শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

ইনানীর অঘোষিত ‘জমিদার’ হোটেল রয়েল টিউলিপ-হুমকির মুখে স্থানীয় জনগোষ্ঠী

  • সময় শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৩৪ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্ট (অনলাইন)::

বিশেষ বাহিনীর নাম ব্যবহার করে ইনানীতে চর দখলের মহড়া দৃশ্যমান

সর্বনাশ ডেকে আনছে পর্যটনেরও
তীব্র লোভাতুর যুদ্ধাংদেহী আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ইনানীতে গেঁড়ে বসেছে বিলাসবহুল হোটেল রয়েল টিউলিপ। বিশ্বের একমাত্র দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের পর্যটন সুবিধাকে পুঁজি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আড়ালে এবার প্রকাশ্যে ইনানীর চর দখল করে যাচ্ছে হোটেলটি। বিভিন্ন ছলে বলে কৌশলে ইনানী সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণ করে একের পর এক দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করার মতো জঘন্য অপতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৫ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর হোটেলটির জন্ম হলেও নির্মাণের শুরুর দিকে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে স্থানীয় সচেতন মহলের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। রয়েল টিউলিপ কর্তৃপক্ষ তখন মৌখিক ভাবে আশ্বাস দিয়েছিলো- হোটেলটি যতই বিলাসবহুল হউক না কেনো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ করেই পরিচালিত হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৫বছর পর এখন সে সব আশ্বাসে গুড়েবালি। পক্ষান্তরে আধুনিক পর্যটনের ধোঁয়া তুলে প্রকৃতি বিনষ্ট, চর দখল, স্থানীয়দের কর্মে নিয়োগ না দেওয়া, গণমাধ্যকর্মীদের কাছ থেকে তথ্য গোপন, যোগাযোগে অনীহা, জনগণের চলাচলের রাস্তায় বেআইনী প্রতিরোধক স্থাপনসহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় মেতে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। হোটেলটি যেখানে নির্মিত হয়েছে তা প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এতদসত্তে¡ও এসব কিছুর তোয়াক্কা না করে নিজস্ব আইন কানুন বানিয়ে ইচ্ছে মতো দখল করে যাচ্ছে ইনানীর সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি বেস্টিত চর। অভিযোগ রয়েছে, তারা এসব কাজে একটি বিশেষ বাহিনী ও প্রশাসনকে প্রতারণামূলক তথ্য প্রদান পূর্বক আনুকুল্য অর্জন করে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হোটেলটির সামনে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকার কমপক্ষে ৩একর জমি অবৈধভাবে দখল করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। যেখানে তারা তাদের হোটেলের অতিথিদের জন্য বেশকিছু স্থাপনা নির্মাণ করেছে এবং কিছু অস্থায়ী স্থাপনা করে রেখেছে। যার মধ্যে রয়েছে- কনক্রীটের চেয়ার তথা বসার স্থান, কিড্স জোন সামগ্রী, একটি কুলিং কর্ণার, ব্যায়াম সামগ্রী, ৩০টি কীটকট চেয়ার ও ছাতা। আরও দেখা গেছে, দখলকৃত উক্ত জমির চতুরপার্শ্বে জিও ব্যাগ ফেলে বালি দিয়ে ভরাট করে পাড় নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রয়েল টিউলিপ কর্তৃপক্ষ সু² কৌশলে জমিটি হাতিয়ে নিয়েছে এবং নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে। এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় ঘটনাস্থলেই। সেখানে রয়েল টিউলিপ কর্তৃপক্ষ রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে ‘রিসোর্টের সংরক্ষিত এলাকা, পার্কিং নিষেধ এবং অনধিকার প্রবেশ নিষেধ’ লিখে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত¡াবধানে ৩২ দেশের নৌ প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মহড়া ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটির উদ্ভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। বিভিন্ন দেশের নৌ প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানের বেশিরভাগই আয়োজন ছিলো হোটেল রয়েল টিউলিপে। এসময় আয়োজক কর্তৃপক্ষ হোটেলটির সামনে অর্থাৎ প্রধান ফটকের ঠিক বিপরীত দিকে কমপক্ষে ৩একর জমি ভরাট করে অস্থায়ীভাবে একটি প্যান্ডেল তৈরি করে। যেখানে এখনও ‘সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা একটি সাইনবোড় টাঙ্গানো রয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে এই সাইনবোর্ডটি নৌ বাহিনী তখন তাদের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে টাঙ্গিয়েছিলো। পরবর্তীতে অনুষ্ঠান শেষে ওই সাইনবোর্ডটি আর সরিয়ে ফেলা হয়নি। পাশাপাশি প্যান্ডেলের ওই জায়গাটিই এখন রয়েল টিউলিপ নিজেদের মতো করে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করে আসছে। এটি স্থানীয় এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ রুখতে দারুণ ভাবে কাজ করছে; যা একধরণের কাগুজে বাঘের হাঁক-ডাক হুঙ্কারের মতো।
পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে- জায়গাটিকে ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারী উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ‘বীচ ভিউ পয়েন্ট’ নাম দিয়ে একটি ফলক স্থাপন করা হয়। যেখানে লেখা রয়েছে- ‘এটি উদ্ভোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন’। এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন বিভাগ থেকে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু একাধিক বার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও প্রতিবেদকের মুঠোফোন নাম্বার থেকে একটি ক্ষুদেবার্তাও পাঠানো হয়। ৪৮ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও জেলা প্রশাসকের তরফ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় কোনো ধরণের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আরও বিস্তারিত।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: