যাচাই করে দেখিনি তো দাম? কেন আমি পুলিশ হলাম!!!

যাচাই করে দেখিনি তো দাম? কেন আমি পুলিশ হলাম!!!

ইমাউল হক(পিপিএম)::
আমি পুলিশ।বাইস্কোপ দেখাতে পারি না।প্রশিক্ষণে শিক্ষণ আমার ।অভিজ্ঞতা পুঁজি আমার,কৌশল হল যুদ্ধে জেতার সিঁড়ি।আইন আমার চর্চা,সেবাই আমার ধর্ম।
আর এ সময় এ লেখা হয়ত কেউ পড়বে না ।বাজারে লাখ লাখ নামী দামী উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া আছে। কিন্তু পাঠকের দাম লেখা র মাঝে ও শেষে পড়ার মধ্যেই।নগদ পেতে হলে কয় লাইন পড়বেন।নিতান্তই পাঠকের ব্যাপার ।

আর পুলিশ হলে তো ৩৬ বার রিডিং দিবেন: দাম জানতে,ওজন মাপতে,হালে পানি পেতে ।আত্বতৃপ্তি ও গৌরবের দৃষ্টিভঙ্গি তে পলক রাখতে।

রাষ্ট্রের উপাদান সরকার, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ড, জনসমষ্টি। অনেক রাষ্ট্র আছে সরকার ছাড়া, সার্বভৌমত্ব ছাড়া, ভূখণ্ড ছাড়া। কিন্তু মানব ছাড়া কোন রাষ্ট্র নাই, ছিল না, হবে না।

মানবকে তার মত চলতে দিলে চলার লাগাম ধরতেও লাগবে অন্য মানবদের। লাগবে প্রহরী, গাইড। লাগবে বিধির বিধিমালা ধরে রাখার জন্য মানব, মানব সমষ্টি। এভাবেই রাষ্ট্র আবিষ্কার করেছে পুলিশ। পুলিশ সৃষ্টির ইতিহাস সে আরও ৫০০ পাতা বা পুস্তকের,অনেক আইনের বিধানের বর্ননা। নাই বা দিলাম।
মহামারীর ধরাধামে শত শত মানুষ কে খাবার দিয়েছে,বাজার দিয়েছে,ঔষধ দিয়েছে তার হিসাব নেই।কত জনের আত্মীয় যে পুলিশে ঘাড়ে কবর যাত্রা করেছে তার কৃতজ্ঞতা হারে হারে পেয়েছে পুলিশ।

নিজের মাকে জংগলে,বাবাকে বৃষ্টির মধ্যে ,ভাইকে রাস্তায় ফেলে করোনার ভয়ে সানিটাইজার দিয়ে হাত ধৌত করে যার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করেছে সেই তারাই ফেলে যাওয়া আপনজন দের জানাযা করে সংক্রমিত হয়ে আপন জন হারিয়েছে।আসলেই ফুলিশ না হলে পুলিশ এমন করে।বিশ্বের কোন পুলিশ এর ধারে কাছে গেছে কিনা জানা নাই।এটা মানবিকতা না আবেগ না মানব সেবা না দুঃসময়ে জাতির সদস্য রক্ষার অশ্রুবন্যা না ট্রাজেডি তা দেশবাসীই জানে?

পুলিশ সে জনম ইতিহাসের এক প্রতিষ্ঠান। সকল বিভাগই দরকার রাষ্ট্রের সাজ, সৌন্দর্যের জন্য। দ্বিমত নাই। চার ধাপ পার হলেও পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্র ডাকে পুলিশকে।

এটি আমার মতে ৫ম মার্ক লাইন। আমি সে লাইনের একজন অধম মার্কার।for a days even minutes without Discipline . thats need police ইতিহাস তার বাস্তবতা জানান দিয়েছে।

অনেক দিন না খেয়ে, পরিবার অসুস্থ রেখে, ঝড়ে নিজের বাড়ি উড়ে যাওয়ার খবর শুনে, মা বাবার হাসপাতালে ভর্তির খবর শুনে, সন্তানের অসুস্থতায় মাথায় পানি না ঢেলে, স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা কানে নিয়ে

অস্ত্র ধরেছে সন্ত্রাসীর দিকে, বাড়ি পাহারা দিয়েছে ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে, অন্যের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র ধরে দাঁড়িয়ে থেকেছে সারারাত। বিবাহের দিন জামাই সেজে ডিউটি করেছে আরেক জনের বিবাহের নিরাপত্তায়। আত্মীয়ের জানাযার সময় সুরৎহাল করেছে অন্যের ।

নিজের সন্তানকে স্কুলে নেওয়ার সময় অন্যের সন্তানের স্কুলের গেটে নিরাপত্তা ডিউটি। নিজে না খেয়ে অন্যের খাবারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বহু দুপুর, বহু ডিনার, বহু নাসতার সকাল। এমনি কত রাত-দিন সময়।

এখনও বাদীর পক্ষে গেলে আসামি, আসামির পক্ষে গেলে বাদী, রহিমের পক্ষে গেলে করিম, করিমের পক্ষে গেলে রহিম ঘুষের অভিযোগ তোলে।

বন্ধুদের চায়ের বিল দিলে বলে ঘুষের টাকা যত পার দাও ,না দিলে বলে পুলিশ কিপটা। এখনও অন্যের মাতাল ছেলেকে ধরলে ধন্যবাদ আর নিজের মাতাল ছেলেকে ধরলে বলে ভদ্রলোক কে অপমান, চাকরি খেয়ে নেব। না হলে থানা ঘেরাও স্মারক লিপি ৩৬ জায়গাতে অভিযোগের কপি, তিনবেলা সাংবাদিক সম্মেলন।

এমনি করে প্রতিদিন বাজারে নিজের দাম যাচাইয়ের মধ্যে ৩৬ বছর কেটে যায় ।কালের পক্ষে হাততালি অকালের বিপাকে পড়লে নানান সমালোচনা।বাদীর মামলা চার্জসিট দিলে মানবিক পুলিশ। ফাইনাল দিলে আসামী র সাথে আঁতাতের অভিযোগ। এভাবেই কিছু অবিচারে কিছু সাজানো ফাঁদে ক্লোজ, সাসপেন্ড, বদলি।
সত্য পরে যাচাই হয়। ঠিক হলে তো সবার কাছেই ঠিক। না হলে তো সেটাই ঠিক।

এখনও সেবার মানের পরীক্ষা দিতে হয় ।ছত্রিশ বছর চাকরি করে ঘুষখোর এর কলংক নিয়ে বাড়ী যেতে হয়। অবসরে ছেলের ধান বিক্রির টাকা দিয়ে স্বাক্ষী দিতে হয়।কর্মের সাথী দের পাওয়ার ভাগ্য হয় না শেষ যাত্রায়।

খারাপ তো সবাই না। তাহলে তো কোনদিন উপন্যাস শেষ হত না। নাটক, গান সময় মত শেষ হত না। পৃথিবীর ঘোড়াঘুড়ি চলতো না। কিছু খারাপ তো সব খানেই, এখানেও আছে।ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান কোন দিনই বহন করে না।বরং প্রতিষ্ঠান খারাপ দের বিচ্ছিন্ন করে দেয় ,বিচার করে ,বিচার চায় ।শাহেনশা প্রধান শিক্ষক হলেও বরাবর শাহেনশা না লিখে বরাবর প্রধান শিক্ষক ই লেখা হয় আবেদন পত্রে।ব্যক্তির ঘুম যেমন প্রতিষ্ঠানের নীরবতা নয় ।তেমনি ব্যক্তির লাফালাফির খেসারত কোন প্রতিষ্ঠান দেয় নাই ,দেয় না দিবে না।পান থেকে চুন খসলে দামাদামি শুরু হয় ।নষ্ট ,ভষ্ঠ আবর্জনাদের দামে সবাই কে মুল্যমান করা হয়।যা মোটেও ঠিক না।অপরাধী র ব্যক্তি সত্তার বিচার জরুরী।

“দুষ্টের দমন শিষ্ঠের পালন “”বাংলাদেশ পুলিশ এ ধারার মাধ্যমে গৌরবের উচ্চ সিঁড়িতে।আমিও সে সিঁড়ি র যাত্রী। অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের গৌরব ও অর্জনে সকল পুলিশের অর্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: