সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

পূর্ব রেলের অফিসে অফিসে মাদকাসক্ত বখাটের উৎপাত

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেস্ক ঃঃ
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বেড়েই চলছে মাদকাসক্ত বখাটেদের উৎপাত। তাদের উৎপাতের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রেলওয়ের প্রায় ৫ শতাধিক ঠিকাদার। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বখাটেরা সিআরবি ও পাহাড়তলীতে রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরি করলেও তাদের নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বখাটেরা রেলওয়ে দপ্তরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করার একটাই উদ্দেশ্য— এরা ঠিকাদারদের টার্গেট করে নেশার টাকা জোগাড় করে। আবার অনেকেই ওঁৎ পেতে থাকে ঠিকাদারদের আসার অপেক্ষায়। তাদের ইচ্ছেমতো টাকা না পেলে অনেক ঠিকাদারকে হতে হচ্ছে লাঞ্ছিত। আবার লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে অনেকে তাদের ১০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে বাধ্যও হচ্ছে প্রতিদিন।

সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ডিইএন (১) এর দপ্তরে এক বখাটেকে টাকা না দেওয়ায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ফেমাস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী শাহাবুদ্দিন নামের ৫০ বছর বয়সী এক ঠিকাদার। তাকে লাঞ্ছিত করে আবদুর রবি নামের এক মাদকাসক্ত বখাটে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ এ আসেন ঠিকাদার শাহাবুদ্দিন। তিনি বিভাগীয় প্রকৌশলীর অফিসে ঢুকতেই তার কাছ থেকে চা-নাস্তা বাবদ ৫০০ টাকা দাবি করে স্থানীয় বখাটে আবদুর রব। ঠিকাদার শাহাবুদ্দিন তাকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বখাটে আবদুর রব তাকে শার্টের কলার ধরে টানাটানি করে।

তবে এ ব্যাপারে বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) আব্দুল হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ঘটনায় তার কাছে এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বখাটেরা প্রতিদিন নেশার টাকা যোগাড় করতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ের কর্মচারীদের মতো অফিসে এসে বসে থাকে। অধিকাংশ ঠিকাদারই তাদের চেনা। দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারদের মালামাল আনলোড ও টেন্ডার চলাকালে এদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পায়। সরকারি কর্মকর্তারা বাদ যায় না তাদের হাত থেকে। বিশেষ করে রেল ভবন সিআরবি সিসিএস, ডিআরএম, ডিসিওএস, ডিটিও, দপ্তরে বখাটেদের আনাগোনা বেশি।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, সিআরবি এলাকার চিহ্নিত বখাটে তোতা, আলমগীর, আসিফ, দুলু, হানিফ, ফারুক, চান মিয়া, পাহাড়তলী এলাকার রব, মন্ডল, শাহিন, সোহাগের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বেশ কিছু ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, সিআরবি এলাকার কিছু বড়ভাই তাদের ব্যবহার করছে দরপত্র পাহারার কাজে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: