বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে তিনি এখনো জামায়াতের আমীর !

  • সময় শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

‘ম্যানগ্রোভ এসেটস লিঃ’ নামের একটি বেসরকারী কোম্পানির এমডি পদে থাকার সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোম্পানির এক কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ প্রমানিত হওয়ায় কোম্পানি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন চকরিয়া দক্ষিণ উপজেলা শাখা জামায়াতের আমীর মোজাম্মেল হক। এক কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেও তিনি এখনো জামায়াতের উপজেলা সভাপতি ও রুকুন পদে বহাল আছেন বলে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর মত একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলে এরকম দুর্নীতিবাজ লোক কিভাবে নেতৃত্বে থাকতে পারে এ বিষয় নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
জানা যায়, ‘ম্যানগ্রোভ এসেটস লিঃ’ নামের চকরিয়া ভিত্তিক একটি বেসরকারী কোম্পানির এমডি পদে ছিলেন চকরিয়া দক্ষিণ উপজেলা শাখা জামায়াতের আমীর ও সাবেক শিবির নেতা মোজাম্মেল হক। এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয় গত ২০১১ সালে। বিগত কয়েক বছরের নীরিক্ষা রিপোর্ট মতে মোজাম্মেল হক কোম্পানির এমডির ক্ষমতা ব্যবহার করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আত্মসাৎ করে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এই কারণে তাকে কোম্পানির এমডি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। জামায়াতের জেলা পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতার প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠা মোজাম্মেল হক আসন্ন ইউপি নির্বাচনের আগে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদ্য বিদায়ী কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্রয়ে মোজাম্মেল হক বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি এতটা বেপরোয়া ছিলেন যে, ২০১৯ সালে নিজ দলীয় নেতা পেকুয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জুকে অপহরণ করে জোরপূর্বক স্টাম্প নেন। ওই সন্ত্রাসী ঘটনার মামলার ১নং আসামী হন মোজাম্মেল । পরবর্তীতে জামায়াত নেতাদের মধ্যস্থতায় বড় অংকের টাকার বিনিময়ে আপোষ করেন তিনি।

জানা যায়, আসন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন চলছে। উক্ত নতুন কমিটিতে মোজাম্মেল হক আরো বড় পদ পেতে লবিং শুরু করেন। উক্ত পদ পেতে কক্সবাজার জেলা ও চকরিয়া উপজেলার কয়েকজন জামায়াত নেতার মাধ্যমে মোজাম্মেল হক লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তারমতো একজন দুর্নীতিবাজকে আবারো জামায়াতের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেয়া হতে পারে এমন খবরে চকরিয়া জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

অভিযোগ রয়েছে বিষয়টি নিয়ে ওই কোম্পানির লোকজন সাবেক জেলা আমীর মোস্তাফিজুর রহমান কাছে নালিশ করেও প্রতিকার পাননি। তাই কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারবৃন্দ আদালতের আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে ।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: