রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

পিএমখালীতে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্টঃ

* প্রকৌশলীদের ঘুষ দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ ঠিকাদার

* এলজিইডির অধিকাংশ সড়কই খারাপ, ব্যবহার অনুপযুক্ত

* বেহাল সড়কে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ও উন্নয়নের সুফল পায়না মানুষ

* ঘুষ দুর্নীতিতে নিম্নমানের কাজের সসুযোগ পায় ঠিকাদার

কক্সবাজার সদর পিএমখালী ইউনিয়নের রাবার ড্যাম থেকে ছনখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত তেত্রিশ’শ ফুট সড়ক পাকাকরণের কাজ চলছে। আসাদ এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তাদের বিরুদ্ধে এ রাস্তাটি নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এলজিইডির প্রকৌশলীদের ঘুষ দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তারা দুর্নীতি করার কারণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন না। প্রকল্প শুরু করে কাজ না করে বছরের পর বছর ফেলে রেখে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। তার মূলে থাকে ঘুষ-দুর্নীতি। আবার কোন প্রকল্প শেষ করলেও ৬ মাস বা ১ বছরের বেশি টিকে না। ঘুষ নেয়ার তথ্য ফাঁস করে দেয়ার ভয়ে প্রকৌশলীরা ঠিকাদারদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না বলে জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার। আবার বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে রি-টেন্ডার করিয়ে পুনরায় ঘুষ নেয়া শুরু করে প্রকৌশলীরা।

পিএমখালী ইউনিয়নের এক্স মিলিটারি রোডের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই প্রকল্পটি রি-টেন্ডার করেও প্রকল্পের কাজ শেষ না করার কারণ জানতে ঠিকাদার আতিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে সে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এলজিইডি প্রকৌশলীদের চরম ঘুষ-দুর্নীতির মুখোমুখি হয়ে এক প্রকার ধরাশায়ী হয়ে গেছেন। চেরাংঘর বাজার থেকে পশ্চিম- উত্তরে এক কিলোমিটার রাস্তা রিফারিং করার পর ১ মাসও ওই রাস্তা স্থায়ী হয়নি।

সড়ক যোগাযোগ খাতে গত কয়েক বছর ধরে সরকার বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিলেও এলজিইডির কর্তৃক নির্মিত অধিকাংশ সড়কই খারাপ, ব্যবহারের অনুপযুক্ত। নিম্নমানের কাজ ও নির্মাণ উপকরণ, অনিয়ম-দুর্নীতি, অদক্ষ ঠিকাদার, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নকশার ত্রুটি ও অপ্রতুল বরাদ্দ সড়ক নেটওয়ার্ককে ভঙ্গুর দশায় নিয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করছেন। গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ স্থাপনের অন্যতম স্তম্ভ এসব সড়ক বেহাল হলে তা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে উন্নয়নের সুফল থেকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণ বঞ্চিত হয়। যথাযথ প্রযুক্তি ব্যবহার না করে অপরিকল্পিতভাবে নিম্নমানেরখোয়া ও অপর্যাপ্ত বালি দিয়ে এবং খোয়া না দিয়ে কাদার ওপর বিটুমিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

এলজিইডির লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এ রাস্তা পাকাকরণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করছে আসাদ এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এব্যাপারে স্থানীয়রা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অভিযোগ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

সরেজমিন দেখা যায়, ছনখোলা খেয়াঘাটের উত্তর পাশে রাস্তার উপর ৫/৬ ফুট দূরত্বের ব্যবধানে বালি কংক্রিট মিক্সার বালির স্তুপ দেখা গেছে। বালির সাথে মিশানো কংক্রিট গুলোর মধ্যে ভালোমানের ইটের একটি কংকর দেখা যায়নি। সব হল মাটি সাদৃশ্য পোড়ামাটি। সেখানে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি কোন প্রশাসনিক প্রতিনিধি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে। এসময় আবদুল্লাহ, সিরাজ উল্লাহ, মোঃ আলম, আব্দুল হকসহ অন্যান্য কয়েকজন জানান এই রাস্তা তৈরি করতে ব্যাপক কারচুপি করছে ঠিকাদার।
গত বছরের শুরুতে ওই ৩৩‘শ মিটার রাস্তাটির নির্মাণ কাজ আরম্ভ করে লকডাউনের পরবর্তী সময় পর্যন্ত কাজ না করে গুরুত্বপূর্ন রাস্তাটি কেটেছিঁড়ে দীর্ঘদিন অলস ফেলে রেখে মানুষের জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয় ঠিকাদার। অবশেষে ৯/১০ মাস পরে নানান অনিয়মের মধ্যই কাজ করছে ঠিকাদার। শুরু থেকে নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে সাববেজ ও ডাব্লিউ বিএম শেষ করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ করছে না। সড়কের মাটি খুড়ে গ্রাউন্ড লেবেলে সাববেইজ করার সময় বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি দিয়েছে। সড়কের সাববেইজ থেকে উপরিভাগ পর্যন্ত কাজে বালি, কংকর, খোয়া এবং খোয়া মিশ্রিত বালির মিশ্রণ সঠিকভাবে করছে না। যথাযথ কম্পেক্টও করা হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এইভাবে সড়কটি নির্মিত হলে তা টেকসই হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহানে রয়েছে মানুষ।

সূত্র জানায়, আছাদ এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আসাদ এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামের যোগসাজশে রাস্তার কাজে অনিয়ম করছে। ঠিকাদার আসাদ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে এ প্রকল্পে সিডিউল বহির্ভূত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে। প্রথম থেকেই স্থানীয় লোকজন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কেউ তা কর্ণপাত করেননি।

পিএমখালী ইউনিয়ন কৃষকলীগের নেতা মোস্তাক আহমদ জানান, সড়কের কাজ শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে নানা অনিয়ম। পাহাড়-কাটা মাটি বালির সাথে কংক্রিটের আদলে পুড়া মাটি মিশ্রণ করে সড়কে দেয়া হচ্ছে। সেখানেও পর্যাপ্ত পরিমাণ দিচ্ছে না। কিন্তু বর্তমানে এ প্রকল্প কাজে সড়ক বিভাগের কোন ধরণের তদারকি ছাড়া কাজ চালানো হচ্ছে। এলজিইডি অফিসের কোন কর্মকর্তা কাজ পরিদর্শনে আসলেও সব অনিয়ম দেখেও না দেখার মত করে চলে যান।

সাংবাদকর্মি আজিজ রাসেল বলেন, এলজিইডিতে এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা রীতিমতো নিয়মে পরিণত হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বরাদ্দকৃত টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি কিনে সেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ব্যবহারের জন্য উপহার দেয়ার নিয়মও এখানে প্রতিষ্ঠিত। সারা দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এমন অনিয়ম প্রায়ই চোখে পড়ে। এতে সার্বিকভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। উন্নয়নের এই ফাঁকফোকর বন্ধে সরকারকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলজিইডির কাজের ক্ষেত্রে গড়ে ১০ শতাংশ অর্থ ভাগাভাগি হয়ে যায়। অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ এলজিইডির বেশির ভাগ প্রকল্প ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে এর চেয়েও অনেক বেশি অর্থ নয়ছয় হয়।বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলার মতো শক্ত কোনো গাইডলাইন না থাকায় সংস্থাটি মূলত ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

প্রকল্পের ঠিকাদার আসাদের সাথে মুঠোফোনে (রাত ৯:৪৪মিনিট) যোগাযোগ করা হলে সে মিটিংয়ে আছে বলে জানিয়ে বলেন আগামীকাল সাইটে গিয়ে দেখবেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পে দায়িত্বরত সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, গত একসপ্তাহ আগে সে এ সাইটে গিয়েছিলেন, ফান্ড না থাকায় আপাতত এ সাইটে কাজ বন্ধ আছে। কাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সহ সাইটে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: