রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

ঢাকার অর্ধেক মানুষ আক্রান্ত: সামনে তাহলে কী হবে

  • সময় শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

BBC
বাংলাদেশে এক গবেষণায় ঢাকার প্রায় অর্ধেক মানুষের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে যাওয়ার যে তথ্য এসেছে, সেটা দেশটির প্রতিটি মানুষের জন্য ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন।

তারা মনে করেন, সংক্রমণের সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় বাস্তবতা আরও উদ্বেগজনক- সেখানেই শংকার বিষয়টি গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যেমন স্বস্তিতে থাকা যাবে না এবং একই সাথে অতিরিক্ত আশংকারও কিছু নেই।

সরকারের আইইডিসিআর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিডিডিআর,বির যৌথ এই গবেষণার নমুনার সংখ্যা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা।

ঢাকার ৪৫ শতাংশ মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। এই হারকে ভিত্তি করে বলা হচ্ছে, ঢাকায় ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় এক কোটি মানুষ।

রাজধানীর বস্তি এলাকায় সংক্রমণের হার আরও বেশি অর্থ্যাৎ ৭৪ শতাংশ।

কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সংক্রমণের যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তাতে ঢাকায় এপর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখেরও কম।

বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক একজন পরিচালক ড: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে ঝুঁকি যে বাড়ছেই, গবেষণায় তা উঠে এসেছে। এছাড়া নিম্ন আয়ের বা কোনো স্তরের মানুষই ঝুঁকির বাইরে নয়, তাও প্রমাণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

“গবেষণায় যখন ৪৫ ভাগ বলছে, তখন আমাদের ধরে নিতে হবে যে, ঢাকায় এক কোটি মানুষ কোনোনা কোনো সময় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া খুব আলোচনা হচ্ছিল যে, আমাদের দেশের খেটে খাওয়া মানুষ বা বস্তির মানুষ সম্ভবত আক্রান্ত হয় না। এই মিথটা ভুল-সেটা এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। বস্তির মানুষও আক্রান্ত হয়েছে এবং তারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের লক্ষ্মণ কম হয়েছে এবং তারা উপসর্গ চেপে গেছে, তাদের জীবিকার স্বার্থে।”

“সুতরাং আমাদের ১৭কোটি মানুষই ঝুঁকিপূর্ণ। এটা থেকে প্রমাণ হয়েছে। সুতরাং আমাদের বিরাট ঝুঁকি। ১৭ কোটি মানুষের জন্যই ঝুঁকি।”

গবেষণায় এও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮২ শতাংশেরই কোনো উপসর্গ নেই। এ ধরণের আক্রান্তের সংখ্যা যে অনেক বেশি- সেটাকেই বেশি উদ্বেগের এবং শংকার বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করেন, যখন সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, বড় অংশের মানুষের দেহে যখন অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে, তখন হার্ড ইমিউনিটি বা প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে কিনা-এই প্রশ্নেও নানা আলোচনা চলছে। তবে এটি নাকচ করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

আইসিডিডিআর,বির সাথে সরকারের আইইডিসিআর যৌথভাবে গবেষণাটি করেছে।

আইইডিসিআর এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: এ এস এম আলমগীরও মনে করেন, পরিস্থিতিটা ঝুঁকিপূর্ণ।

“সংক্রমণ যেহেতু উপসর্গহীনই বেশি। ফলে আমার আপনার আশে পাশে কে করোনাভাইরাস নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমরা কেউ সেটা জানি না। মাস্ক ছাড়া উপসর্গহীন রোগী ঘুরে বেড়ায়, সেও কিন্তু এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। এবং আমি আপনি যতই সতর্কতা অবলম্বন করি না কেন-আমাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থেকে যাচ্ছে।”

মি: আলমগীর আরও বলেছেন, “হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। এটা আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে একেবারেই ঠিক না। কারণ করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে যে অ্যান্টিবডি ডেভলপ করে,সেটার পরিমাণ অনেক কম এবং দেড় দুই মাসের মাথায় আবার কমতে শুরু করে। আর যাদের ক্রিটিক্যাল অবস্থা থাকে, তাদেরও শরীরে পরিমাণ একটু বেশি থাকে। কিন্তু সেটাও তিন মাস থেকে কমতে শুরু করে এবং ছয় মাস পর অ্যান্টিবডি আর থাকে না।”

তিনি উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয়দফায় অনেকে আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশেও দু’জনের দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

কিন্তু গবেষণায় নমুনার সংখ্যা নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রশ্ন তুলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে তাদের কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু মাত্র ৬৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫ শতাংশের অ্যান্টিবডির যে তথ্য পাওয়া গেছে, এর ভিত্তিতে পুরো ঢাকার চিত্র তুলে ধরা বা কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

গবেষণার সাথে জড়িতরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তারা এই গবেষণা করেছেন।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, “অনেকের মনে হতে পারে যে, এতজনের যেহেতু অ্যান্টিবডি ডেভেলপ করেছে, ফলে আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিষয়টা কিন্তু তাও নয়। আর দ্বিতীয় দফায় ইনফেকশন হচ্ছে, এরকম উদাহরণ বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেছে।”

“সুতরাং আমি বলতে চাই যে, আমাদের যাতে দ্বিতীয় ওয়েভে আরেকবার সংক্রমণ না বাড়ে, সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিরোধ করাটাই একমাত্র উপায়। এখানে স্বস্তি বা অন্য কোনো রকম আশংকা কোনোটাই নেই।”

বিশেষজ্ঞরা
স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করে প্রতিরোধের প্রশ্নেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: