বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে আখ চাষে নতুন সম্ভাবনা

  • সময় মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

শাহীন রাসেল,স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:

আখ চাষে লাভবান হওয়ায় কক্সবাজারে বাড়ছে আখের আবাদ। বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা নিয়মিত আখ চাষ করে প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও জেলার কৃষকরা আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগেভাগেই আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন, আশানুরূপ দাম পেয়ে চলতি বছরও খুব খুশি চাষীরা।

রামুর চাষিরা জানান, উপজেলার কাউয়ারখোপ, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর আমনের চাষ করেন চাষিরা। কয়েক বছর ধরে ধানের দাম না পাওয়ায় তাঁরা বিকল্প ফসল আবাদের চিন্তা করেন। এরই মধ্যে কয়েক মৌসুম থেকে আখের চারা লাগিয়ে চাষ শুরু হয়। চাষের সাফল্য আসায় এখন রামুর বিভিন্ন গ্রামে বাড়ছে আখের খেত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে কাউয়াখোপের গাওচ্ছ্যা পাড়া বিলে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আখ। চাষিরা খেতের এক পাশে চুরি ঠেকাতে পাহারা দিচ্ছেন। কেউ কেউ খেত থেকে আখ কেটে আঁটি করতে ব্যস্ত। খেতেই পাইকারেরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কথা হয় চাষি আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আশপাশের সব জায়গাতে আখের চাষ হয়েছে। অনেকেই খেত থেকে বিক্রি করছেন। আমিও ১৬ শতকে চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় চড়া দাম পাওয়া যাচ্ছে।

চাষি কায়ুম উদ্দিন বলেন, এবার আখের ফলন ভালো হয়েছে। আমি ৮০ শতকে চাষ করেছি। আমনে খরচ হতো ৫০ হাজার, আখেও একই খরচ। ৪০ হাজার টাকার আখ বর্তমানে বিক্রি করেছি, খেতের সব আখ বিক্রি করে আরও অন্তত ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। গত বছরও এ রকম লাভ হয়েছে।

চাষিরা বলেন, প্রতি কানিতে (৪০ শতক) খরচ গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রতি কানিতে আখের সংখ্যা হয় গড়ে এক হাজার। প্রতিটি আখের বর্তমান দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা। চাষিরা পরিপক্ব আখ তুলে খেতের পাশে জড়ো করছেন। ব্যবসায়ীরা খেত থেকেই আকার অনুযায়ী কিনে নিচ্ছেন।

কিনতে আসা কক্সবাজার শহরের ব্যবসায়ী রজব আলী বলেন, খেত থেকে তোলা প্রতিটি আখ অনুমান করে দরদাম করা হয়। এরপর সেই আকারের আখ আলাদা করে গাড়িতে করে বাজারে নেওয়া হয়। বড় আকারের প্রতিটির ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকার চাষী ফরিদুল আলম বলেন, এ বছর আমি ৪ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। আর জমি তৈরি, চারা কেনা, শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। আশা করছি দেড় লাখ টাকার উপরে আখ বিক্রি হবে।

চাষী মনির আহাম্মদ বলেন, এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। বাজারে আখের দাম ভালো হওয়ায় আমি লাভবান হতে পারব।

রামু উপজেলার কাউয়ারখোপে চাষী রাহামত উল্লাহ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার রামুতে দ্বিগুনেরও বেশি কৃষক আখ চাষ করছে। কারণ গতবার ভাল লাভ হইছে। এবারও বাজার ভাল, লাভই হবে।

কাউয়ারখোপ বাজারের আখ বিক্রেতা রশিদ আহাম্মদ বলেন, আমার এক বিঘা জমিতে নিজে চাষ করি, পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের জমি থেকেও আখ কিনে বিক্রি করি। তাতে আমি লাভ করতে পারি। কৃষকও লাভ করতে পারে। তিনি আরোও বলেন, কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করে আমরা ভালোই টাকা আয় করি।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের ৮টি উপজেলার মধ্যে রামু, সদর ও চকরিয়া উপজেলা ছাড়া বাকি দুয়েকটি উপজেলাতেই আখের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হেক্টর, আর আখ চাষ করা হয়েছে ৮৬ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ হেক্টর বেশি। এতে ফলন উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন। অন্যদিকে গত বছর এ জেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে জেলায় আখ চাষের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে চাষীরা। আখ ক্ষেতে অন্যান্য সবজি আবাদ করে তা থেকে আখ চাষের খরচ উঠে আসে। পরে আখ বিক্রির টাকা এককালীন লাভ হিসেবে চাষীরা পেয়ে যায়। এখন জেলায় চিবিয়ে খাওয়ার জাতটি বেশি চাষ হয়।

তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে আখচাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ৩০ ভাগ আখ কাটা হয়েছে। আর প্রায় সাড়ে ২ হাজার কৃষক আখ চাষে জড়িত।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: