রোহিঙ্গা হাসান এখন বাংলাদেশী নাগরিক !

রোহিঙ্গা হাসান এখন বাংলাদেশী নাগরিক !

নিউজ ডেস্ক/
মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সময়কার ঘনিষ্ট সোর্স, মো. হাসান এখন বাংলাদেশী নাগরিক। ভূয়া ঠিকানা দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে স্বপরিবারে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে। তার জীবন যাত্রার মান দেখে অবাক খুদ অন্য রোহিঙ্গারা।

সূত্র মতে, মিয়ানমার মংডু এলাকার বাসিন্দা মৃত ফজল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হাসান উরুফে তাব্বে হাছন। তার মা’সহ পরিবারের অনেক সদস্য-আত্মীয় স্বজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হলেও বাংলাদেশী সেঁজে হাসান বসবাস করছে কক্সবাজার শহরে। এক সময়ে মিয়ানমারে থাকা কালীন বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)’র বিশ্বস্থ সোর্স ছিলো। সোর্স হিসেবে এপারের মাদক কারবারীদের সাথে ছিলো তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক। ২০০৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরে বসবাস করে নানা অপরাধমূলক ও অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এছাড়াও কয়েকমাস আগে বাস টার্মিনাল এলাকার এক ব্যবসায়ী হাসানের সাথে যৌথ ব্যবসা শুরু করেন। কয়েকদিন যেতে না যেতেই তাকে মাদক পাচারের প্রস্তাব দিলে তিনি তার সাথে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে উক্ত ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এমনকি তার রুমালিয়ারছড়ার বাড়িতে প্রতি রাতে মাদক সেবনের আড্ডা বসে বলেও জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোহিঙ্গা হাসান উখিয়া উপজেলার চৌধুরী পাড়া এলাকার ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে কৌশলে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করে। কক্সবাজার পৌরসভার রুমালিয়ার ছড়ায় স্বপরিবারে স্থানীয় সেঁজে নিরাপদে বসবাস করছে। রাতারাতি বনে গেছে যানবাহনের মালিক।

স্থানীয় একটি সূত্র, তার এসব অপকর্মের পেছনে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতাসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে দাবী করেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তার এনআইডি কার্ডে (যার নং- ৮৬৫১৯০২২১৮) দেয়া স্থায়ী ঠিকানার ব্যাপারে চৌধুরীপাড়া এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রবীনরা হাসান নামে কাউকে চেনেন না বলে দাবী করেছেন।

অভিযুক্ত রোহিঙ্গা হাসানের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজে পুরাতন রোহিঙ্গা নাগরিক বলে স্বীকার করেছেন।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহাব উদ্দীন, হাসান একজন রোহিঙ্গা নাগরিক বলে দাবী করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে জগন্য কিছু অভিযোগের কথাও জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সদরের নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা জানান, কমিশনের সাথে প্রতারনা করে যদি কোন রোহিঙ্গা ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হলে তার বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: