শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

‘কক্সবাজার শহরবাসীর দুঃখ’ ঘুচবে কবে?

  • সময় বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

শাহীন মাহমুদ রাসেল:

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজারের বিভিন্নস্থানে পাহাড় কাটার কারণে পাহাড়ধোয়া মাটি এসে ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় ড্রেনের উপরিভাগ দখল করে পাকা তৈরি হয়েছে নানা স্থাপনা। এতে, বাজারঘাটার জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না পৌরবাসীসহ পর্যটকদের।

স্থানীয় সাইফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, কয়েকবছর আগে তৎকালীন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বাজারঘাটা ও চাউল বাজার এলাকায় বড় বড় পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে ড্রেন দখলমুক্ত করে খননকাজ চালিয়েছিলেন। সেসময় জলাবদ্ধতা কিছুটা কমলেও, বর্তমানে আবার আগের রূপে ফিরে এসেছে। বর্ষার প্রথমদিনের বৃষ্টিতেই ডুবে গেছে বাজারঘাটা। শেষের দিকেই অবস্থার তেমন কোন উন্নত হয়নি।

তিনি বলেন, শহরের বাজারঘাটার এ সমস্যা এক-দুইদিনের নয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অথচ, কক্সবাজার একটি বিখ্যাত পর্যটন শহর। এখানে সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটক আসা-যাওয়া করেন। সবচেয়ে বড় কথা, বাজারঘাটা পেরিয়েই পর্যটকদের বিখ্যাত বার্মিজ মার্কেটে যেতে হয়।

স্থানীয় বেসরকারি চাকরিজীবী আমান উল্লাহ বলেন, আমার বাসা বাজারঘাটাতেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই আর বাসা থেকে বের হতে পারি না। তখন অপেক্ষা করা অথবা ভিজতে ভিজতে বের হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। বিশেষ করে, সকালে বৃষ্টি হলে যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। ছেলে ঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারে না, আমারও অফিস যেতে সমস্যা হয়।

তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তো আছেই, এর কারণে প্রধান সড়ক, উপ-সড়কগুলোতে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। তখন শুধু বাজারঘাটা এলাকা পার হতেই লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর, যানজটের সময় ড্রেনের পচা দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপরে চলে আসায় পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হতেও অস্বস্তি লাগে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারঘাটার সাজ্জাদ ইলেকট্রনিক্স এর সামনে থেকে আবু সেন্টার পর্যন্ত সড়কের ওপর পানি জমে আছে, আর সড়কের দু’পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সামনে চার থেকে ছয় ফুট উচ্চতায় দেয়াল নির্মাণ করে নিয়েছেন, যাতে বৃষ্টি হলে পানি ভেতরে ঢুকতে না পারে। তবে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অরুণোদয় স্কুল পর্যন্ত অবস্থা আরো খারাপ।

বাজারঘাটা এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কক্সবাজারের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাজারঘাটা। কিন্তু, সড়কের এ চিত্র দেখলেই বোঝা যায়, আমরা কী দুর্ভোগের মধ্যে আছি। বৃষ্টি হলেই বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান আছে। এটিও চিরস্থায়ী সমস্যা নয়। মূলত দায়িত্বশীলদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাবেই এর সমাধান হচ্ছে না। অনেক জায়গায় ড্রেনের মুখ খোলা পড়ে আছে। যে কারণে, জলাবদ্ধতার সময় ড্রেন আর রাস্তা বোঝা যায় না। এতে, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাজারঘাটার নিউ মার্কেট থেকে আবু সেন্টার পর্যন্ত সড়কে পড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন আহত হচ্ছেন।

ওই বাসিন্দারা বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য বাজারঘাটচার ব্যবসায়ীরাও সমান দায়ী। তারা দোকানের সব ময়লা-আবর্জনা রাস্তার ওপর জমা রাখেন। বৃষ্টি হলেই এসব ময়লা ড্রেনে গিয়ে বাধে। অনেক সময় ময়লার কারণে ড্রেনের উপরিভাগে পানি ঢোকার পথও বন্ধ হয়ে যায়। এর কারণেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে সবাইকেই সচেতন হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আলম বলেন, খুব বেশি বৃষ্টি না হলে পৌর এলাকায় জলজট বা জলাবদ্ধতা হয় না। যখন ভারি বৃষ্টি হয়, তখন জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আর টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত ড্রেন ও নালা নর্দমা পরিষ্কার করা হয়। কোথাও যদি ময়লা আটকে যায় তাহলেই জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ হয়। ইতিমধ্যে অনেক সড়কের টেন্ডার হয়েছে। তবে আমরা সবসময়ই জনদুর্ভোগ নিরসন করে কাজ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি।

এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, রাস্তাগুলোর পানি নিষ্কাশন করতে ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান। আর সড়ক সংস্কার করতে নতুন করে দরপত্র হয়েছে। ড্রেন নির্মাণ শেষ হলেই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: