কলাতলি হোটেল জামান সী-হাইটস এর ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদে মরিয়া মালিক বাবু ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

কলাতলি হোটেল জামান সী-হাইটস এর ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদে মরিয়া মালিক বাবু ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আমি ওয়াহিদুজ্জামান বাবু কলাতলীস্থ হোটেল জামান সী-হাইটস এর মালিক। গত ৪ নভেম্বর কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র দৈনিক দেশবিদেশ ও অনলাইন পোর্টাল কক্সবাজার নিউজ ( সিবিএন ) এ প্রকাশিত ” কলাতলী হোটেল জামান সী-হাইটস এর ভাড়াটিয়া উচ্ছেদে মরিয়া মালিক বাবু ” শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদে শাহজাহান আনচারীর ভাই কাশেম আনচারী নামক ব্যক্তি প্রদত্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্র মূলক। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আত্মস্বীকৃত আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ডন শাহজাহান আনচারীর ভাই কাশেম আনচারী ও এর আগে তার পিতা নুর মোহাম্মদ আনচারী প্রদত্ত বক্তব্যের কিছু কিছু অংশ তুলে ধরে ব্যাখ্যা প্রদান করছি কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষের অবগতির জন্য।

পিতা পুত্রের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন “তার ছেলে/ভাই শাহজাহান আনচারী ০৫/১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখের লিখিত ০৬/১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখে কক্সবাজার নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ের ৫৪ নং ভাড়া নামা চুক্তিপত্র মূলে ১০/১২/২০১৬ ইংরেজি হতে ৩০/১২/২০২১ ইংরেজি পর্যন্ত মেয়াদে চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নিয়া পরিচালনা করে আসছিল “।

তাদের এই বক্তব্য সম্পর্কে আমার বক্তব্য হল, আত্মস্বীকৃত ইয়াবা ডন শাহজাহান আনচারীর পিতা তার ছেলের সাথে যে নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে ৫৪ নং ভাড়া নামা চুক্তি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন,তাতে আমাকে চুক্তি দাতা ও তার ছেলে শাহজাহান আনচারীকে চুক্তিপত্র গ্রহীতা উল্লেখ করেছেন।

এই চুক্তিটি যে মিথ্যা বানোয়াট জাল জালিয়াতের মাধ্যমে সৃজন করা হয়েছে তার দুটি প্রমাণ তুলে ধরলে কক্সবাজারবাসী যে কেউ সহজে বুঝতে পারবেন ৫৪ নং ভাড়া নামা চুক্তিটি আমার মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়নি। বরং জাল জালিয়াতের আশ্রয় নিয়েই সৃজন করা হয়েছে।

এক নম্বর প্রমাণ হল কক্সবাজার নোটারী পাবলিকের যে কার্যালয়ের মাধ্যমে ৫৪ নং চুক্তিপত্রটি সৃজন করা হয়েছে সেই নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে আমি সশরীরে উপস্থিত হলে, তিনি ৫৪ নং চুক্তিপত্র সম্পর্কে আমাকে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন। আমি সেই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখিত কথা গুলো হুবহু তুলে ধরলাম।

“বিগত ০৬//১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখে হোটেল ভাড়া নামা চুক্তিপত্র আমার নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে সম্পাদিত মর্মে পরিলক্ষিত হয়। আমার জানামতে উল্লেখিত হোটেল জামান সী- হাইটস এর মালিক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, পিতা মরহুম ডাঃ নুরুজ্জামান নামে (ছবি সংযুক্ত) কোন ব্যক্তি আমার কার্যালয়ে নোটারী পাবলিক করিতে আসেনি কিংবা উপস্থিত হননি। তবে উপরোক্ত মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান নামে অন্য কোন মিথ্যা ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে অত্র ভাড়া নামা চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে পারে।

সুতরাং ভাড়া নামা চুক্তিপত্রে ১মপক্ষ মালিক হিসেবে হোটেল সী-হাইটস এর মালিকের নামে মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এর স্বাক্ষর সম্পুর্ণ ফেরবী, সৃজিত ও বানোয়াট। এমতাবস্থায় হোটেল জামান সী-হাইটস এর মালিক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বিগত ০৬/১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখে সম্পাদিত ৫৪ নং নিবন্ধিত ভাড়া নামা চুক্তিপত্রে প্রকৃত পক্ষে কোন স্বাক্ষর প্রদান করেন নি। তবে নিবন্ধনের সময় ছবি না দিয়ে পরবর্তীতে ছবি দিয়ে সীল মেরে নিয়ে যায় “। এই হল আমাকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র।

দ্বিতীয় প্রমাণ হিসাবে আমি আরো উল্লেখ করতেছি যে, ৫৪ নং ভাড়া নামা চুক্তিপত্রে যে ৪ টি ১০০/টাকা মুল্যমানের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হয়েছে। যার নাম্বার যথাক্রমে, কড – ৭৩৮৬৯২২, কড- ৭৩৮৬৯২৩,কড-৭৩৮৬৯২৪, কড- ৭৩৮৬৯৪২। এই স্ট্যাম্প গুলো চট্টগ্রাম ট্রেজারী হতে বিগত ২৪/০৪/২০১৭ খ্রীস্টাব্দ তারিখে সরবরাহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ট্রেজারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর উপরোল্লেখিত স্ট্যাম্পের সংবাদ চাইলে, ট্রেজারী অফিসার চট্টগ্রাম কতৃক স্বাক্ষরিত সংবাদে গত ১২/০৩/২০২০ ইংরেজি তারিখে প্রদান করেন।

কক্সবাজার নোটারী পাবলিকের কার্যালয় কতৃক ৫৪ নং ভাড়া নামা চুক্তিপত্রে যে ৪ টি ১০০/টাকা মুল্যমানের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হয়েছে। যার নাম্বার যথাক্রমে, কড – ৭৩৮৬৯২২, কড- ৭৩৮৬৯২৩,কড-৭৩৮৬৯২৪, কড- ৭৩৮৬৯৪২। এই স্ট্যাম্প গুলো চট্টগ্রাম ট্রেজারী হতে বিগত ২৪/০৪/২০১৭ খ্রীস্টাব্দ তারিখে সরবরাহ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ট্রেজারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর উপরোল্লেখিত স্ট্যাম্পের সংবাদ চাইলে, ট্রেজারী অফিসার চট্টগ্রাম কতৃক স্বাক্ষরিত সংবাদ গত ১২/০৩/২০২০ ইংরেজি তারিখে প্রদান করেন বলে প্রদত্ত সংবাদে চট্টগ্রাম ট্রেজারী অফিসার উল্লেখ করেছেন ।

অথচ ইয়াবা ডন শাহজাহান আনচারী ৫৪ নং নোটারী পাবলিক কার্যালয় কতৃক যে ভাড়া নামা চুক্তিপত্র সম্পাদনের তারিখ দেখানো হয়েছে ০৬/১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখ।
আমার বক্তব্য হল উল্লেখিত ভাড়া নামা চুক্তি পত্রে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প গুলো সরবরাহ যদি ২৪/০৪/২০১৭ ইংরেজি তারিখে করা হয় , তাহলে ০৬/১২/২০১৬ ইংরেজি তারিখে সম্পাদিত ৫৪ নং ভাড়া নামা চুক্তিটিতে ব্যবহৃত ১০০/টাকা মূল্যমানের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প গুলো ২০১৬ ইংরেজিতে শাহজাহান আনচারী কিভাবে পেলো ? বিচারাধীন অপর ৩০০/১৯ নং মামলার বিচারিক বিজ্ঞ আদালতে আমার জবাব হিসাবে সেই রেকর্ডপত্র গুলো দাখিল করার পর থেকেই তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদপত্রে আমার নামে নানা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। দেশবিদেশ ও সিবিএন এ প্রকাশিত সংবাদও তার একটি অংশ বলে আমি মনে করি।

কাশেম আনচারী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, শাহজাহান আনচারীকে আমি চট্টগ্রাম ঢেকে নিয়ে তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হাতে তুলে দিয়েছি বলে উল্লেখ করেছেন যাহা হাস্যকর বক্তব্য বলে আমি মনে করি।

কেননা আত্মস্বীকৃত আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ব্যবসায়ী শাহজাহান আনচারী ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে ১০২ জন ইয়াবা ডনের সাথে আত্মসমর্পণ করেন। যাহা কক্সবাজারের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অনেক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় সম্প্রচার হয় ও সংবাদপত্রে সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য এর আত্মসমর্পণ সম্পর্কে কক্সবাজারের একজন প্রতিবাদী সাহসী সাংবাদিক মোঃ শহীদুল্লাহ মেম্বার বিগত ১ মে এবং ৩ মে ২০২০ খ্রীস্টাব্দে নিজ ফেসবুক আইডি থেকে লাইভটাইম সম্প্রচার করেছিলেন। যাহা দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছিল। এই ফেসবুক লাইভে সাংবাদিক মোঃ শহীদুল্লাহ মেম্বার যথাযথ ভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, শাহজাহান আনচারী কার হাত ধরে কোন তারিখ কখন আত্মসমর্পণ অনুষ্টানস্থলে এসেছেন। এর পর এই ব্যপারে আমার কোন প্রকার বক্তব্য নাই।

কাশেম আনচারীকে আমার লেলিয়ে দেওয়া দুর্নীতিবাজ তৎকালীন কক্সবাজারের পুলিশেরা হোটেল জামান সী-হাইটস এর দ্বিতীয় তলা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। এর আগে হোটেল জামান সী-হাইটস এর মালিকের কাছ থেকে কোটি টাকা চাঁদা দাবী পৌর মেয়রের শীর্ষক সংবাদ ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার করে। সেই সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা উল্লেখ করে শাহজাহান আনচারীর পিতা নুর মোহাম্মদ আনচারী বিগত তারিখে, কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদপত্র দৈনিক দেশবিদেশ ও হিমছড়িতে একটি প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

সেই প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যাতে নুর মোহাম্মদ আনচারী উল্লেখ করেছিলেন, তার ছেলে কাশেম আনচারীকে আমার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা হামলা করে চিরতরে পঙ্গু করেদেয়। আসলে কাশেম আনচারীকে কি পুলিশে হামলা করেছে নাকি সন্ত্রাসীরা হামলা করেছেন? কোনটি সঠিক নুর মোহাম্মদ আনচারীর বক্তব্য নাকি কাশেম আনচারীর বক্তব্য?

কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকারী স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের সম্মানিত প্রতিনিধিগণ নিশ্চয় অবগত আছেন যে, এই হোটেল জামান সী-হাইটস এর একটি ঘটনা সম্পর্কে। যে ঘটনায় স্বর্ণা নামের একজন ছাত্রী ইয়াবা সেবন করে মৃত্যু বরণ করেছিলেন। সেই সংবাদটি তৎকালীন সময় কক্সবাজারের স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করেছিলেন। সেই সংবাদের আলোকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন হোটেল জামান সী-হাইটস এ অভিযান চালিয়েছিল। অভিযানের সময় কাশেম আনচারী পালিয়ে যেতে হোটেলের পেছনের নালায় পা পিছলে পড়ে গিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হন। সেই অভিযানে শাহজাহান আনচারী কতৃক নিয়োগ দেওয়া হোটেল ম্যানেজারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিলেন। এটাই হল বাস্তবতা।

কাশেম আনচারী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, হোটেলের ৬ টি কক্ষ আমি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দখলে নিয়েছি। আবার তার পিতা নুর মোহাম্মদ আনচারী প্রদত্ত প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছিলেন, এই ৬ টি কক্ষ আমি জনৈক ইকবালের মাধ্যমে ভাড়া নিয়েছি। এই ধরনের দ্বিমুখী বক্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। তারপরও আমি আবারও বলছি, এই হোটেল শাহজাহান আনচারীকে দেখা শুনা করতে দেওয়ারও আগে আমাদের নিজস্ব কক্ষ হিসাবে উল্লেখিত কক্ষ সমুহ সংরক্ষিত ছিল।

সম্মানিত সাংবাদিক ও কক্সবাজারবাসী শাহজাহান আনচারীকে কোনদিনও আমরা মালিক পক্ষ হোটেল জামান সী-হাইটস ভাড়া প্রদান করিনি। এই হোটেলটি তাকে দেখা শুনা করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। দেখা শুনা করার দায়িত্বও লিখিত ভাবে প্রদান করা হয়নি। হোটেলের মাসিক মাসিক হিসাব দেওয়ার কথা বলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্রে শাহজাহান আনচারী কয়েক মাস হিসাবও প্রদান করেছিলেন।
আমরা যখন জানতে পারি হোটেল জামান সী-হাইটসকে ব্যবহার করে শাহজাহান আনচারী মরন নেশা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা মালিক পক্ষ তাকে হোটেল দেখা শুনা করার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করি এবং হোটেলের যাবতীয় হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপপ্রয়োগ করলে। সেই থেকে লোভে বশিভূত হয়ে আমার হোটেলটি আত্মসাৎ করার কুমানসে নানা ধরনের মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে আসছে। কাশেম আনচারীর বক্তব্যও তারই অংশ বলে মনে করি।

আত্মস্বীকৃত আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ডন শাহজাহান আনচারীর পিতা ও ভাইয়ের দেওয়া প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা বা বক্তব্যের জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উল্লিখিত তাদের বক্তব্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি সচেতন কক্সবাজারবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

প্রতিবাদকারীঃ-
মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান
মালিক হোটেল জামান সী-হাইটস কক্সবাজার ।
তারিখঃ- ০৬/১১/২০২০ ইংরেজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: