বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে উৎসবের মেজাজে মাছ ধরছে কক্সবাজারের অর্ধলক্ষাধিক জেলে

  • সময় শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার উপকুল থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে চোখ রাখলেই চোখে পড়ে অগুণিত ট্রলারের সারি। কোনটি যাচ্ছে, কোনটি আসছে, আর কোনটি মাছ ধরছে সাগরে। রাতের বেলায় ওসব ট্রলারের মাছধরা দৃশ্য দেখে মনে হয়, সাগরে বুঝি একটি গ্রাম আছে; সেই গ্রামে চেরাগ জ্বালিয়ে পড়ালেখা করছে শিশুরা! এসব মন্তব্য কক্সবাজারে বেড়াতে আসা বেশ কয়েকজন পর্যটকের।
শুক্রবার রাতে কলাতলী সৈকতে বসে এই মন্তব্য করেন ঢাকার পর্যটক শফিকুর রহমান, আসিফ কামাল, কামরুল হাসান, রফিকুল আলম, জাফর কবীর ও আহসান কবীর। তারা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র। তাদের মনে ‘দাগকাটা’ কক্সবাজারের স্মরণীয় দৃশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা এমন মন্তব্য করেন।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানালেন, কক্সবাজারে ছোটবড় প্রায় ৭ হাজার মাছধরা বোট রয়েছে। এসব ট্রলারের অর্ধলক্ষাধিক জেলে এখন সাগরে আসা-যাওয়া করছে। কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরে এখন যেন উৎসবের মেজাজে মাছ ধরছে জেলেরা।
তবে কক্সবাজারে ধরা পড়া মাছের মধ্যে মাত্র ২৫% ইলিশ, আর বাকীগুলো ‘পাঁচকাড়া’ (প্রধানত: ৫ প্রকারের মাছ) বলে জানান কক্সবাজার শহরের বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপ কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) এর আওতাধীন কক্সবাজার শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
তিনি শুক্রবার রাতে দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারীঘাটে শুক্রবারও ৭০ মেট্রিক টনের কাছাকাছি মাছ এসেছে। তবে ইলিশ কম আসায় রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে। কারণ ইলিশের চেয়ে অন্যমাছের ট্যাক্স কম।তিনি জানান, পক্ষকালে আগে সামুদ্রিক আবহাওয়ার উপর যে দূর্যোগ বয়ে গেছে, এরপর থেকেই সাগরে ইলিশ কমে গেছে।
জেলা বোট মালিক সমিতি জানায়, সাগরে মাছধরা বড় নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ জন এবং ছোট নৌকায় ৫ থেকে ১৭ জন জেলে থাকে। আবার কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর ঘাটের ইঞ্জিনবিহীন ককশিটের বোটে থাকে মাত্র ২ জন জেলে। ট্রলারগুলোর মধ্যে ইলিশ জালের বোটগুলো গভীর বঙ্গোপসাগরে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরে। ইলিশ জালের বোটগুলো পক্ষকালের রসদ নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গেলেও মাছ পাওয়া সাপেক্ষে ৩/৪ দিনের মধ্যেও ফিরে আসে। তবে বিহিন্দি জালের বোটগুলো মাত্র একদিনের রসদ নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায় এবং দিনেদিনেই ফিরে আসে। আর এসব জেলে বোটগুলো সাগর উপকূলে ছোট প্রজাতির মাছ ধরে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘পাঁচকাড়া’ (পাঁচ প্রকারের) মাছ বলা হয়।
কক্সবাজার শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ছাড়াও শহরের কলাতলী ও দরিয়ানগর ঘাট এবং জেলার অন্যান্য উপকুলীয় ঘাট থেকেও সাগরে নিয়মিত আসা-যাওয়া করছে মাছধরা বোটগুলো। তবে সব ঘাটেই ইলিশের একইচিত্র। সাগরে এখন ইলিশ কম ধরা পড়ায় গভীর সাগরে বিচরণরত ইলিশ জালের ট্রলারগুলো এখন আর্থিকভাবে লোকসানে পড়ছে বলে জানান ট্রলার মালিক দেলোয়ার হোসেন। সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান জানান, সাগরের আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে উপকুলে মাছের বিচরণ হেরফের হতে পারে। এছাড়া কয়েকদিন খুব গরম পড়ছে এবং সাধারণত: গরমের সময় ইলিশ ধরা পড়ার হার কম হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: