মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

টার্মিনালে ইয়ার মহম্মদের ইয়াবা ব্যবসার সহযোগী তার দুই পুত্র!

  • সময় শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

ক্রাইম রিপোর্ট::
বারবার আটক হলেও ইয়াবা ব্যবসা ছাড়তে নারাজ টার্মিনালের ইয়ার মহম্মদ ও তার দুইপুত্র!

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বারবার একাধিকবার আটক হলেও জামিনে বের হয়ে পুণরায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে কক্সবাজার কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ইয়ার মহম্মদ ও তার দুই পুত্র আজম এবং মিজান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- যতই ঝড়ঝাপটা আসুক না কেনো কোনো ভাবেই তারা এই মাদক ব্যবসা ছাড়তে নারাজ। সূত্রমতে- সর্বশেষ গত ২২জুলাই মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে আটক কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের হাতে একশো ইয়াবাসহ আটক হয়েছিলো ইয়ার মহম্মদের পুত্র মিজান। এরপরে গত কিছুদিন পূর্বে সে জামিনে বের হয়। এখন নতুন করে পূনরায় পূর্বের সেই মাদক ব্যবসায় পিতা ইয়ার মহম্মদের হাত ধরে ব্যবসার জাল বুনছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকার মাদক মামলার আসামী চিহ্নত ইয়াবা ব্যবসায়ী আজম ও মিজানের দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এই ব্যবসা করে গড়েছে সম্পদের পাহাড়! তাদের পিতা ইয়ার মহাম্মদ বিগত ৭-৮ বছর আগে পাড়া-মহল্লায় কেরোসিন তেল সাপ্লাই দিতো, ভ্যান চালিয়ে সংসার চলাতো। তাদের ঘরের মধ্যে ছোট একটি মুদির দোকান ছিলো যা তার স্ত্রী ও সন্তানরা দেখাশোনা করতো। পরবর্তীতে ইয়াবা ব্যবসা করে বাড়ির কাছে গলিতে টমটম গাড়ির একটি খুচরা পার্টসের দোকান দেয়, আর গত কয়েক বছরে গড়ে তুলে সম্পদের পাহাড়! রয়েছে ৬/৭ টি দোকান ও ৪ টি জমি! ৩টি জমিতে সুরম্য ভবনও নির্মানাধীন।
অভিযোগের সুত্রমতে, কক্সবাজার সদরের পূর্ব লার পাড়ার এয়ার মহাম্মদ ও রোকেয়া বেগমের পুত্র মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ আজম চিহ্নিত মাদক কারবারী। ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর পুর্ব লারপাড়া আব্দুল করিমের পানের দোকানের সামনে থেকে ইয়ার মহাম্মদ ও রোকেয়া বেগমের পুত্র মোহাম্মদ আজম ১ হাজার ইয়াবাসহ কক্সবাজার সদর থানার পুলিশের হাতে আাটক হয়। যার মামলা নং ৩০/৯৬০। অন্যদিকে এয়ার মোহাম্মদ ও রোকেয়া বেগমের আরেকপুত্র মিজানুর রহমান ২০১৮ সালে ৮ মে লার পাড়া মসজিদের পার্শ্ব থেকে জালালের দোকানের সামনে থেকে ২০ পিস ইয়াবা সহ কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। যার মামলা নং৬০/৩৭৪।

সুত্রমতে, তারা পারিবারিকভাবে জমজমাট ইয়াবা কারবার করে আসছে র্দীঘ দিন ধরে। শুরুর দিকে তারা খুচরা কারবারী হলেও বর্তমানে নামকরা ইয়াবার ডিলার আজম ও মিজান দুই ভাই। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর সোর্স দাবীদার আজম প্রাশাসনকে ম্যানেজ করে বলে একটি সুত্রে জানাযায়। খোঁদ মিজান নিজেই গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দম্ভোক্তির সুরে বলে নিউজ করে কোন লাভ নেই; পুলিশ আমার পকেটে! পুলিশের কাছ থেকে মাল ( ইয়াবা) নিয়ে বিক্রি করি, কে কি করবে!
ইয়ার মহম্মদের ছেলে আজম ও মিজান প্রথমে টার্মিনালে গাড়ি পরিস্কারের কাজ করলেও এখন তাদের বিলাস বহুল জীবন যাপন! নিত্যনতুন মডেলের মোটর সাইকেল! কিন্তু তাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নেই!
এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা জানান, লাহার পাড়ায় চিহ্নিত কিছু ইয়াবা পরিবারের কারণে পুরো লার পাড়া ইয়াবাপাড়া হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, যা এলাকাবাসীর জন্য খুবই লজ্জাজনক এবং উদ্বেগের বিষয়। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে যুবসমাজকে ইয়াবার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা দুরূহ হয়ে পড়বে।
এলাকা বাসী কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবী জানান, এইসব ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: