মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৩২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ায় আপনাকে স্বাগতম

কুমিল্লায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন

  • সময় শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাংচুরের বিরুদ্ধে আজ ৬ নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩:৩০ টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

আরোও বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহের ঈমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড: নিমচন্দ্র ভৌমিক, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ হোসেন মতিন ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বলেন, “কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও নগ্নভাবে হামলা করা হয়েছে। লালমনিরহাটে গুজব ছড়িয়ে একজন মুসল্লীকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনোই উগ্রবাদ সমর্থন করে না। কেউ অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়েছে। লালমনিরহাটে আবু ইউসুফ মোঃ সহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী ও মানবতাবিরোধী। এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

ড: নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন,”এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পিছনে নিশ্চয়ই কোন অসৎ উদ্দেশ্য আছে। কোন ধর্মই সহিংসতা ও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, “ধর্মের নাম ব্যবহার করে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। সকল ধর্মের মানুষদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করা প্রত্যেকটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।”

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “ধর্মীয় সভাগুলোতে উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে এক শ্রেণীর মৌলবাদী অপশক্তি। এহেন কর্মকাণ্ড কখনোই বরদাশত করবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ধর্মীয় উগ্রবাদ শক্ত হাতে দমন করা হবে। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে যারা নাশকতা করে মানুষ হত্যা করেছিলো সেই মৌলবাদী অপশক্তিই সম্প্রতি ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এরা ইসলামের শত্রু। এরা কখনোই ইসলাম ধর্মের আদর্শ ধারণ করে না। ধর্মীয় লেবাশে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে এরা জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসররা এহেন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড দ্বারা বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মের নামে এরা অপরাজনীতি শুরু করছে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আবেগকে পুঁজি করে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের চেষ্টা করছে। করোনা সংকটেও কিছু ধর্মীয় লেবাশধারী প্রতিনিয়ত গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষদের জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিভিন্ন মাদ্রাসায় গত এক মাসে প্রায় ২৪ জন শিশু বলাৎকারের শিকার হয়েছে এবং ইতিমধ্যে দুইজন মৃত্যুবরণ করেছে। বলাৎকার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ হারাম। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় ওয়াজের নামে গুজব ছড়ানো ও উস্কানিমূলক অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের অনেক মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় না, জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয় না, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানো হয়না যা দেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধান বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডই ধর্মীয় উগ্রবাদকে আরোও উসকে দিচ্ছে। মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস চর্চা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যথায় দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ইসলাম ধর্ম কখনোই মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। সম্প্রতি কুমিল্লা ও লালমনিরহাটের ঘটনাই প্রমাণ করে হামলাকারীরাই ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু। এরা মানবতার চরম শত্রু। আমরা অবিলম্বে এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সমগ্র দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর (৬) ছয় দফা দাবিসমূহ:

১। কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

২। লালমনিরহাটে সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে পুড়িয়ে ফেলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩। বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৪। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৫। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে নজরদারি বাড়াতে হবে।

৬। মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: