সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত বাকেরগঞ্জ গড়তে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখবো -সাজ্জাদ হোসেন রানা

  • সময় শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৯২ বার পড়া হয়েছে

মহিবুল ইসলাম সৌরভ
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক তরুণ লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও নুরজাহান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন রানা বলেন, ঐতিহ্যবাহী বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা ৯৫ ভাগ মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত উপজেলা। আমরা আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় উপজেলা বাকেরগঞ্জ কে নিয়ে গর্ব করি। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা মাটির সাথে মিশে আছে আমাদের প্রাণ। অনেক ভালোবাসি প্রাণের মাতৃভূমি কে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা দেখি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধের সংখ্যা বেড়ে চলছে। এই সব কিছুর একটি কারণ সেটি হচ্ছে মাদক ব্যবসা এবং মাদক সেবন। কারণ জানতে চাইলে সাজ্জাদ রানা বলেন, যারা মাদক সেবন করে তারা নিজেদের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়। বর্তমানে মাদকাসক্তি আমাদের সমাজে এক সর্বনাশা ব্যাধিরূপে বিস্তার লাভ করেছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তারে বিশ্ববাসী আজ শঙ্কিত। দুরারোগ্য ব্যাধির মতই মাদক তরুণ ও যুব সমাজকে গ্রাস করছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই যেন মাদকের ভয়াবহতা বাড়ছে। বিশেষ করে আমাদের মতো মধ্যম আয়ের দেশের জন্য মাদকাসক্তি একটি বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি থাকা সত্ত্বেও যেন দেশ ও জাতিকে মাদকমুক্ত করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকাসক্তি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, মাদকদ্রব্যের সবচেয়ে বিপদজনক দিক হচ্ছে এটি সমাজের তরুণ ও যুবকদের আকৃষ্ট করে। ফলে জাতির মূল্যবান সম্পদ তরুণ ও যুবকরা মাদকদ্রব্যের মায়াজালে আটকা পড়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মাদকের ভয়ানক ছোবলে বিনষ্ট হচ্ছে অসংখ্য তরুণ ও যুবকের তাজা প্রাণ, আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে অসংখ্য তরুণ ও যুবকের অমিত সম্ভাবনাময় জীবন। তরুণ ও যুবকরাই হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড আজ ভেঙে পড়ছে মাদকের ভয়ানক থাবায়। মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মরছে লক্ষ লক্ষ কিশোর, তরুণ ও যুবক। আর্থিক ও সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের পরিবার।
মাদকদ্রব্য দাবানলের মতই ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে ও স্কুল-কলেজ, ভার্সিটিতে। তিনি মাদককে না বলেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন। কোন ছেলে যদি মাদকাসক্ত এবং মাদকের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে তাহলে সেই ছেলে যেন স্বেচ্ছায় স্ব স্ব থানায় যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করেন এবং আলোর পথে ফিরে আসেন। যদি কোন ছেলে স্বেচ্ছায় মাদক ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসে। তাহলে তাকে আমি আলোকিত পথ দেখাতে সাহায্য করবো, ইনশাআল্লাহ। দেশে দিনদিন বেড়েই চলেছে মাদকের ভয়াবহতা, মাদকাসক্তি আমাদের সমাজে এখন মহামারি আঁকার ধারণ করেছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে তা এখনো অপ্রতুল বলা যায়। কারণ মাদক এখন শহর এলাকা ছাড়িয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে গেছে। মাদক প্রতিরোধে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে, অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সীমান্তের কোন রুট দিয়ে যেন মাদক আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি পরিবারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, প্রতিটি পারিবারের উচিৎ তার স্বজনদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি করা। আমরা যদি এখনই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকারী পদক্ষেপ না নিতে পারি তাহলে আগামীতে এর পরিণাম হবে আরও ভয়াবহ। আমি গ্রামের সাধারণ মানুষ যারা শিক্ষিত এবং বেকার তাদের কথা চিন্তা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে কাজ করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: