বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

আহত ইউএনওঃ চুরি, নাকি দেশ অস্থিতিশীল করার প্রয়াস?

  • সময় শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৮৪ বার পড়া হয়েছে

সম্পাদকীয়ঃ

করোনাকালেও দেশে অপরাধের মাত্রা কমেনি, তার আরেকটি বড় প্রমাণ মিলেছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে ঢুকে দুর্বৃত্তরা প্রথমে নিরাপত্তা প্রহরীকে আটকে রাখে। এরপর তারা বাসভবনের ভেন্টিলেটর কেটে ওয়াহিদা খানমের শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ে।

দুর্বৃত্তরা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে মাথার খুলির হাড় ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। মস্তিষ্কের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। মেয়েকে বাঁচানোর জন্য তার বাবা এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করে দুর্বৃত্তরা।

ওয়াহিদা খানমকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রথমে নেয়া হয় রংপুরে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে রাত ৯টায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘোড়াঘাটের আলোচ্য ঘটনাটি মোটেও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। সরকারি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এভাবে সরকারি বাসভবনে ঢুকে হত্যার চেষ্টা ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনসহ সমগ্র দেশবাসীকে। ঘটনাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকেও নির্দেশ করছে একইসঙ্গে।

ঘটনার মোটিভ এখনও জানা যায়নি, তবে এটি যে ডাকাতির চেষ্টা নয় তা প্রাথমিকভাবে অনুমান করা যায়, কারণ বাসভবনের কোনোকিছুই নিয়ে যায়নি দুর্বৃত্তরা। তবে ওয়াহিদা খানম তার ক্ষমতাবলে এলাকার অনেক অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে তার শত্রু সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা যেতে পারে।

বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। এদের একজনের মুখে ছিল মুখোশ, অন্যজনের পিপিই। এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

বলা হচ্ছে, এদের একজন প্রধান আসামি, অন্যজন সন্দেহভাজন। আমরা মনে করি, খুব দ্রুতই হত্যার মোটিভ জানা যাবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া দুই ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ এ ঘটনায় যুক্ত কিনা, সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে তাও বোঝা যাবে নিশ্চয়ই। আমরা চাইব, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। ঘোড়াঘাটের ঘটনার পর ইউএনওদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথম দফায় রংপুর বিভাগের সব ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। কথা হচ্ছে, ইউএনওদের সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিশ্চয়ই ভালো খবর; কিন্তু সমগ্র দেশবাসীর নিরাপত্তা বিধান করবে কে?

দেশের সিংহভাগ মানুষই তো অরক্ষিত। বস্তুত, আইনশৃঙ্খলার সার্বিক অবস্থার উন্নতি করা না গেলে কিছু স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করে অপরাধ ঠেকানো যাবে না। দেশে জঙ্গিবাদসহ নানা ধরনের অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে। এদের অপতৎপরতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তাও এক বড় প্রশ্ন। করোনাকালে রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে কোথাও কোনো ধরনের অপশক্তি ক্রিয়াশীল রয়েছে কিনা, খুঁজে দেখা দরকার। ঘোড়াঘাটের ঘটনাটি আমাদের সেই তাগিদই দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: