বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ও দায়: ইমাউল হক

  • সময় সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

মুক্তমত আলোকিত উখিয়া

১৷ব্যক্তিসত্তার ভূমিকা ও প্রতিষ্ঠান::

একজন মানুষ লেখাপড়া করে জ্ঞান-বুদ্ধি অভিজ্ঞতা অর্জন করে কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা পদবীতে সেই প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত থাকে। তার কার্যবিবরণী বা কর্মপরিধির মধ্যে তাকে কাজ করতে হয়। নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন বিধি প্রভৃতি শিষ্টাচার এবং অফিশিয়াল বন্ধনের মধ্য দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থার কাজ করতে হয়। সংস্থার নিয়ম ও বিধিতে যদি তাহাকে কোন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বলা হয় সে যদি তা করতে অপারগতা প্রকাশ করে, অবহেলা করে, করতে না পারে, ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত কাজের বিপরীত কাজটি করে তাহলে সেই দায়দায়িত্ব ওই নির্দিষ্ট পদবীর অফিসারের উপর বর্তায়।

কোন ব্যাংক কর্মকর্তাকে তার নিজের বাসায় আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বর এ টাকা জমা দেওয়ার জন্য আপনি তাকে 20000 টাকা সহ অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে দিলেন। উক্ত কর্মকর্তা ব্যাংকে টাকা জমা দিলে আপনার একাউন্টে টাকা জমা হয়ে গেল। এখানে ব্যক্তি চরিত্র ফুটে উঠল।কিন্তু সে যদি ওই টাকা আপনার একাউন্টে জমা না করে তাহলে সেই দায় আপনার এবং ওই ব্যক্তির অসৎ চরিত্রের। উক্ত টাকা টি ওই কর্মকর্তার ব্যাংকে দায়িত্ব কালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট ডেস্কে বসা অবস্থায় ব্যাংকের মধ্যে একটি ফরম পূরণ করে জমা স্লিপ সহ টাকা জমা দিলে সে যদি আপনার অ্যাকাউন্টে জমা না দিতো তাহলে ওই দায়দায়িত্ব ওই ব্যাংকের উপর বর্তাবে। ঐ শাখার দায়িত্বশীল দের উপরেও এর দায় নির্ভর করবে।তখন ব্যক্তির দায়টি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে।

ঠিক এ রকমই সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যক্তিসত্তা, পদে অধিকারী ব্যক্তির কর্মকাণ্ড ,কর্মপরিধির উপর, নির্ধারিত কর্মকাণ্ডের অবহেলা, গাফিলতি নির্ধারিত হয়। চুড়ান্ত হয় ব্যক্তির দায় না প্রতিষ্ঠান দায়।

ধরা যাক কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিধি বলে কোন ব্যক্তিকে ঋণ দিবেন বলে চুক্তিপত্র করলেন। সে মতো গ্রাহক সকল শর্ত পূরণ করে চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন। এখন ওই প্রতিষ্ঠানের উক্ত গ্রাহককে টাকা দিতে ব্যর্থ হলেন। প্রতিষ্ঠান প্রসপেক্টাস ও ম্যানুয়াল অনুযায়ী দেখা গেল উক্ত ব্যক্তি ওই ঋণ প্রদানের জন্য কর্তৃত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের ট্রাকার অভাবে গ্রাহককে ঋণ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে সাথে ঐ ব্যক্তিরও।
কিন্তু প্রতিষ্ঠান টাকা ছিল ওই ব্যক্তি টাকা প্রদানের পদে ছিলেন না। ক্ষমতাবান ছিলেন না‌ দায়িত্ব ছিল না। নিজেকে গ্রাহকের কাছে উপস্থাপিত করেছেন সে ঋণ প্রদান করতে পারবেন সে মর্মে একটি চুক্তি ও করেছেন। যেহেতু তার কর্তৃত্ব নেই প্রতিষ্ঠান তার কথায় টাকাও দেবে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক প্রতারিত হলে পরিপূর্ণতায় ওই ব্যক্তির।

২৷প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান সত্তা::

দশটি কলাগাছ এবং দুটি আম গাছ। এই বাগানকে কলাবাগানে বলা হবে। কিন্তু দুটি আম গাছের ডালপালা যদি দশটি কলাগাছকে ঢেকে বিস্তৃত করে। ব্যাপক আমের মুকুল হয়। প্রচুর সংখ্যক আম ধরে আর বাগানের অধিকাংশ জায়গা ব্যাপিয়া আম গাছের ডালপালা ব্যাপ্তি হয়। তখন ওই বাগানটির নাম কি হবে। এখানেই সমস্যা হয়ে যাবে।
এদিকে দশটি কলাগাছে উপযুক্ত পরিমাণ কলার ফর ফলন হয় তাহলে কেউ কলাবাগান কেউ আমবাগান বলতে পারে। সংখ্যার দিক দিয়ে কলাবাগানে টিকে থাকবে। আম এবং কলা কোন টারি ফলন না হলে সেবা গানটি একটি ব্যর্থ বাগান। পতিত জমি হিসেবেই খ্যাত হবে।

ধরা যাক কোন প্রতিষ্ঠানে 10 জন সদস্য। দুইজন খারাপ আট জন ভালো ভালো। সেটি ভালোর দিকেই যাবে। খারাপের দোষ ঐ দুই জনের উপর বর্তাবে। ভালোর সাফল্য ওই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বলে গণ্য হবে। যদি আট জনই খারাপ হয় তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হবে। ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান হবে।।

৩৷ব্যক্তির দায় ও পরিত্যাজ্য ব্যক্তি:

প্রতিষ্ঠান নিয়ম-নীতির বাহিরে যদি ব্যক্তির কাজ হয়। প্রতিষ্ঠান স্বার্থবিরোধী কাজ। ব্যক্তির কার্যবিবরণী বিরোধী কাজ সম্পন্ন করে চলে। যাতে করে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সকল স্টেকহোল্ডার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তখন প্রতিষ্ঠান সে ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং এর দায় ওই ব্যক্তিকে নিতে হবে। শুধু তাই নয় ওই ব্যক্তিকে দায় চাপাতে প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। প্রতিষ্ঠান বিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যক্তি অতি নগণ্য। ব্যক্তি কখনো উপস্থাপিত হয় না। ব্যক্তির কলঙ্কও প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে না। করার কোন বিধান নাই। সুযোগ নাই। উচিত নয়। আর এই ধরনের ব্যক্তিগণ প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিলে প্রতিষ্ঠান ও শক্তিশালী হয় তার সুনাম বৃদ্ধি হয়।এই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করতে চায় তাহলে সেটা ভুল। সেটা হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ। সেটাই প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দায়িত্ব এবং দায় দুটি দু’রকম হবে নিরূপণ করা হয়। দায়িত্ব পালনে অসম্পূর্ণ করা যায়। কিন্তু দায় এসে গেলে পরিপূর্ণ পরিশোধ বা গ্রহণ করে নিতে হয়। একজনের দায় আরেকজনের উপর চাপানো যায় না। একজনের দায় দিয়ে সমষ্টিকে বা প্রতিষ্ঠানকে বিচার করার বিধান পৃথিবীর কোথাও নেই’।যার দায় তাকে হারে হারে উপযুক্ত বিচার করা উচিত।

৪৷ব্যক্তি যখন প্রতিষ্ঠান হয়:

ব্যক্তি যদি ভাল হয়, যোগ্য হয় ,ব্যক্তির সাফল্যে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য আসে। ব্যক্তির সুনাম প্রতিষ্ঠানের সুনামের সাথে একাকার হয়ে যায়। ব্যক্তি নিজেই তখন পরিণত হয় প্রতিষ্ঠানে। ব্যক্তি যদি খারাপ কাজ করে। প্রতিষ্ঠান সমষ্টি যদি ভালো কাজ করে। ব্যক্তির কাজ আড়াল হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি কে ডিঙিয়ে সুনাম অর্জন করে। খারাপ ব্যক্তিটি প্রতিষ্ঠানে নগ্ন হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠান তার সাথে আর যোগাযোগ রাখে না। এভাবে খারাপ ব্যক্তিটি ঝরে পড়ে। তার খেসারত তাকে দিতে হয়।

ধরা যাক করিম একজন পুলিশ সে একজন ব্যক্তি কে দশটি টাকা সাহায্য করে উপকার করল। সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি বলে করিম ভাই খুব ভালো মানুষ আমাকে উপকার করেছে। করিম যখন একজন ব্যক্তি কে উপকার করে তখন বলে পুলিশ আমার খারাপ করেছে। এখানে এই পুলিশ বলতে ব্যাকরণ এর সকল পুলিশ কি বুঝায়। যে ব্যক্তি এই কথা বলেছে তিনি অনেক সময় বুঝতেও পারেন না পুলিশ একবচন না বহুবচন। ব্যক্তিকে বললাম না প্রতিষ্ঠান কে বললাম। এভাবেই অনেকগুলো সমালোচনায় প্রতিষ্ঠান ভুলভাবে এসে পড়ে। আমাদের সেটা সহজ সরল ভাষায় বুঝতে হবে।

৫৷রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ প্রতিষ্ঠান :

তাছাড়াও অন্যান্য সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান মত পুলিশ নয়। পুলিশ প্রতিটি দেশের একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের একটি অবিচ্ছেদ্য গৌরবান্বিত প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর কোনো দেশেই রাষ্ট্রীয় কোন সংস্থাকে ঢালাওভাবে একটি কাজের উপর ভিত্তি করে বিচারবাদ দোষ দেওয়া হয়না। উচিতও না। সুনাগরিক গুণ এদিকে খেয়াল অবশ্যই রাখেন। একটি বা দুটি কাজের উপর ভিত্তি করে কোন রাষ্ট্রীয় সংস্থা কে গুনাগুন বিচার করলে এটি বিধান সম্মত হয় না ওই সংস্থার সমালোচনা করা হয়। আমরা যেন প্রত্যেককেই সেদিকে খেয়াল রাখি। উচিত কাজটি যেন করি। ব্যক্তির বিসর্জন হলে ব্যক্তি দ্বারা পূরণ করা যায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ঐতিহ্য নষ্ট হলে এটি এমন নয় যে আবার নতুন করে শুরু করা যায়। প্রতিষ্ঠান একটি ইতিহাস, একটি অবিচল সৃষ্টি।আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অঙ্গ এবং অংশ। সেটির ন্যূনতম ব্যত্যয় উপলব্ধি করার কোনো সুযোগ নেই। সকলের উচিত এ বিষয়গুলি অনুধাবন করা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: