রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০২:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা হবে তুরস্ককে অসম্মান: এরদোয়ান

  • সময় শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ ক্রয়কে কেন্দ্র করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে ন্যাটো মিত্রকে অসম্মানের সামিল। শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান এ হতাশা ব্যক্ত করেন। আঙ্কারার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে-মার্কিন সূত্রের বরাতে এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পরই এরদোয়ান এ মন্তব্য করলেন। নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কের সম্পর্কে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার যে কোনো সময় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প অধিদফতরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের এ খবরে তুর্কি মুদ্রা লিরার মান দু’শতাংশ কমেছে।

২০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তার আগে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া, সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত তুর্কি পাদ্রী ইস্যুতে দু’পক্ষের মধ্যে পুরানো দ্বন্দ্ব রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে পুরনো দ্বন্দ্ব মিলে দু’পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন পরীক্ষা মুখোমুখি হতে পারে।
বিভিন্ন দেশকে মোকাবিলার জন্য কাউন্টারিং আমেরিকাজ অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশন অ্যাক্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। যাকে সংক্ষেপে সিএএটিএসএ নামে পরিচিত।

এরদোয়ানের বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানায়, তুরস্ককে মোকাবিলার জন্য সিএএটিএসএ-এর ব্যাবহার আঙ্কারার মতো গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্রের জন্য অসম্মানের।

তথকথিত সিএএটিএসএ আইন রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের অস্ত্রক্রয় চুক্তি কেন্দ্র করে আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কি হয় তা নতুন নির্বাচন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান। এ মুহূর্তে ধৈর্য ধরা এবং অপেক্ষা করা আমাদের কাজ।

ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের মালিকানাদাবীকে কেন্দ্র করে আলাদাভাবে আঙ্কারার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাচ্ছে ইউরোপীয় নেতারা। মার্কিন এবং ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে তুরস্কের অর্থনীতি এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আরও চাপে পড়বে। যদিও এসব হিসেব প্রত্যাখ্যান করেছে আঙ্কারা।গেলো বছর অব্যাহতভাবে তুর্কি মুদ্রার মান নিম্নগামী ছিল। ওই বছর উদীয়মান বাজারে ভয়াবহ ছিল লিরার অবস্থান। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে করোনায় বিপর্যস্ত অর্থীনীতি আরও খারাপ হয়েছে।

২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্রয় করে তুরস্ক। ওই সময় আঙ্কারা জানায়, এটি মিত্রদের জন্য হুমকি নয়। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক নয়। ওয়াশিংটন জানায়, এস-৪০০ হুমকি। গেলো বছর এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কার্যক্রম থেকে তুরস্ককে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাসহ বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য বিরুদ্ধে এতদিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। আরোপ করতে যাওয়া নিষেধাজ্ঞা হালকা হবে বলেও জানান তারা।

রবার্ট বোশ একাডেমির ফেলো গালিপ ডালে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে মার্কিন-তুর্কি সম্পর্ক সংকটে। মার্কিন হালকা নিষেধাজ্ঞা দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও জটিল করবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, তুরস্কে মার্কিনবিরোধী মনোভাবকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তবে আঙ্কারার নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

এরদোয়ান বলেছেন, ট্রাম্পের চার বছরের শাসনামলে তার সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়নি। বাইডেনও এরদোয়ানকে ভালোভাবে চেনেন বলে জানান তিনি।অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপ, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের অর্থনীতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের ধারণা।

ব্লু বে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের টিমোথি অ্যাজ জানান, ট্রাম্প হালকা নিষেধাজ্ঞা বেছে নেবেন। যাতে বাইডেন ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নতুন করে সম্পর্ক শুরু করতে পারেন। এ থেকে বাইডেন তুরস্কের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক শুরু করতে পারবেন বলেই মনে হয়।

ভূমধ্যসাগরে অবৈধভাবে খনিজসম্পদ অনুসন্ধানকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য অক্টোবরে এমন একটি সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায় তারা।

তুরস্ক জানিয়েছে, নিজেদের জলসীমা থেকে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান করছে আঙ্কারা। এটা তাদের অধিকার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আচরণকে বিভ্রান্তকর এবং অবৈধ বলেও আখ্যা দেয় তুরস্ক।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: