শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

নতুন একটা বছর

  • সময় মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

মাওঃ হাফেজ শরীফুল ইসলাম
নতুন একটা বছর জীবনে
পাওয়ায় কেউ কেউ খুশিতে আত্নহারা হয়ে যাচ্ছে!
আবার এমন কেউ কেউও আছে যাদের মনে নতুন বছর নতুন কোন কিছুর আনন্দ তাকে স্পর্শ করতে পারছেনা।
আমার লেখাটুকু শুধুমাত্র তাদের জন্যই যারা অতীতের ভয়াবহ দিনের কষ্টের মুহুর্তের কথা মনে করে এখনো কেঁদে ফেলছেন।
একটা বার কি ভেবে দেখেছেন আপনি কাঁদছেন কেনো?
কিসের মোহ আপনাকে কাঁদাতে বাধ্য করছে!
যেখানে মৃত্যু নামক শব্দটা আপনাকে কবরজীবনের পরবর্তী যুগের পর যুগের দিনের হিসেবের কারণ দাড় করিয়ে দেবে। নিজেকে বোকা হাবাগোবা ভাবতে লজ্জা করে না আপনার?আশরাফুল মাখলুকাত আপনি আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহর এত বড় এক সুন্দর নিদর্শন হওয়ার পরও আপনি বোকাদের মতন অতীতের কথা ভেবে চোখের পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছেন?
জীবনের সামান্য কয়টা বছর আল্লাহ আমাদের হাতে দেন আমাদের পরিক্ষা করার জন্য।
পৃথিবীতে আসার পর জীবনে ধাক্কা খাওয়ানোটাও আল্লাহর পরিক্ষারই এক অংশ।
আপনি জীবনে ধাক্কা খেয়ে ধাক্কা খাওয়ার কারণ খুঁজতে অতীতের দিনগুলো নিয়ে ভেবে ভেবে সময় নষ্ট করেন যে সময়টুকু আপনার উচিত ছিলো আল্লাহর নিদের্শ মোতাবেক নামায,জিকিরে মজগুল থাকা।
কিন্তু আপনি নিজেকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
অতীত নিয়ে ভাবতে ভাবতে আপনি আপনার জীবনের আসল উদ্দেশ্যেই ভুলে যান।
আপনার জীবনের উদ্দেশ্য একটা মানুষ আপনাকে ছেড়ে গেছে বলে তাকে নিয়ে পড়ে থেকে দিনরাত কান্না করা না।
আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর রাসূলের পথে চলে আল্লাহর পরিক্ষায় পাস হওয়ার জন্য।
সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও ব্যর্থতার কাছে হার মানার মত বড় লজ্জা আর দুটো হয় না।রাসূল(সঃ) সবসময় হাসি মুখে থাকতেন,ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে আমার রাসূল কম মার, গালি সহ্য করেননি। আল্লাহর রাসূল হয়েও জীবন থেকে ধাক্কা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হননি সেখানে আপনি আমি তো নগন্য কেউ।
বিপদে ধৈর্য ধারণ করে রাসূল যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন তাহলে তার ভালোবাসার উম্মত হয়েও আপনি কেন আপনার রাসূলের মত হতে পারবেন না? শুনুন জীবন একটাই মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে সুখ নামক জান্নাত ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ইহকালের জীবনের তুচ্ছ কষ্টগুলোকে ভুলে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করুন।
আল্লাহ আপনার পথ একদিন ঠিক সহজ করে দিবেন যদি আপনি বিশ্বাসী হন। একটা মানুষ সর্বোচ্চ কতদিন বাঁচে?
৭০-৮০ এই তো জীবনের হিসেব, এই জীবনের কর্মফল স্বরূপ মৃত্যুর পরবর্তী কোটি কোটি যুগের দিন কেমন হবে তা নির্ভর করছে।
আপনি মাত্র ৭০-৮০ বছরের জীবনের কষ্টে হার মেনে সারাদিন রাত চোখের পানি ফেলেন ধৈর্যহারা হয়ে তাহলে একবার ভেবে দেখুন পৃথিবীর সামান্য কষ্টই আপনি সহ্য করতে পারেন না যেখানে কবরের ভয়াবহ কষ্টের অনিদিষ্টকালীন সময় কিভাবে কাটাবেন?
অতীত নামক তুচ্ছ এক শব্দের কাছে নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করে হারান আখিরাত।
সেখানে আখিরাতে আল্লাহকে সময় না দেয়ার জন্য আপনি কত শাস্তির সম্মুখীন হবেন একটাবার কল্পনা করে দেখুন।
যদি মানুষ হন তাহলে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের কষ্টকর মুহুর্তের কথা চিন্তা করে এই কয়েক দিনের জীবনের কষ্টগুলো ভুলে সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন।
আপনি যদি রাসূল কে ভালোবেসে থাকেন,
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, মৃত্যুর পরবর্তী জীবন নিয়ে চিন্তিত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে বলছি উঠে দাড়ান অযু করে আসুন তওবা করুন মন থেকে জীবনের সমস্ত গুনাহ থেকে মাফ চেয়ে নতুন করে নিজের জীবন গড়ুন আল্লাহর সাথে।
বিশ্বাস করেন সবাই আপনাকে ঠকালেও আল্লাহ যিনি আপনার একমাত্র সৃষ্টিকর্তা তিনি আপনাকে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে ঠকাবেননা আপনি মৃত্যুর সাথে সাথেই আপনার ধৈর্যের ফল পাবেন।হয়ত আল্লাহ আপনার এই জীবন টা সমপূর্নটাই কঠিন পরিক্ষার অংশ করে রেখেছেন তার জন্য নিজের কপাল কে দোষারোপ না করে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করুন।আল্লাহ সর্বদা আপনার সাথে আছেন এই কথা ভেবে যে আল্লাহ আপনার ঈমানের পরিক্ষা করার জন্য প্রতি নিয়ত নতুন নতুন সমস্যা দিচ্ছেন।আপনি অধৈর্য হবেননা কারণ আল্লাহ তায়ালা নিজে বলেছেন,
হতাশ হয়ো না, উঠো! সিজদাহ করো এবং কাঁদো! সূরা ইউসুফ : ৮৬
আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দিবেন।
সূরা ত্বলাক : ৭
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি।সূরা ইনশিরাহ : ৬
জেনে রেখো, আল্লাহর সাহায্য নিকটে।
সূরা বাক্বারা : ২১৪
একমাত্র কাফির ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।
সূরা ইউসুফ : ৮৭
আল্লাহ কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের চাইতে বেশী, এমন বোঝা চাপিয়ে দেন না।
সূরা বাক্বারা : ২৮৬
এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। সূরা বাক্বারা : ১৫৫
হে ঈমানদারগণ, তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।
‌‌ সূরা বাক্বারা : ১৫৩
নিজেকে দুঃখী ভাববেন না, আশরাফুল মাখলুকাত আপনি উঠে দাড়ান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করুন এই পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।
প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত বানিয়ে সৃষ্টি করার জন্য।
শুনুন সৃষ্টিকর্তা আপনার কাছ থেকে প্রিয় কিছু কেড়ে নিলে দুঃখ পাবেন না বরং এই বলে নিজেকে স্বান্তনা দিবেন যে সৃষ্টিকর্তা আমার সাথে যা করে খুশি হন আমি তাতেই সন্তুষ্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: