেলায় ডেকেছেন মিমাংসা করে দিতে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটির সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিম ও নির্যাতনে জড়িতদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং মঙ্গলবার চেয়ারম্যান,মেম্বারসহ উভয় পক্ষকে নিয়ে সংঘটিত ঘটনা মিমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।এদিকে দেরিতে হলে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ভাইরাসের সুত্র ধরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রকাশ্যে শীতের রাতে একজন নারীর উপর চালানো এ অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা দেশীয় প্রচলিত আইনকে পাশ কাটিয়ে কৌশলে যেনতেন কায়দায় ধামাচাপা দিতে জড়িত দূর্বৃত্তচক্রের পক্ষ হয়ে একটি পক্ষ মোটা অংকের লেনদেন মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের দাবি,প্রচলিত আইনের ৯/৪ ( খ) ধারাকে পাশ কাটিয়ে এ জঘন্য ঘটনা মিমাংসা করা যায় কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।যদি এভাবে দূর্বৃত্তচক্র কতৃক প্রভাবিত প্রকাশ্যে সংঘটিত এ বর্বর ঘটনা যেনতেন ভাবে মিমাংসার নামে ধামাচাপা দিলে আগামীতে আরো এধরণের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা থাকতে পারে। ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ কার হলে বলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বাড়িতে এসে,তাকে নির্যাতনের ঘটনা শুনেছেন এবং তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।তিনি আরো বলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চলে যাওয়ায় পর, তাকে নির্যাতনে জড়িত অন্যতম অপরাধী কবির আহমদ ভিকটিম নুর আয়েশাকে তাদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করায় ঘর এবং এলাকা ছাড়া করে জুতার মালা দিবে বলে হুমকি দিয়েছেন।যা ভিকটিম মোবাইলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এতে ভিকটিম ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তিনি সংঘটিত ঘটনার সুষ্ট বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য, বিগত ডিসেম্বর মাসের ২৯ তারিখ গভীর রাতে উক্ত নুর আয়েশাকে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকার চিহ্নিত কিছু দূর্বৃত্ত ঘর থেকে আয়েশাকে মারধর পূর্বক বের করে গ্রামের রাস্তার গাছে বেঁধে শীতের মধ্যে রাতভর নির্যাতন চালালেও স্থানীয় মেম্বার নিজে ভিকটিমকে নির্যাতন করেন বলে দাবি করেন নির্যাতিত নুর আয়েশা ও তার স্বামী। এছাড়া নির্যাতনকারী সকল দূর্বৃত্তরা মেম্বারের লোক বলে এলাকায় প্রচার আছে। আরো লক্ষণীয় যে জাগির নামের যে লোকের সাথে নুর আয়েশার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছে, দূর্বৃত্তরা পরে তাকেও তার পাশাপাশি গাছে বেঁধে রাখলেও ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় দূর্বৃত্তরা শুধু মহিলাকেই নির্যাতন করছে।ভিকটিম ও তার স্বামী ঐদিন তাদের উপর যে পৈশাচিক নির্যাতন হয়েছিল সরাসরি সাংবাদিকদের বলেছেন।যা ভিডিওসহকারে সংরক্ষিত আছে সাংবাদিকদের নিকট।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: