রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

আমাদের ফরাজী বাড়ী ৫জেনারেশনের মিলন মেলা ২০২১ অনুষ্ঠিত

  • সময় সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪২৯ বার পড়া হয়েছে

আর.জে. রবিউল ইসলাম ফরাজী বরিশাল অফিস।।

বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের বর্তমানে ফরাজী বাড়িতে ৫টি জেনারেশনের লোক। কর্মব্যাস্ততায় সবাই দেশে বিদেশে বিভিন্ন শহরে। দলবেধে একসাথে গ্রামের বাড়ীতে যেয়ে ৪০০ জন লোক একত্রিত হয় বহুদিন পরে এবং সবাই একেই টি-সার্ট পরে,একসাথে দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান- আনন্দ-আয়োজনের মধ্যে কাটান। বরিশাল জেলার-মুলাদী থানার ফরাজী বংশের বাড়ী টির সঠিক বয়স কারো জানা নেই! তবে ২০০ বছরের বেশী হবে সেটা নিশ্চিত! এই বাড়িটিতেই বসতি ছিলো বর্তমান জেনারেশন দের বাবা-চাচাদের, তাদের বাবা-চাচাদের এবাবে আরো পূর্ব পুরুষদের। আল্লাহর রহমতে কখনো চুরি ডাকাতি হতো না ফরাজী বাড়িতে। এক সময়ে নাকি ডাকাতদলরা ধনশালীদের বাড়ীতে ডাকাতি করতে যাবার আগে লাল চিঠি পাঠাতো তবে এ বাড়ীতে কখনো আসেনি। ফরাজী বাড়ীতে ব্রিটিশ আমলে একাধিক কাঠের দোতলা ঘর ছিলো। এক সময়ে আব্দুর রহমান ফরাজীর নামে অনেক লালচিঠি আসতো। অমুক তারিখে আসবে যেন টাকা-স্বর্ন রেডি রাখেন। দাদাজানের যে দোতলায় একটা লোহার সিন্ধুক ভরে স্বর্ন থাকতো,আর একটা লোহার সিন্ধুক ভর্তি কাঁচা টাকা রাখেন। সে খবর অত্রঅঞ্চলে কারো অজানা ছিলো না, অনেকেই নিজের চোখে দেখেছে সেই বিশাল লোহার সিন্দুক। সবাই তখন বলা বলি করতেন স্বর্ন আর কাঁচা টাকার ভারে কাঠের দোতলা নুয়ে পরছে চাবির গোছাটা সবসময় থাকতো তার কোমরে। ডাকাতরা বহুবার ডাকাতি করতে এসেও বাড়ীর প্রধান গেটের ভেতরে ঢুকতে পারেনি এক অলৌকিক কারনে। বুড়ো বয়সে তারা নিজেরাই সেটা স্বীকার করেছিলো। চুরি করতে এসে চুরি করে চুরির জিনিস বাড়ি আসে পাশে ফেলে রেখে চোর কোন অজানা কারনে সেটা না নিয়ে চলে গেছে,এরকম ঘটনা আছে এই বাড়িতে। প্রচন্ড দানশীল ছিলেন,অন্যকোন এলাকার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার রাস্তা ভাঙ্গা দেখে নিজে পকেট থেকে টাকা দিয়ে,দাডিয়ে থেকে অন্যের রাস্তা মেরামত করিয়েছেন। পাই পাই হিসেব করে যাকাত দিতেন। ব্রিটিশ আমলে জাহাজে করে গিয়েছিলেন হজ্জে। ফরাজীদের জমির উপর দাডিয়ে আছে অনেক মসজিদ মাদ্রাসা,স্কুল কলেজ। সমাজের বিভিন্ন হিতকর কাজে নিজের সম্পদ নির্দ্ধিধায় খরচ করতেন। একদিন বাড়ি ফিরে নাকি দেখেছেন বরাবরের মতই দূর থেকে একজন তার অপেক্ষায় বাড়ির সামনে বসে আছেন,দেখে আমার চাচীকে বলেছেন বেশী করে রান্না করতে তাকে যেন খাবার দেন,তারপর জিগ্গেস করেছিলেন কী হয়েছে তোমার? লোকটি বলেছে তারা পুরো পরিবার না খেয়ে আছে কয়েকদিন ধরে,তাই তার কাছে এসেছে। দাদা ২ মন ধানের বস্তা তাকে দিয়ে দিয়েছেন এরকম অজস্র ঘটনা/ঐতিহ্য আছে এই বাড়ীটির
বংশ নিয়ে গর্ব কারার কিছুই নেই। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে সম্মানীত ও স্বচ্ছলতা দান করেন,আবার চাইলে ফিরিয়েও নিতে পারেন। আল্লাহর রহমতে যেন বংশপরমপরায় তাদের মধ্যে একতা ও রক্তের বন্ধনের এই দৃঢ়তা,উদারতা ও মানবিকতা বজায় থাকে,বাড়ীর ঐতিহ্য পরবর্তি প্রজন্মকেও ধরে রাখার তৌফিক যেন দেন এই প্রত্যাশা ফরাজী বংশের মানুষ দের।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: