সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

বালুখালিতে চিকিৎসা সেবার নামে রোগীর স্বজনদের পকেট কাটছে ‘ডক্টর চেম্বার’

  • সময় মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব সংবাদাদাতা::

উখিয়ার বালুখালিতে চিকিৎসা সেবার নামে রোগী ও তার স্বজনদের নানা অজুহাতে অর্থ লুট করে নিচ্ছে বালুখালী ল্যাব এন্ড ডক্টর চেম্বার নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক। অভিযোগ উঠেছে- রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে বাধ্য করা, অখ্যাত অপরিচিত কোম্পানীর ওষুধ সরবরাহ করা এবং ক্লিনিক মালিকদের মর্জি মতো কাজ না করলে ডাক্তারদের সাথে দুর্ব্যবহার করে বিতাড়িত করাসহ আরও নানা উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় সেখানে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থখাতে ব্যাপকভাবে সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি ভাবেও সেখানে কোনো মান সম্মত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখনও নির্মিত হয়নি। এটাকে পুঁজি করে স্থানীয় কতিপয় লোকজন সিন্ডিকেট বেঁধে ডক্টর চেম্বার নাম দিয়ে ল্যাবের কিছু যন্ত্রপাতি এনে নাম সর্বস্ব একটি হাসপাতাল তৈরি করে। শেষ ভরসা হিসেবে স্বাস্থ সেবা প্রার্থী স্থানীয় লোকজনও অনন্যোপায় হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। নানা কারণে জিম্মি হয়ে পড়া এসব রোগীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে অযথা টেস্ট দিতে বাধ্য করেন। এবং এভাবেই প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর কোনো ডাক্তার যদি কর্তৃপক্ষের মর্জি মতো কাজ না করে তাহলে তাকে হেনস্থা করে বিতাড়িত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, তিনি কয়েক মাস এই হাসপাতালে চাকরি করেছেন। এসময় তিনি দেখতে পান রোগীদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র। তাদের অবস্থা দেখলে নিয়মিত ভিজিটই নিতেন না তিনি। সেখানে এধরণের রোগিদের অজ্ঞতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র টাকার লোভে অপ্রয়োজনীয় সব টেস্ট করতে দিতেন। আর এই অপ্রয়োজনীয় টেস্ট গুলো লিখে না দেওয়ায় তাকে হাসপাতাল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসক সেখানে একটি এনজিওর হয়ে কাজ করবেন এবং অবস্থান করবেন একারণে নিরাপত্তাজনিত বিষয়টি মাথায় রেখে নাম প্রকাশ করতে অনুরোধ করেছেন প্রতিবেদককে।

অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক হেলাল মিঞার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বারবার দেখা করে বিস্তারিত জেনে নিতে বলেন। এছাড়াও তিনি প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন- স্থানীয় বড় ভাই, নেতা, মেম্বার ও সাংবাদিকদের সাথে নিয়েই তিনি এই হাসপাতাল পরিচালনা করছেন বলে জানান। এসময় হেলালের ফোন কেঁড়ে নিয়ে রুহুল আমিন মেম্বার পরিচয় দিয়ে একজন বলেন এরকম বহু সাংবাদিক তার আছে। সুতরাং এই বিষয় নিয়ে যেনো বাড়াবাড়ি করা না হয়।

এবিষয়ে জেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে যোগযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করতে ব্যার্থ হওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও তাঁকে একটি ক্ষুদেবার্তা দিয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে বক্তব্য সংযুক্ত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: