শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

কে সেরা, কোহলি না স্মিথ?

  • সময় সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২১২ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের চলতি সিরিজে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে।  এই সময়ে দুদলের দুই ব্যাটিং স্তম্ভ অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ ও ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির মধ্যে সেরা কে?

চলতি সিরিজের পারফরম্যান্স দেখলে স্মিথই এগিয়ে। এখন পর্যন্ত খেলা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোহলির ব্যাট থেকে এসেছে ৬৩ ও একটি ৮৯ রানের ইনিংস।

একই সিরিজে স্টিভেন স্মিথ তিন ম্যাচেই করেছেন ২১৬ রান; যার মধ্যে দুটো সেঞ্চুরি। সার্বিক বিবেচনায় টেস্ট ক্রিকেটে কোহলির চেয়ে এগিয়ে স্টিভ স্মিথ। কোহলির চেয়ে ১৩ টেস্ট কম খেলে মাত্র ১৩ রান পিছিয়ে আছেন এই অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান।

টেস্টে কোহলির গড় প্রায় ৫৪। স্মিথের ৬৩। ১০০টি ইনিংস খেলা এমন ক্রিকেটারের মধ্যে বিশ্বে সর্বোচ্চ গড় স্মিথের। ৭৩ টেস্টে স্মিথের রান ৭ হাজার ২২৭, অন্যদিকে ৮৬ টেস্টে কোহলির ঝুলিতে জমা পড়েছে ৭ হাজার ২৪০ রান।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যায় স্মিথের চেয়ে মাত্র একটি বেশি করেছেন কোহলি।  তবে হাফসেঞ্চুরির বেলায় কোহলির চেয়ে সাতটি বেশি রয়েছে স্মিথের।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বলছে, বর্তমান টেস্ট ব্যাটসম্যান র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে স্মিথ।  দুই নম্বরে আছেন কোহলি।

একটি বিষয়ে কোহলিকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠেছেন স্মিথ। তা হলো– আইসিসির সর্বকালের টেস্ট ব্যাটসম্যান র্যাং কিংয়ে কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানের পরেই রয়েছেন স্মিথ। এ তালিকার সেরা দশেও নেই কোহলি।  শুধু কোহলিই নন, স্মিথ ছাড়া বর্তমান তারকাদের কেউই নেই সেরা দশে।

টেস্টে কোহলিকে ছাপিয়ে গেলেও ওয়ানডেতে পিছিয়ে স্মিথ। পরিসংখ্যান বলছে, ২৫১ ম্যাচে ১২ হাজার ৪০ রান তুলেছেন কোহলি।  রেকর্ড ভেঙেছেন স্বদেশি লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের। এখন পর্যন্ত ৪৩ সেঞ্চুরি করেছেন কোহলি।

আর স্টিভ স্মিথ খেলেছেন ১২৮ ওয়ানডে। রান তুলেছেন পাঁচ হাজারের কাছাকাছি। এতে রয়েছে ১১ সেঞ্চুরি ও ২৫ ফিফটি।  অর্থাৎ কোহলির চেয়ে স্মিথের ওয়ানডে ক্যারিয়ার অনেক ছোট।

তবে এর মধ্যেও যে প্রশ্নটি উঠেছে– গত ১২ ম্যাচ সেঞ্চুরি পাননি কোহলি। কোহলির বিপক্ষে মাঠে নেমে স্মিথ টানা দুটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বেশ পিছিয়ে আছেন স্টিভ স্মিথ। মাত্র ৭২৪ রান তুলেছেন তিনি এ ফরম্যাটে। এর কারণ অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত নন স্মিথ।

আর বিরাট কোহলি ৫০-এর বেশি গড়ে ২ হাজার ৮০৩ রান করেছেন টি-টোয়েন্টিতে। প্রশ্ন উঠতে পারে বড় মঞ্চে চাপ নিয়ে ভালো ব্যাটিং কে করেন? কোহলি না স্মিথ!

সে ক্ষেত্রে স্মিথের কথা বলছে পরিসংখ্যান। এমন সমালোচনা হরহামেশাই শোনা যায়, দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কোহলি যতটা ভালো, বড় মঞ্চে ততটা উজ্জ্বল নন।

২০১৯ বিশ্বকাপে ৪৪২ রান করলেও দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি কোহলি। কোনো সেঞ্চুরিও পাননি বিশ্বকাপে। বড় ম্যাচে চাপের মধ্যে কোহলির ব্যাট কথা বলে না।

২০১৫ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩ বলে ১ রান করে সমালোচিত হয়েছিলেন কোহলি। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের করা ৩৩৮ তাড়া করতে গিয়ে ৯ বলে ৫ রান তুলে আউট হন কোহলি।

২০১১ বিশ্বকাপের শেষ তিন বিগ ম্যাচে কোহলির ব্যাট থেকে ম্যাচ জেতানো রান আসেনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেন ২৪ রান। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৯ রান এবং ফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৫ রান করেন কোহলি।

এদিক দিয়ে বড় মঞ্চে স্মিথ বেশ উজ্জ্বল। ২০১৫ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষেই সেমিফাইনালে স্মিথ রান তোলেন ৯৩ বলে ১০৫।  এই ম্যাচে ম্যাচসেরা পুরস্কারও পান তিনি।

চাপ মাথায় ২০১৯ সালের অ্যাশেজে দুর্দান্ত ব্যাট করেছিলেন স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ ইনিংসে স্মিথ করেন ৭৭৪ রান। ১৪৪, ১৪২, ৯২, ২১১, ৮২, ৮০ এবং ২৩। এই সাতটি ইনিংস খেলে ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে নাম লেখান স্মিথ।  তার গড় ছিল ১১০।

কে অসাধরণ ব্যাটসম্যান? সেই প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্নভাবে স্মিথ ও কোহলির দুজনকেই এগিয়ে রাখেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক মাজহার উদ্দিন অমি।

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল লারা-টেন্ডুলকার, ফুটবলে মেসি-রোনাল্ডো।  এখন ক্রীড়ামোদিরা কোহলি-স্মিথ নিয়ে আলোচনায় মাতে। এটা ক্রিকেটের জন্য অসাধারণ একটা ব্যাপার। আমি মনে করি কোহলি একজন ‘কপিবুক’ ব্যাটসম্যান। অন্যদিকে স্টিভ স্মিথ চলতি ধারার বাইরে গিয়ে ব্যাট করেন। আমি বলব, আপনি যদি তরুণ কাউকে খেলা শেখাতে চান, সে ক্ষেত্রে বিরাট কোহলি আদর্শ, স্মিথের মতো ব্যাট আপনি চাইলেই করতে পারবেন না।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, ক্রিকইনফো

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: