শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে অস্থির ডিমের বাজার : নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে

  • সময় শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

#শাহীন মাহমুদ রাসেল:

কক্সবাজারে হঠাৎ করে অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার। দুই মাস আগেও খামারে ডিমের প্রতি ডজন ৬৬ থেকে ৭২ টাকা বিক্রি হলেও তা এখন বেড়ে তিন অংকে গিয়ে ঠেকেছে। কোথাও কোথাও তা ১১০ টাকা, এমকি ১১৫ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও বেশ কিছুদিন ধরে অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। দিনে দিনে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি পণ্য। অথচ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি নেই বললেই চলে। করোনাকালে নিত্যপণ্যের বাজারের এমন অস্থিরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

প্রাণঘাতী করোনার পাশাপাশি সর্বনাশা বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন। করোনাকালে মানুষের আয় কমলেও নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছেই। চাল ও পিঁয়াজের দাম এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সবজির বাজারেও আগুন। এখন ৬০ টাকার নিচে ভালো মানের কোনো সবজি পাওয়া যায় না। মাছের বাজারে ইলিশ ছাড়া অন্যগুলোর দামেও ঊর্ধ্বগতি। মাংসের বাজারেও স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা। শুধু সবজি নয়, বাজারে এখন ভোগ্যপণ্য ডাল, ডিম, তেল, গরুর মাংস, মুরগির মাংস ও আদার দাম চড়া। বাজার যেন নিয়ন্ত্রণহীন, দেখার কেউ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউনের মধ্যে কয়েক দফা দাম কমলেও গত কিছুদিন ধরে কক্সবাজার জেলায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ডিমের দাম। পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে পিস প্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা করে। অর্থাৎ হালি প্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১২ থেকে ১৬ টাকা। আর ডজন প্রতি বেড়েছে ৩৪ থেকে ৪৫ টাকা।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি করছেন। আর এক ডজনের কম নিলে প্রতি হালি ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ৩৫ টাকা। অপরদিকে মুদিদোকানে প্রতি পিস ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকা।

বর্তমানে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। যা লকডাউনের মধ্যে ছিল ৬৬ থেকে ৭০ টাকা। তবে কোরবান ঈদের পর এক লাফে ডিমের দাম বেড়ে এ পর্যায়ে আসেনি। কিছুদিন ধরে কয়েক দফায় ডিমের দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। এদিকে, খামারে ব্রয়লার মুরগির খাদ্য উপাদানের দাম বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ। এর ফলে খরচ পোষাতে না পেরে প্রান্তিক অনেক খামারি ডিম উৎপাদন থেকে সরে এসেছেন। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

খামারিদের অভিযোগ, ডিম বিক্রিতে খামারিদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভ করে খুচরা বিক্রেতারা। ফলে লাভের বেশির ভাগ ভোগ করে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা।

বড় বাজারে আসা কামরুল নামে এক এনজিও কর্মী বলেন, শহর এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য নয়। এখানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে অথচ মানুষের আয় কমেছে। বাজারে জিনিসপত্রের সংকট নেই তবু চাওয়া হচ্ছে বাড়তি দাম। আমরা চরম বিপদে আছি। তবে সবজিবিক্রেতা শুক্কুর বলেন, বাজারে সবজি কম। সারা দেশে বন্যার পানিতে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। যতটুকু বাজারে আসছে তার দাম চড়া। আমরা বাড়তি দামে কিনে বাড়তি দামেই বিক্রি করছি।

খামারি ও আড়ৎদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খামারিদের খরচ হচ্ছে ৬ থেকে সাড়ে ৬ টাকা পর্যন্ত। খামারিরা প্রতিটি ডিম বিক্রি করছে ৭ টাকা পর্যন্ত দামে। আড়ৎদাররা পাইকারি বিক্রি করছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৮ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে ৯ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হলে আমাদের কী করার আছে? এর জন্য মনিটর করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: