বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

রাজনীতি এখন দুর্বৃত্তায়নের প‌থে! সন্দিগ্ধ যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদস্য

  • সময় শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

সম্পাদকীয়ঃ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় অবাক হতে হয়। গণমাধ্যম খবরের পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এটা ছিল হত্যার চেষ্টা। এমন বর্বর ঘটনার জন্য নিন্দা জানাই। একজন ইউএনওর বাসায় ঢুকে নৃশংস এ ধরনের হামলার ঘটনা বিরল হলেও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হয় অহরহ। গত চার মাসে অন্তত ১০ জন সরকারি কর্মকর্তা মারধর ও হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এমন ঘটনা বাড়ছে বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। জানা গেছে, গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম (৩৫) ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের (৬০) ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা রাতের আঁধারে সরকারি বাসভবনের পেছনের বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢুকে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তাদের মারাত্মক জখম করে। তাদের সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন। ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে তাদের রক্তাক্ত করা হয়। ইউএনও ওয়াহিদার মাথার খুলির হাড় ভেঙে ভেতরে মস্তিষ্কে ঢুকে গেছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলায় কমপক্ষে দুজনের অংশ নেয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইউএনওর বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, হামলায় অংশ নেয় দুজন। এদের মধ্যে একজনের মুখে কাপড় বাঁধা এবং অন্যজন পিপিই পরা ছিল। রাতে তারা এক এক করে ইউএনওর বাসভবনে প্রবেশ করে এবং ঘটনার পর একই সঙ্গে বের হয়ে যায়। সরকারি বাসভবনে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় নানা বিষয় সামনে আসছে। কী কারণে কারা ইউএনওর ওপর হামলা করেছে- তা খুঁজতে পুলিশ-র‌্যাবসহ একাধিক সংস্থা তদন্তে নেমেছে। পূর্বশত্রুতা, কারো সঙ্গে বিরোধ, ব্যক্তিগত ইস্যু, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র, চুরি-ডাকাতি নাকি অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে- তা বের করতে নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের চেহারা শনাক্ত করারও কাজ চলছে। এই নৃশংস হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন দু’জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারাই এ ঘটনায় জড়িত বলে মনে করছে প্রশাসন। জাহাঙ্গীর ও আসাদুল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদস্য। তারা মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস চাঁদাবাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে স্বয়ং স্থানীয় এমপিরও ভাষ্য। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা জরুরি। দুর্বৃত্তরা ছাড় পেয়ে গেলে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সরকারি কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে। তারা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় সামনে আসছে। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: